জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা শামস সুমনকে ঘিরে স্মৃতি, ভালোবাসা আর বেদনার মিশেলে এক অনন্য আবহ তৈরি হয়েছিল রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে। প্রিয় সহকর্মীর অকাল প্রয়াণকে মেনে নিতে না পারা শিল্পীরা যেন সেই সন্ধ্যায় একত্রিত হয়েছিলেন তাকে নতুন করে ফিরে পেতে—কথায়, স্মৃতিতে, আর আবেগে। অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ স্মরণসভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানটি ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক আবেগঘন মিলনমেলায়।
প্রবীণ থেকে নবীন—সব প্রজন্মের শিল্পীর উপস্থিতি প্রমাণ করে, শামস সুমন শুধু একজন অভিনেতা ছিলেন না; ছিলেন এক মানবিক সত্তা, সহযোদ্ধা এবং প্রিয় সহকর্মী। সন্ধ্যা জুড়ে একে একে স্মৃতিচারণ করেন দেশের বরেণ্য অভিনয়শিল্পীরা।
কিংবদন্তী অভিনেতা মামুনুর রশিদ থেকে শুরু করে খায়রুল আনাম সবুজ, আমীরুল হক চৌধুরী, আবদুল আজিজ, চিত্রলেখা গুহ, আজাদ আবুল কালাম, তৌকীর আহমেদ, আফসানা মিমি, আজিজুল হাকিম, আরমান পারভেজ মুরাদ, রওনক হাসান, নাসিম, দীপা খন্দকার, রাশেদ মামুন অপু ও শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।
তাদের প্রত্যেকের কণ্ঠে ভেসে ওঠে শামস সুমনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত স্মৃতি এবং তার সঙ্গে কাটানো সময়ের অনন্য মুহূর্তগুলো। শিল্পীদের বক্তব্যে বারবার উঠে আসে শামস সুমনের অভিনয়গুণ, কাজের প্রতি নিষ্ঠা এবং সহকর্মীদের প্রতি তার গভীর আন্তরিকতা। কেউ স্মরণ করেন তার নিখুঁত অভিনয়শৈলী, কেউবা তার সহজ-সরল জীবনযাপন, আবার কেউ তার নিরহংকার ব্যক্তিত্বের কথা। যেন প্রত্যেক স্মৃতির ভেতরেই একেকটি আলাদা শামস সুমন—তবু সব মিলিয়ে একজনই মানুষ, যিনি ছিলেন গভীরভাবে মানবিক। হলভর্তি দর্শকও এই স্মৃতিচারণে আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন।
শিল্পীদের কথার ভেতর দিয়ে তারা যেন নতুন করে আবিষ্কার করেন এই অভিনেতাকে—যাকে হয়তো পর্দায় দেখেছেন বহুবার, কিন্তু মানুষ হিসেবে এতটা গভীরভাবে চিনতেন না। পুরো আয়োজনজুড়েই ছিল এক ধরনের নীরব আবেগ, যা উপস্থিত সবার মন ছুঁয়ে যায়। উল্লেখ্য, দীর্ঘ অভিনয় ক্যারিয়ারে মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—তিন মাধ্যমেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গত ১৭ মার্চ অকাল প্রয়াত হন শামস সুমন। তার এই হঠাৎ চলে যাওয়া দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলে। সেই শোককে স্মৃতিতে রূপ দিতেই সহকর্মীরা আয়োজন করেন এই বিশেষ অনুষ্ঠান—যেখানে অনুপস্থিত থেকেও সবচেয়ে বেশি উপস্থিত ছিলেন তিনি নিজেই।
প্রসঙ্গত, শামস সুমন ছিলেন বাংলাদেশের একজন গুণী অভিনয়শিল্পী, যিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে সমান দক্ষতায় কাজ করে দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন। অভিনয়ের প্রতি তার নিবেদন এবং চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করার ক্ষমতা তাকে এনে দেয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ নানা সম্মাননা। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য, আন্তরিক এবং বিনয়ী মানুষ—যার অনুপস্থিতি দীর্ঘদিন অনুভূত হবে বাংলা নাটক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে।