হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

বাকপ্রতিবন্ধকতার লক্ষণ

আশিকুর রহমান তালহা

কথা বলা মানুষের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম। কিন্তু অনেকেই স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না। আমরা প্রতিদিন কত সহজ ও সাবলীলভাবে মনের ভাব প্রকাশ করি। কিন্তু আমাদের চারপাশে এমন অনেকেই আছেন, যারা মনে মনে জানেন তিনি কী বলতে চান, কিন্তু মুখ দিয়ে সেই শব্দগুলো স্পষ্ট করে ফুটিয়ে তুলতে পারেন না।

কেউ কথা বলতে গিয়ে বারবার আটকে যান, কেউ শব্দ স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে পারেন না, আবার কেউ কেউ জানেন কী বলতে চান, কিন্তু তা মুখে প্রকাশ করতে কষ্ট হয়। এ ধরনের সমস্যাকে বলা হয় বাকপ্রতিবন্ধকতা (Speech Disorder)। বাকপ্রতিবন্ধকতা শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—উভয়েরই হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সময়মতো শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব।

বাকপ্রতিবন্ধকতার প্রধান ধরন

তোতলামি : বাকপ্রতিবন্ধকতার সবচেয়ে পরিচিত ধরন হলো তোতলামি। এতে ব্যক্তি কথা বলতে গিয়ে একই শব্দ বা ধ্বনি বারবার বলেন, হঠাৎ আটকে যান অথবা কোনো শব্দ অস্বাভাবিকভাবে টেনে উচ্চারণ করেন। কথা বলার সময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও একই শব্দ বারবার বলা, কথা বলতে বলতে আটকে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

অ্যাপ্রাক্সিয়া : এটি মস্তিষ্কজনিত একটি সমস্যা। কথা বলার জন্য মস্তিষ্ক যেভাবে মুখ বা জিভকে নির্দেশ দেয়, তা বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে কথা বলার আগে ঠোঁট-চোয়াল বারবার নাড়ানো, খুব ধীরে কথা বলা বা শব্দের মাঝে লম্বা বিরতি নেওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। ব্যক্তি কী বলতে চান তা জানলেও মুখ ঠোঁট জিহ্বার সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। ফলে কথা বলতে সময় লাগে এবং উচ্চারণে ভুল হয়।

ডিসারথ্রিয়া : মুখ, জিহ্বা, ঠোঁট বা শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশি দুর্বল হয়ে গেলে এ সমস্যা দেখা দেয়। এতে কথা জড়ানো, অস্পষ্ট বা খুব ধীরে-দ্রুত বলার প্রবণতা দেখা যায়। ব্যক্তি খুব বিড়বিড় করে বা অতিরিক্ত ফিসফিস করে কথা বলেন।

লক্ষণ

আমাদের গলা বা কণ্ঠনালির ভেতরে থাকা ভোকাল কর্ড (Vocal cords), পেশি এবং স্নায়ুর জটিলতার কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়।

বাকপ্রতিবন্ধকতার ধরন অনুযায়ী লক্ষণ ভিন্ন হলেও সাধারণভাবে নিচের উপসর্গগুলো দেখা যায়Ñ

v একই শব্দ বা ধ্বনি বারবার বলা

v কথা বলতে গিয়ে আটকে যাওয়া

v শব্দ টেনে উচ্চারণ করা

v অস্পষ্ট বা জড়ানো কথা বলা

v খুব ধীরে বা খুব দ্রুত কথা বলা

v কথা বলার সময় বারবার থেমে যাওয়া

v উচ্চারণে বিকৃতি হওয়া

v জিহ্বা বা মুখ নড়াতে অসুবিধা হওয়া

v কথা বলার সময় বারবার চোখের পলক ফেলা।

v কর্কশ বা ভাঙা কণ্ঠে কথা বলা

v কথা বলতে গিয়ে ব্যক্তির অস্বস্তি বা হতাশা প্রকাশ পাওয়া

কেন হয় এ সমস্যা

বাকপ্রতিবন্ধকতার পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন—

v মস্তিষ্কে আঘাত

v স্ট্রোক

v ভোকাল কর্ডের অস্বাভাবিকতা বা ছোট মাংসপিণ্ড (পলিপ বা নোডিউল) হওয়া

v মুখ বা গলার ক্যানসার

v জন্মগত বা বিকাশজনিত সমস্যা যেমনÑঅটিজম (Autism) বা এডিএইচডি (ADHD)

v মুখ ও গলার পেশির দুর্বলতা

v শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশির দুর্বলতা

এছাড়া ডিমেনশিয়া, ALS এবং কিছু স্নায়ুবিক রোগের কারণেও বাকপ্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি বংশগতও হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

বাকপ্রতিবন্ধকতা নির্ণয়ের জন্য স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট রোগীর কথা বলার ধরন, উচ্চারণ, ভাষা বোঝার ক্ষমতা এবং মুখের পেশির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করেন। শিশুদের ক্ষেত্রে এ সমস্যা দ্রুত শনাক্ত করতে কিছু বিশেষ পরীক্ষা বা টেস্ট রয়েছে। যেমনÑউচ্চারণের স্পষ্টতা পরীক্ষার জন্য পাঁচ মিনিটের একটি সহজ টেস্ট ‘ডেনভার আর্টিকুলেশন স্ক্রিনিং এক্সাম’ (DASE)। এছাড়া শিশুর ভাষা শেখার গতি বুঝতে ‘আর্লি ল্যাঙ্গুয়েজ মাইলস্টোনস স্কেল’ (ELMS) এবং শব্দভান্ডার ও বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের জন্য ‘পিবডি পিকচার ভোকাবুলারি টেস্ট (PPVT)’ করা হয়ে থাকে।

তথ্যসূত্র : হেলথলাইন

কেন বয়স ৩৫ পেরোলেই নারীদের ওজন কমানো কঠিন হয়

লবঙ্গের যত স্বাস্থ্যগুণ

হামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরো ৫ শিশুর

নিয়মিত সূর্যাস্ত দেখলে মিলতে পারে মানসিক প্রশান্তি, ভালো ঘুম ও সুস্থতা

হামের ইনফেকশনে নিউমোনিয়া হতে পারে

গ্যাস্ট্রিক আলসার: প্রয়োজন দ্রুত শনাক্তকরণ

বাইপাসেই চিকিৎসা শেষ নয়

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল: উপকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

বেশি আলু খেলে কি সত্যিই গ্যাসের সমস্যা হয়? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ফিজিওথেরাপিস্টের ওপর হামলার ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম এম-ট্যাবের