হোম > ফিচার > এক্কাদোক্কা

রহস্যে ঘেরা ইস্টার দ্বীপ

মোহাম্মদ সাফির সাফিউন

রহস্যে ঘেরা ত্রিভুজাকৃতির আগ্নেয় শিলা দিয়ে গঠিত একটি দ্বীপের নাম ইস্টার দ্বীপ। দ্বীপটি দক্ষিণ আমেরিকার চিলি উপকূল থেকে প্রায় ২ হাজার ৩০০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত। এর আয়তন প্রায় ৬৪ বর্গমাইল। এখানে সারা বছরই উষ্ণ আবহাওয়া বিরাজ করে। দ্বীপের মাটিতে ঘাস, আলু, আখ ও টারো নামে এক ধরনের শিকড়জাতীয় উদ্ভিদ জন্মায়। দ্বীপে অবস্থিত মৃত আগ্নেয়গিরিটির নাম রানো রারাকু।

ইস্টার দ্বীপের রহস্যময় ইতিহাস শুরু হয় একটি অভিযানের মাধ্যমে। একদল ওলন্দাজ অভিযাত্রী প্রশান্ত মহাসাগরে ভাসতে ভাসতে হঠাৎ এমন একটি দ্বীপে এসে পৌঁছায়, যার চারপাশজুড়ে ছড়িয়ে ছিল অসংখ্য দানবাকৃতির পাথরের মূর্তি। মূর্তিগুলো সমুদ্রের দিকে মুখ করে দাঁড় করানো ছিল। দ্বীপবাসীদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা জানায়, এই মূর্তিগুলো কারা তৈরি করেছে, তা তারা জানে না। তবে তারা এসব মূর্তিকে দেবতা হিসেবে পূজা করে।

অভিযাত্রী দলের ক্যাপ্টেন অ্যাডমিরাল জ্যাকব রগেভিন তার ডায়েরিতে লেখেন, বিশাল আকৃতির মূর্তিগুলো পাথর কেটে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—দ্বীপবাসীরা কীভাবে এত বড় পাথর কেটেছে? আর সেই পাথরগুলো কোথা থেকে কীভাবে এনে ব্যবহার করেছে? এ বিষয়ে দ্বীপবাসীদের কাছেও কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইস্টার দ্বীপের কথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার পর এটি নিয়ে ব্যাপক গবেষণা শুরু হয়। বিশ্ববিখ্যাত গবেষক থর হেয়ারডাল দীর্ঘ গবেষণার পর জানান, ৩৮০ খ্রিষ্টাব্দে পেরু থেকে কিছু মানুষ এসে এই দ্বীপে বসবাস শুরু করে। তারা সেখানে রাস্তা, মন্দির, মানমন্দির ও সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ করেছিল। পরে ১২৮০ খ্রিষ্টাব্দে পেরু থেকেই অন্য এক জাতিগোষ্ঠীর মানুষ এসে দ্বীপটি দখল করে নেয়। ধারণা করা হয়, তারাই এই বিশাল মূর্তিগুলো তৈরি করেছিল। মূর্তিগুলোর কান লম্বা, কারণ পেরুর মানুষের মধ্যে ভারী দুল পরে কান লম্বা করার রীতি প্রচলিত ছিল।

এর প্রায় ৪০০ বছর পর, অর্থাৎ ১৬৮০ সালে এশিয়ার দিক থেকে আগত পলিনেশীয়রা দ্বীপটি অধিকার করে। তাদের আগমনের পর ধীরে ধীরে মূর্তি তৈরির প্রচলন বন্ধ হয়ে যায়।

ইস্টার দ্বীপের মূর্তিগুলোর উচ্চতা সাধারণত তিন থেকে ৩৬ ফুট পর্যন্ত। প্রতিটি মূর্তির ওজন গড়ে প্রায় ২০ টন। এ পর্যন্ত এ ধরনের এক হাজারেরও বেশি মূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে। এছাড়া পাথরে তৈরি প্রায় ৮০০টি মস্তক পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বড় মস্তকটির উচ্চতা প্রায় ৩২ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৮৫ থেকে ৯০ টন।

ধারণা করা হয়, মূর্তিগুলো তৈরিতে ব্যবহৃত পাথরগুলো গাছের কাণ্ড দিয়ে তৈরি স্লেজগাড়ির মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে আনা হয়েছিল। তবে ঊনবিংশ শতাব্দীতে অধিকাংশ মূর্তি মাটিতে পড়ে যায়।

বর্তমানে ইস্টার দ্বীপ জাতিসংঘের World Heritage Site হিসেবে স্বীকৃত। এখনো এই দ্বীপ ঘিরে বিস্তর গবেষণা চলছে। আশা করা যায়, খুব শিগগিরই ইস্টার দ্বীপের দীর্ঘদিনের রহস্য উন্মোচিত হবে।

পাহাড়ি জনপদে শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে মোহিনী সৃজনশীল পাঠাগার

ইঁদুরের প্রতিশোধ

দাদুর কাছে লেখা বাবার চিঠি

ভাষার মাসের গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

বাঘ নয় সিংহ নয় ওরা লাইগার

বইয়ের পাতার গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের শিশুরা মহাকাশে

চাকা এলো কেমন করে

সারার গোপন স্কুল

আমাদের শিক্ষাসফর