হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

‘বাচ্চাটাকে বাঁচাতে হবে, নয়তো সংসার টিকবে না’

এন আই মানিক

জাহিদা আক্তার বৃষ্টি

রাজশাহীর মেয়ে জাহিদা আক্তার বৃষ্টি। ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা করার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ মানুষের সেবা করা এবং তাদের যন্ত্রণা কিছুটা লাঘব করার ইচ্ছা থেকেই মায়ের অনুপ্রেরণায় নার্সিং পেশায় আসেন জাহিদা। তিনি বলেন, ‘আম্মু চেয়েছিলেন আমি নার্সিংয়ে আসি, মানুষের সেবা করি। আর নার্সিং তো একটি মহৎ পেশা। এ পেশায় থেকে আমি মানুষের সেবা করতে পারব। তাদের দুঃখগুলো উপলব্ধি করে পাশে থাকতে পারব।’

২০১৯ সালে রাজশাহীর গ্লোবাল নার্সিং কলেজে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সে ভর্তি হন জাহিদা। তিন বছর মেয়াদি এই কোর্স সম্পন্ন করার পর প্লাজমা হাসপাতালে চাকরির মাধ্যমে নার্সিং পেশায় তার যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে তিনি গুলশানের সাহাব উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

কাজের মধ্যে সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি কোনটি এবং সেটি কীভাবে সামাল দেন—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একবার ওয়ার্ডে একসঙ্গে অনেক রোগী ভর্তি হন। তখন সেখানে নার্সের সংখ্যা ছিল কম, কিন্তু রোগীর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। ওই সময়টা আমাদের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে আমি ধৈর্য ধরে শান্ত থেকেছি। যেসব রোগীর অবস্থা গুরুতর ছিল, তাদের আগে সেবা দিয়েছি। এভাবে রোগীর অবস্থা অনুযায়ী সেবা দিয়ে আমরা টিমের সদস্যরা পরিস্থিতি মোকাবিলা করি। এমন পরিস্থিতিতে কাজ করে আমি অনেক কিছু শিখেছি। সেদিন একটু নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু পরিস্থিতি ভালোভাবেই সামাল দিয়েছি।’

নার্সিং পেশায় কাজ করতে গেলে রোগীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতে হয়। তখন রোগীরাও আপনজন মনে করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা ভাগাভাগি করেন। এসব কারণে কিছু রোগীর স্মৃতি নার্সরা সারাজীবনেও ভুলতে পারেন না। কাজের অভিজ্ঞতায় এমন কোনো ঘটনা আছে কি না, যা আপনাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়—এমন প্রশ্ন করতেই মুহূর্তেই মন খারাপ হয়ে যায় জাহিদার। গম্ভীর কণ্ঠে নিচু স্বরে বলেন, ‘হ্যাঁ, একটা ঘটনা আছে, যেটি আমি কখনোই ভুলব না। প্রথম চাকরিতে যখন প্লাজমা হাসপাতালে যাই, তখন আমার নাইট শিফট ছিল। সিজারের জন্য এক আপু ভর্তি হয়েছিলেন।

‘ওনার যত্ন নিতে নিতে আমাদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি আমার সঙ্গে অনেক কথা শেয়ার করতেন। হঠাৎ বললেন, আপু, আমার বাচ্চাটাকে বাঁচাতেই হবে। কারণ, এই বাচ্চার ওপর নির্ভর করছে আমার সংসার টিকবে কি টিকবে না। ওনার কথা শুনে আমি সাহস দিয়েছিলাম। বলেছিলাম, ইনশাআল্লাহ, আপনার বাচ্চা বাঁচবে আপু, আপনার সংসারও ভাঙবে না। দুঃখজনক বিষয় হলো, সিজারের পর ওনার বাচ্চাটা মাত্র দুদিন বেঁচে ছিল। ওনার কান্না দেখে আমার মনটা দুমড়ে-মুচড়ে যায়। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা খুঁজে পাইনি। জানি না, সেই আপুর সংসারটা টিকেছে কি না। তবে এ ঘটনাটা কখনো ভুলব না। এটা মনে পড়লেই আমার হৃদয়ে একজন মায়ের আর্তনাদ ভেসে ওঠে।’

এমন ঘটনা আসলে আমাদের সমাজের কিছু কিছু পরিবারের জন্য লজ্জার। একটি শিশুর জন্মের ওপর যদি একজন নারীর সংসার টিকে থাকা নির্ভর করে, তাহলে প্রশ্ন এসেই যায়—মেয়েটি কোথায় গিয়ে আশ্রয় খুঁজবে?

নার্সিং পেশায় পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা কতটা কঠিন? এমন প্রশ্নের জবাবে জাহিদা বলেন, ‘এটি অবশ্যই অনেক চ্যালেঞ্জিং একটি বিষয়। তবে যেহেতু এই পেশায় এসেছি, তাই মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই এসেছি। আমরা নার্স। আমাদের কাজ শুধু চিকিৎসাসেবা দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। একজন ভালো নার্স হতে গেলে তাকে ধৈর্যশীল, দায়িত্বশীল এবং অবশ্যই সহানুভূতিশীল ও মানবিক হতে হবে। আসলে এই জায়গায় আমরা হেরে যাই। এ কারণে আমাদের পরিবারের আগে রোগীকে গুরুত্ব দিতে হয়।

‘আমার আম্মু এখন অসুস্থ। কিছুদিন আগে তার সার্জারি হয়েছিল। এছাড়া তার থাইরয়েড ও মাইগ্রেনের সমস্যা আছে। আব্বু চাকরির কারণে একটু দূরে থাকেন। তাই আম্মুকে দেখাশোনা করার মতো তেমন কেউ নেই। দেখতে যেতে পারি না, তার পাশে থাকতে পারছি না—এটা আমার মানসিক কষ্টের কারণ। তবে সহকর্মীদের সহযোগিতা এবং পরিবারের যথেষ্ট সমর্থন পাই। তাই সবকিছু সামলে এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করি।’

পরিবারের তিন বোনের মধ্যে সবার বড় জাহিদা। তাই দায়িত্বটাও একটু বেশি তার কাঁধে। ছোট দুই বোন হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে। একজন অনার্স প্রথম বর্ষে পড়ছে, অন্যজন আগামীতে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেবে। মাকে দেখাশোনা করার মতো কেউ পাশে না থাকায় তার আক্ষেপও বেশি।

নিজেদের পরিবার থেকে দূরে থেকে নার্সরা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন। অথচ প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে, এ দেশে নার্সরা কি যথাযথ সম্মান পাচ্ছেন? প্রশ্নটি শুনেই আক্ষেপ নিয়ে জাহিদা বলেন, ‘আমাদের দেশের নার্সদের যথাযথ সম্মান করা হয় না। নার্স মানে সেবক বা সেবিকা। মা-বাবা, আত্মীয়স্বজন—সবকিছু বাদ দিয়ে আমরা একজন রোগীকে আপন ভেবেই সেবা দিই। কাউকে বাবার নজরে দেখি, কাউকে ভাইয়ের নজরে দেখি, কাউকে আবার বোনের নজরে দেখি। সেই অনুযায়ী কিন্তু আমরা সম্মান পাই না। কিছু রোগীর স্বজন অনেক সহানুভূতিশীল হন, তারা বোঝেন। আবার কিছু রোগীর স্বজন আমাদের কষ্টটা বোঝেন না। আমাদের সম্মানজনক বেতন, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণে নার্সদের অংশগ্রহণ এবং কাজের মান উন্নয়নের বিষয়ে একটু নজর দেওয়া দরকার। এছাড়া রোগীর তুলনায় নার্সের সংখ্যা অনেক কম। রোগীর সংখ্যা অনুযায়ী নার্স নিয়োগ দেওয়া হলে আমরা আরো ভালো সেবা দিতে পারব।’

টেস্ট নেগেটিভ আসার পরও কি ডেঙ্গু হয়

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে আঁশজাতীয় খাবার

অটিজমে স্পিচ থেরাপি

ডায়াবেটিস রোগীদের বিষণ্নতা কমাতে নতুন থেরাপি, গবেষণায় মিলল সাফল্য

ডেঙ্গুতে আরো ৬ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ২০১০

একদিনে হাম উপসর্গে ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৪০০

হাম উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৪৮

অবিশ্বাস্য কম মূল্যে বারডেমে ক্যানসার পরীক্ষা, জানা যাচ্ছে চিকিৎসার ধরনও

ডেঙ্গুতে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা, ডিসেম্বরের আগে পরিস্থিতি উন্নতির সম্ভাবনা কম

ডেঙ্গুতে এক মাসে মৃত্যু ১৭৪ , আক্রান্ত ৫৬ হাজারের বেশি