আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ‘বদহজম’ বা indigestion খুবই পরিচিত একটি সমস্যা। অনেকেই এটিকে সামান্য গ্যাসট্রিক বা খাবারের সমস্যা মনে করে অবহেলা করেন। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই উপসর্গকে বলা হয় ডিসপেপসিয়া (Dyspepsia), যা কখনো কখনো গুরুতর রোগের পূর্বলক্ষণ হতে পারে।
বদহজম আসলে কী
বদহজম কোনো একক রোগ নয়, বরং ওপরের পেটের (epigastric region) কিছু উপসর্গের সমষ্টি। যেমন—
* পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা।
* অল্প খেয়েই পেট ভরে যাওয়া।
* পেট ফাঁপা।
* বমি বমি ভাব।
কেন হয়
বদহজমের কারণ দুই ধরনের হতে পারে—
১. ফাংশনাল (কারণ ধরা যায় না)।
অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় কোনো নির্দিষ্ট রোগ পাওয়া যায় না, কিন্তু রোগী উপসর্গ অনুভব করেন।
২. অর্গানিক (নির্দিষ্ট রোগের কারণে) যেমন—
* গ্যাসট্রিক আলসার।
* গ্যাস্ট্রাইটিস।
* অ্যাসিড রিফ্লাক্স।
* বিরল ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যানসার।
সতর্কসংকেত
নিম্নলিখিত লক্ষণ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে—
* অকারণে ওজন কমে যাওয়া।
* গিলতে সমস্যা।
* রক্তবমি বা কালো পায়খানা।
* দীর্ঘদিনের বমি।
গুরুত্বপূর্ণ কারণ
একটি বিশেষ জীবাণু Helicobacter pylori—বদহজমের একটি বড় কারণ। এছাড়া—
* ব্যথানাশক ওষুধ (NSAIDs)।
* ধূমপান ও অ্যালকোহল।
* অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস।
* মানসিক চাপ।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন
* নিয়মিত ও অল্প অল্প করে খাবার খাওয়া।
* অতিরিক্ত মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।
* ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার।
ওষুধ
* Proton pump inhibitor (PPI).
* H. pylori থাকলে নির্দিষ্ট অ্যান্টিবায়োটিক।
সবশেষে বলব, বদহজম শব্দটি সহজ হলেও এর গুরুত্ব কম নয়। দীর্ঘদিন ধরে উপসর্গ থাকলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বারবার বদহজম মানেই শুধু গ্যাসট্রিক নয়—সময়ে পরীক্ষা করুন, সুস্থ থাকুন।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ