হোম > ফিচার > এক্কাদোক্কা

বলপয়েন্ট কলমের নানা কথা

এনায়েত রসুল

আমরা ‘বলপেন’ বলে যে কলমকে চিনি, তার প্রকৃত নাম বলপয়েন্ট পেন (Ballpoint pen)। আজকাল যে মানের বলপেন ব্যবহার করছি, সেই পর্যায়ে আসতে কলমটিকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। এই কলমের যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৮৮৮ সালে। সে সময় জন লাউড নামে আমেরিকার এক চামড়া ব্যবসায়ী প্রথম এক ধরনের বলপয়েন্ট কলম উদ্ভাবন করে নিজের নামে আবিষ্কারের স্বীকৃতি বা পেটেন্ট নেন। সেই কলমের একটি ছোট খোপে তরল কালি রাখা হতো। সেখান থেকে কালি কলমের মাথায় নেমে আসত। মাথায় লাগানো ছিল রোলার বলের টিপ। সেটি কালির সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করত। দুঃখের বিষয় হলো, আবিষ্কারের পেটেন্ট নিলেও জন লাউড কখনো তার কলমের উৎপাদনে যাননি।

জন লাউডের পরবর্তী ৩০ বছরে বিভিন্ন দেশের আবিষ্কারকরা আরো ৩৫০টি বলপয়েন্ট কলমের পেটেন্ট নেন। কিন্তু তাদের কলমগুলো খুব একটা কার্যকর ছিল না। প্রতিটি কলমের ক্ষেত্রেই প্রধান সমস্যা হয়ে দেখা দিত কালি। কারণ, কালি বেশি তরল হলে বলের ফাঁক দিয়ে তা চুইয়ে বেরিয়ে আসত। আবার কালি ঘন হলে লেখার সময় প্রয়োজনীয় পরিমাণে কালি নেমে আসত না। আবহাওয়ার তারতম্যের কারণেও কালির ঘনত্ব বেড়ে বা কমে যেত। তাই সেসব কলম কখনো ব্যাপকভাবে উৎপাদিত হয়নি।

হাঙ্গেরিতে ল্যাজলো বিরো ও জর্জ নামে দুই ভাই ছিলেন। ১৯৩৫ সালে তারা সত্যিকার অর্থে একটি উন্নতমানের বলপয়েন্ট কলম আবিষ্কার করেন। এর কিছুদিন পর দুই ভাই সমুদ্রসৈকতে অবসর কাটাতে যান। সঙ্গে নিয়ে যান তাদের আবিষ্কৃত কলম। সেখানে তাদের সঙ্গে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট অগাস্টিন জাস্টোর পরিচয় হয়। বলপয়েন্ট কলম দেখে জাস্টো চমৎকৃত হন। তিনি দুই ভাইকে আর্জেন্টিনায় এই কলম উৎপাদনের কারখানা প্রতিষ্ঠার আমন্ত্রণ জানান। ১৯৪৩ সালে তারা আর্জেন্টিনায় বিশ্বের প্রথম বলপয়েন্ট কলমের কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তাদের আবিষ্কৃত কলমে কিছু ত্রুটি দেখা দেয়। এ কারণে বিরো ভাইদের বলপয়েন্ট কলম খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি।

বলপয়েন্ট কলমের সত্যিকারের সফলতা আসে আমেরিকায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আর্জেন্টিনায় কাজ করা পাইলটরা বিরো ভাইদের কলমের প্রতি আকৃষ্ট হন। তারা অনুভব করেন, এই কলম দিয়ে ফাউন্টেন পেনের চেয়ে দ্রুত লেখা যায়। বিমান অত্যধিক উচ্চতায় উঠলে বাতাসের চাপে ফাউন্টেন পেনের কালি বাইরে বেরিয়ে আসে। কিন্তু বলপয়েন্ট কলমে তা হয় না। তাই পাইলটদের জন্য বলপয়েন্ট কলম ছিল সবচেয়ে উপযোগী। তবে এই কলমের কিছু সমস্যা ছিল, যা সংশোধন করা প্রয়োজন।

এ সময় আমেরিকার এবারহার্ড ফ্যাবার কোম্পানি নামে একটি প্রতিষ্ঠান পাঁচ লাখ ডলার দিয়ে বিরো ভাইদের কাছ থেকে বলপয়েন্ট কলম উৎপাদনের স্বত্ব কিনে নেয়। এরপর এভারশার্প কোম্পানি ফ্যাবার কোম্পানির কাছ থেকে এই স্বত্ব কিনে নেয়। কিন্তু তখনো সত্যিকার অর্থে চমৎকার একটি বলপয়েন্ট কলম উদ্ভাবন করা সম্ভব হয়নি।

শিকাগোর অধিবাসী নাবিক মিল্টন রেনল্ডস আর্জেন্টিনা থেকে বিরো ভাইদের তৈরি কয়েক ধরনের বলপয়েন্ট কলম আমেরিকায় নিয়ে আসেন। তিনি এই কলমের উৎপাদন ও উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেন। এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির প্রচেষ্টায় সব দিক দিয়ে ত্রুটিমুক্ত একটি কলম প্রথম বাজারে আসে ১৯৪৫ সালে। সে বছরের অক্টোবর মাসের এক সকালে নিউ ইয়র্কের জিফেলস ডিপার্টমেন্ট স্টোরে একটি কলম প্রথম সাড়ে ১২ ডলারে বিক্রি হয়। প্রথম দিনই ১০ হাজার বলপয়েন্ট কলম বিক্রি হয়েছিল।

প্রজাপতি পা দিয়ে স্বাদ নেয়

এশিয়ার সুন্দরতম দেশ ভিয়েতনাম

বায়েজিদ বোস্তামি ও ভণ্ড দরবেশ

ঘুম ভাঙানো পিউ কাহা

শাপলা ভরা বিল

পদ্মাপাড়ে আনন্দভ্রমণ

রাফি হলো সমাজসেবী

রঙিন পাখি ম্যাকাও

‘ছোটদের আনন্দবার্ষিকী রংপেনসিল’ শিশুসাহিত্যে নতুন সংযোজন

মেরু ভালুক সাদা নয়!