হোম > শিক্ষা > ক্যাম্পাস

জুলাইকে ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে

সাক্ষাৎকার : জবি উপাচার্য

প্রতিনিধি, জবি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, নতুন হল নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতিসহ সার্বিক পরিকল্পনা বিষয়ে কথা বলেছেন আমার দেশ-এর সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমার দেশ-এর জবি প্রতিনিধি লিমন ইসলাম

নতুন দায়িত্বে কেমন লাগছে জানতে চাইলে উপাচার্য আমার দেশকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি ২৭ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করার পর থেকে সব বিভাগের চেয়ারম্যান, ডিন ও দপ্তর প্রধানদের সঙ্গে বসেছি। সবার মধ্যেই আমি একধরনের ইতিবাচক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা দেখেছি। সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার বিষয়ে খুবই আন্তরিক এবং আমাকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা সম্মিলিতভাবেই একটি আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।

নতুন পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার প্রথম লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক স্থবিরতা কাটিয়ে সেশনজট নিরসন ও আবাসন সমস্যা সমাধান করে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আওয়ামীপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তা যারা বিতর্কিত বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিষয়ে পদক্ষেপ বা মেসেজ সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনীতির আখড়া হবে না। যারা অতীতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বা কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমার মেসেজ পরিষ্কার, এখানে মেধা ও নিয়মের মূল্যায়ন হবে। কাউকে অন্যায়ভাবে ছাড় দেওয়া হবে না, আবার নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়—সেদিকেও আমার কড়া নজর থাকবে। কেননা, একেকজন একেক আদর্শকে ধারণ করতেই পারেন; কিন্তু যে অন্যায় করেছে, অবশ্যই তাকে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হবে।

শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধরন সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, আমরা একটি আমূল পরিবর্তন আনছি। এখন থেকে শুধু ভাইভা দিয়ে শিক্ষক হওয়া যাবে না। আমরা একটি সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করব। প্রথমত, প্রার্থীদের একটি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দিতে হবে। সেখান থেকে বাছাইকৃতদের লিখিত পরীক্ষা দিতে হবে। এরপর তাদের ডেমো ক্লাস নিতে হবে, যেখানে দেখা হবে তারা শিক্ষার্থীদের কতটুকু বোঝাতে পারছেন। সবশেষে হবে ভাইভা। এই চারটি ধাপ যারা সফলভাবে পার করতে পারবেন, তারাই কেবল শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাবেনে। এখানে কোনো সুপারিশ বা দলীয়করণের সুযোগ থাকবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হল উদ্ধার ও নির্মাণাধীন হল নিয়ে অবস্থান এবং খালেদা জিয়ার নামে একটি ছাত্রী হলের নামকরণের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলেন, আবাসন সংকট প্রধান সমস্যা। আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে হলগুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছি। আর নির্মাণাধীন হলগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমি ঢাকা-৭ আসনের এমপি হামিদুর রহমান হামিদকে অবহিত করেছি। তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নামে ছাত্রী হলের নামকরণের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট সবার আবেগের সঙ্গে জড়িত। কারণ, তিনি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা। সেটি আমরা একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। ছাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত আসনের ব্যবস্থা করা আমার অন্যতম লক্ষ্য।

দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের উন্নয়নকাজ ত্বরান্বিত করতে আমরা সেনাবাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। এ প্রকল্পের কাজ যাতে কোনোভাবেই ধীরগতির না হয়, সেজন্য আমি সরাসরি তদারকি করছি। এটি মন্ত্রণালয়-ইউজিসি এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক হবে।

জুলাইকে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারণ করা হবে জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, জুলাইকে তো ধারণ করতেই হবে। কারণ, জুলাই ব্যতিরেকে আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী যে মানসিকতা, সেটা কখনই টিকবে না। যথাযথ মর্যাদায় জুলাই উদযাপন আমরা প্রতিবারই করব। আর এরচেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো, জুলাইযোদ্ধাদের স্মরণ করেই তো আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করেছি। সব ক্ষেত্রেই এটা আমরা ধারণ করার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।

ববি হাজ্জাজের মন্তব্য ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’, প্রত্যাহারের দাবি ঢাবি সাদা দলের

ঈদের ছুটিতে জবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিং

ঢাকায় অবস্থানরত দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে জকসুর ঈদ উপহার

ঢাকা কলেজে শিবিরের ‘ঈদ-ই-ইখওয়ান’ মধ্যাহ্নভোজ

শিক্ষার্থীদের জন্য ৬ খাসি দিয়ে রাবিতে কোরবানির আয়োজন

ঈদুল আজহায় রাবি শিবিরের ‘নুসুক-ই মতিহার’

ঈদুল আজহায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের ‘মেজবান-ই-ঈদ’

বিশ্বখ্যাত ‘ন্যাচার ইনডেক্সে’ ১৫তম অবস্থানে রুয়েট

চীন সফরে নেই জকসুর কেউ, ক্ষুব্ধ ছাত্রনেতারা

দক্ষিণাঞ্চলের শেষ ভরসা খুমেক নিজেই সংকটে