লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করে আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রা এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, মানুষের জীবন অত্যন্ত মূল্যবান। কোনো পরিস্থিতিতেই জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত নয়।
সম্প্রতি লিবিয়ার মিসরাতা শহরে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এ তথ্য জানিয়েছে।
দূতাবাস জানায়, মিসরাতায় বিভিন্ন পেশায় কর্মরত তিন শতাধিক বাংলাদেশি ওই সভায় অংশ নেন। সভায় রাষ্ট্রদূত বলেন, লিবিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে সুনাম অর্জন করেছেন। এই সুনাম ও দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে তিনি সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত স্থানীয় জনগণ ও নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের একজন প্রতিনিধি এবং অনানুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন করেন।
প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। স্থানীয় কোনো বিষয়ে আবেগতাড়িত হয়ে মন্তব্য করা বা তথ্য শেয়ার করার কারণে যাতে কেউ অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কিংবা বিপদের মুখে না পড়েন, সেদিকে সতর্ক থাকতে বলেন।
রাষ্ট্রদূত জানান, স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাস লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে মানবপাচারকারী চক্রের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সহযোগিতার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আরও বেশি অবদান রাখতে নিয়মিত বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠানোর জন্যও তিনি প্রবাসীদের উৎসাহিত করেন।
মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের বিভিন্ন মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের প্রশ্ন, সমস্যা ও পরামর্শের বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, লিবিয়ায় অবস্থানরত সব বাংলাদেশি নাগরিকের জন্য কনস্যুলার ও কল্যাণমূলক সেবা নিশ্চিত করতে এবং এসব সেবা তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানেও দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখছে।
সভায় অংশ নেওয়া প্রবাসীরা দূতাবাসের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং তাদের কল্যাণে চলমান কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন।