হোম > ফিচার > এক্কাদোক্কা

বরফের দেশের পাখি ‘পেঙ্গুইন’

মোহাম্মদ সাফির সাফিউন

দক্ষিণ মেরু বা অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের পুরোটাই বরফে ঢাকা। কোথাও কোথাও বরফের স্তর দুই মাইলের মতো পুরু হয়। বরফের এ এলাকায় প্রাণ ধারণের উপযোগী তেমন পরিবেশ না থাকা সত্ত্বেও কিছু প্রাণী বাস করে। আর এখানকার সবচেয়ে পরিচিত প্রাণী হলো পেঙ্গুইন পাখি (Penguin)। এরা খুবই ঠান্ডা আবহাওয়া পছন্দ করে। তাই বিষুব রেখার দক্ষিণ গোলার্ধে অগণিত পেঙ্গুইন বাস করে। এদের বেশিরভাগই বাসা বাঁধে এবং ডিম পাড়ে দক্ষিণ মেরুতে। অ্যান্টার্কটিকায় অন্তত সতেরো প্রজাতির পেঙ্গুইন রয়েছে। আকার, প্রকার এবং রঙের তারতম্যের কারণে এদের পার্থক্য সহজেই বোঝা যায়।

পেঙ্গুইন পাখি প্রজাতির প্রাণী হলেও এদের ওড়ার ক্ষমতা নেই। হাঁস, পানকৌড়ি, জললিপির মতো জলচর পাখিদের মধ্যে সবচেয়ে তুখোড় এবং সাঁতারু জলচর পাখি হচ্ছে পেঙ্গুইন। ডুব সাঁতারে এরা সিলদের মতোই দ্রুতগতিতে চলতে পারে। হাঁসের মতো এদের পায়ের আঙুলগুলো নরম, পাতলা চামড়া দিয়ে একটার সঙ্গে অন্যটা জোরা লাগানো। ডানা দুটোতে কোনো পালক নেই। বলা যায়, পালকগুলো পরস্পর জুড়ে গিয়ে মাছের মতো পাখনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে লাখ লাখ বছর আগে এরা উড়তে পারত বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। বছরের পর বছর ধরে এরা পানির ধারে কাটিয়েছে। ছোট ছোট জলজ প্রাণী ধরার জন্য সাঁতার কেটেছে—ওড়ার খুব একটা দরকার হয়নি। তাই ধীরে ধীরে ডানা ব্যবহারের ক্ষমতা হারিয়ে এরা মাছের মতো সাঁতার কাটতে শিখেছে। ডাঙায় এরা খাড়া হয়ে হাঁটতে পারে। পেঙ্গুইনরা সবকিছুই খায়। তবে এদের প্রধান খাদ্য মাছ।

সবচেয়ে বড় আকারের পেঙ্গুইন হচ্ছে কিং প্রজাতির পেঙ্গুইন। কিং পেঙ্গুইন যখন সোজা হয়ে দাঁড়ায় তখন এর দৈহিক উচ্চতা হয় চার ফুট, ওজন ষাট থেকে নব্বই পাউন্ড। পিঠের রং কুচকুচে কালো, বুক পেট ধবধবে সাদা। রাজা পেঙ্গুইন উচ্চতায় হয় তিন ফুট। রাজা পেঙ্গুইন ডিম পাড়ে একটি করে। অন্য প্রজাতিরগুলো পাড়ে দুটো করে। রাজা ডিম রাখে নিজেদের চওড়া পায়ের পাতার ওপর। ওখানে রেখেই ডিমে তা দেয়। আরেক ধরনের পেঙ্গুইন আছে যাদের নাম ক্লাউন। দক্ষিণ মেরুর উত্তরের দ্বীপগুলোতে এদের বাস। উচ্চতায় দুই ফুট এবং এদের মাথার চাঁদিতে পাতলা চকচকে কালো পালক রয়েছে। মাথার দুপাশে রয়েছে হলুদ রঙের পালকের গোছা।

পেঙ্গুইনরা দল বেঁধে থাকে। বাসা বেঁধে ডিম পাড়ার সময় লাইন বেঁধে এগিয়ে চলে দলপতির পেছনে পেছনে। এই লম্বা লাইনে ১০০ থেকে হাজার হাজার পেঙ্গুইনও থাকে। বাসা বাঁধার ও ডিমপাড়ার সুবিধামতো জায়গায় গিয়ে এরা ভিড় করে। কয়েক মাসের জন্য সেখানে পৌঁছে ওদের প্রথম কাজ হলো সঙ্গী খুঁজে নেওয়া। সঙ্গী জুটলেই শুরু হয় ঘর বাঁধার পালা। পুরুষটি ঘুরে ঘুরে নুড়িপাথর সংগ্রহ করে আনে ঘর বানানোর জন্য। কেউ কেউ আবার অন্যের নুড়িপাথর চুরিও করে। ধরা পড়লে শুরু হয় চেঁচামেচি ও মারামারি। ছোটবেলা থেকেই ওরা সব বিপদ থেকে নিজেদের দূরে রাখতে শিখে। এদের সবচেয়ে বড় শত্রু সি-লেপার্ড নামে এক জাতের সিল—বরফের চাঙ্গরের পাশে এরা ওত পেতে থাকে। মাছের জন্য কোনো পেঙ্গুইন পানিতে ঝাঁপ দিলেই আস্ত গিলে ফেলে।

বাচ্চাদের প্রতি পেঙ্গুইনরা খুবই স্নেহপ্রবণ। এদের বাচ্চারা মানুষের বাচ্চাদের মতোই সারাক্ষণ খেলাধুলায় মেতে থাকে। যুগ যুগ ধরে এদের অবাধ বিচরণ মেরু অঞ্চলের একঘেয়ে পরিবেশকে অপূর্ব মহিমান্বিত করেছে।

রাতুলের বাগান

রহস্যময় স্থাপনা স্টোনহেঞ্জ

প্রজাপতি পা দিয়ে স্বাদ নেয়

বলপয়েন্ট কলমের নানা কথা

এশিয়ার সুন্দরতম দেশ ভিয়েতনাম

বায়েজিদ বোস্তামি ও ভণ্ড দরবেশ

ঘুম ভাঙানো পিউ কাহা

শাপলা ভরা বিল

পদ্মাপাড়ে আনন্দভ্রমণ

রাফি হলো সমাজসেবী