হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার সচেতনতার মাসে আমাদের উদ্দেশ্য হলো মুখ, গলা ও ঘাড়ের এই সাধারণ কিন্তু অনেকাংশে প্রতিরোধযোগ্য ক্যানসার সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। বাংলাদেশে তামাক, পান-সুপারি ও জর্দা ব্যবহারের উচ্চ হারের কারণে এই ক্যানসার ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় ২৩-৪ জন হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসারে আক্রান্ত হন। রোগীদের মধ্যে প্রায় ৭৭ দশমিক ৬ শতাংশ পুরুষ এবং প্রায় ৮৬ শতাংশ ক্ষেত্রে তামাক ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে। মুখগহ্বরের ক্যানসারই সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৩৬ শতাংশ)।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো—অনেক রোগী চিকিৎসকের কাছে আসেন দেরিতে, যেমন : স্টেজ-III (৩২.২%) ও স্টেজ-IV (৩৪.৬%) পর্যায়ে।
এই ক্যানসার মানুষের জীবনমান ও স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, তবে সঠিক সময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণগুলো অনেক সময় অস্পষ্ট থাকে। মুখে বা জিহ্বায় দীর্ঘদিন ঘা, গিলতে কষ্ট, কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া, গলায় গাঁট বা ফোলা।
এ ধরনের উপসর্গ দু-তিন সপ্তাহের বেশি থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার প্রতিরোধে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তামাক ও সুপারি বর্জন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর। আসুন, হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করি এবং সচেতনতা ছড়িয়ে দিই। আপনার সচেতনতা অন্যদের জীবন বাঁচাতে সহায়ক হতে পারে।
প্রতিরোধযোগ্য
তামাক ও সুপারি পরিহার এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এই ক্যানসার প্রতিরোধে অত্যন্ত কার্যকর।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
১. ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা।
২. পান-সুপারি ও জর্দা খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা।
৩. নিয়মিত মুখ ও দাঁতের পরিচর্যা করা।
৪. সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া।
লেখক : সহকারী অধ্যাপক (অনকোলজিস্ট)
ক্যানসার বিভাগ, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (পিজি-হাসপাতাল)