হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

টিকাদানের ঘাটতি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স ঝুঁকি বাড়াতে পারে

আইসিডিডিআরবির সতর্কবার্তা

স্টাফ রিপোর্টার

টিকাদানের ঘাটতি বাংলাদেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে সতর্কবার্তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। টিকাকে শুধু সংক্রামক রোগ প্রতিরোধের উপায় হিসেবেই নয়, বরং অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমানো, ঔষধ-প্রতিরোধী সংক্রমণের বিস্তার রোধ করা এবং স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা উচিত বলে জানায় সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার আইসিডিডিআর,বির থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।

বিবৃতিতে ওয়ান হেলথ ট্রাস্ট এবং আইসিডিডিআর,বি-র নেতৃত্বে পরিচালিত গ্লোবাল অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স পার্টনারশিপ (গার্প) প্রকাশিত একটি নতুন পলিসি ব্রিফে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সংক্রমণ কমানো, অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার হ্রাস এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবেলায় টিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দেশে টিকাদানের ক্রমবর্ধমান ঘাটতি এবং টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগের পুনরাবির্ভাবের প্রেক্ষাপটে, এই ব্রিফের তথ্য ও সুপারিশগুলো আগের যেকোনো সময়ের চাইতে বেশি প্রাসঙ্গিক।

‘বাংলাদেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবেলায় টিকার গুরুত্ব’ শীর্ষক পলিসি ব্রিফে বলা হয়েছে,

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মোকাবেলায় টিকার ভূমিকা বিষয়ে বিভিন্ন দেশের প্রেক্ষাপটে বহুমাত্রিক তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরতে, গার্পের বৃহত্তর আন্তর্জাতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই পলিসি ব্রিফটি তৈরি করা হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, বর্তমানে এই উদ্যোগে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, আইভরি কোস্ট, ভারত, কেনিয়া, মোজাম্বিক, নেপাল, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, উগান্ডা এবং ভিয়েতনাম। বাংলাদেশের এই পলিসি ব্রিফটি প্রস্তুত করা হয়েছে সরকারি সংস্থা, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাবিদ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, এবং প্রাণীসম্পদ খাতের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ধারাবাহিক আলোচনা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্য-প্রমাণের পর্যালোচনার মাধ্যমে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরের অন্যতম বড় হামের প্রাদুর্ভাব চলছে। এই প্রাদুর্ভাব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্রমবর্ধমান ঘাটতির প্রতিফলন যা মূলত নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বিঘ্ন এবং কিছু জনগোষ্ঠীর টিকার প্রতি আস্থা কমে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট।

আইসিডিডিআর,বির ইনফেকশাস ডিজিজেস ডিভিশনের এন্টারিক অ্যান্ড রেসপিরেটরি ইনফেকশন্স ইউনিটের বৈজ্ঞানিক এবং গার্প-বাংলাদেশের সভাপতি ডা. ওয়াসিফ আলী খান বলেন, চলমান হামের প্রাদুর্ভাব আমাদের মনে করিয়ে দেয়- টিকাদানের ঘাটতি কত দ্রুত জনস্বাস্থ্যে কয়েক দশকের অগ্রগতিকে পিছিয়ে দিতে পারে।

পলিসি ব্রিফে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) মাধ্যমে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে, যার ফলে নবজাতকের ধনুষ্টংকার নিমূর্ল, পোলিও দূরীকরণ এবং জন্মগত রুবেলা রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়েছে। তবে এটাও সতর্ক করা হয়েছে যে, এই অর্জনগুলোকে স্থায়ী বলে ধরে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে, টিকার কভারেজ বাড়ালে বাংলাদেশে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

ওয়ান হেলথ ট্রাস্ট-এর ফেলো এবং পার্টনারশিপ পরিচালক ডা. আর্টা কালানক্সি বলেন, এএমআর মোকাবেলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টা এখন মূলত নজরদারির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু রোগ প্রতিরোধমুলক ব্যবস্থাকেও এই আলোচনায় সমান গুরুত্বের জায়গায় নিয়ে আসতে হবে।

এই পলিসি ব্রিফে সার্বজনীন শিশু টিকাদানের কভারেজ বজায় রাখা, এএমআর প্রতিরোধে কার্যকর প্রমাণিত টিকার প্রাপ্যতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশের জাতীয় এএমআর-প্রতিরোধী কৌশলে টিকাদান কর্মসূচিকে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া এতে টিকা সংক্রান্ত তিনটি নির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এবং এএমআরের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে। এগুলো হলো: নিউমোকক্কাল কনজুগেট টিকার কার্যকারিতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা, এবং তা অধিক কার্যকরী ধরনে রূপান্তর করা; টাইফয়েড কনজুগেট টিকাকে দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং রোটাভাইরাস টিকা চালুর বিষয়টি ত্বরান্বিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এএস

পেটের ব্যথা দ্রুত কমানোর ওষুধ, উপায় ও পরামর্শ

ভ্যাপসা গরমে নিজেকে সুস্থ রাখবেন যেভাবে

কুর্মিটোলা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন

হাম ও পোস্ট-মিজেল নিউমোনিয়া

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

আনারস-দুধ একসঙ্গে খেলে কী হয়?

‘নাইট ডিউটিতে থাকায় বাবার লাশ দেখতে যেতে পারিনি’

বিরল রোগে আক্রান্ত শিশুকন্যা হাবিবার নাম এখন ‘জুবাইদা’

থাইরয়েড রোগ বাড়ছে, চিকিৎসার আওতায় নেই ৬০ শতাংশ

হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় ‘জরুরি অ্যালার্ম’: স্বাস্থ্যমন্ত্রী