সম্প্রতি রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে থোরাসিক সার্জারি সেন্টার চালু করেছেন অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল আলম। থোরাসিক সার্জারি কী? কী কারণে এ সার্জারি করাতে হয়? হ্যালো ডাক্তার বিভাগে আজ আমরা এসব বিষয়ে কথা বলব তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এন আই মানিক
প্রশ্ন : থোরাসিক সার্জারি কী এবং কী কারণে এই সার্জারির প্রয়োজন হয়?
উত্তর : থোরাসিক সার্জারি মূলত বক্ষব্যাধি ও খাদ্যনালির সার্জিক্যাল চিকিৎসা। বুকের আঘাতজনিত চিকিৎসার পাশাপাশি বুকের ভেতর হার্ট ছাড়া যেসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থাকে, সেসবেরই সার্জিক্যাল চিকিৎসার নাম থোরাসিক সার্জারি। হার্টের যেমন অপারেশন করা যায়, তেমনি ফুসফুসেরও অপারেশন করা যায়। প্রয়োজনে মানুষের দুটো ফুসফুসের একটা ফুসফুস কেটেও ফেলা যায়। এমনকি উন্নত দেশে কিডনি ও লিভারের মতো ফুসফুসও ট্রান্সপ্লান্ট করা হয়।
প্রশ্ন : সম্প্রতি আপনি শমরিতা হাসপাতালে থোরাসিক সার্জারি সেন্টার চালু করেছেন। এ সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : দেশে থোরাসিক সার্জনের সংখ্যা খুবই নগণ্য। বলতে গেলে ১৮ কোটি লোকের জন্য মাত্র ৪০ জনের মতো, যাদের অর্ধেকের বেশি নবীন। তার ওপর সরকারি পর্যায়ে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানে এই চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ যেমন জানেন না, তেমনি দেশের অধিকাংশ ডাক্তারও জানেন না দেশে কোথায় এবং কোন ডাক্তাররা এই সার্জারি করেন। তাই প্রথম টার্গেট অন্তত ডাক্তার সমাজকে জানানো যে, আমি ব্যক্তিগতভাবে অ্যাভেইলেবল না থাকলেও শমরিতা হাসপাতালে গেলে অন্তত থোরাসিক সার্জারির সেবাটা পাওয়া যাবে।
প্রশ্ন : দেশে-বিদেশে থোরাসিক সার্জারির সুযোগ এবং চিকিৎসাব্যয় সম্পর্কে জানতে চাই।
উত্তর : মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এবং ঢামেক হাসপাতালে এই সেবা বিদ্যমান। সীমিত আকারে চমেক ও বিএমইউতেও রয়েছে। কিন্তু বেডস্বল্পতা এবং ভর্তির পর অপারেশনের লম্বা সিরিয়ালের ফলে চিকিৎসাব্যয় বেড়ে যায়, যা সাকুল্যে লক্ষাধিক। তার ওপর কর্মঘণ্টা লস। এই চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে সাধারণত ২৫-৩০ লাখ টাকা এবং ভারতে আট থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। অন্যদিকে দেশে প্রাইভেটে সেন্টারভেদে দুলাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়।
প্রশ্ন : আপনার থোরাসিক সার্জারি টিমের সদস্যদের সম্পর্কে বলুন।
উত্তর : আপাতাত আমার টিমে আমাকে নিয়ে ৯ জন সদস্য রয়েছেন, যারা সবাই বিশেষজ্ঞ থোরাসিক সার্জন। অধিকাংশই সহকারী অধ্যাপক বা কনসালট্যান্ট। সবাই তরুণ ও দক্ষ সার্জন; সবাই আমার হাতে গড়ে ওঠা। তাদের সম্পর্কে এটুকু বলতে পারি—আগামী ১০ বছরের মধ্যে তারাই এদেশের থোরাসিক সার্জারির হাল ধরবেন।
প্রশ্ন : এই থোরাসিক সার্জারি সেন্টার নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ ভাবনা কী?
উত্তর : আমি স্বপ্নবাজ মানুষ। কার্ডিওথোরাসিক সার্জন হয়েও অর্থের পেছনে না দৌড়িয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতেই শুরু থোরাসিক সার্জারিকে বেছে নিয়েছি। দীর্ঘদিন মহাখালী বক্ষব্যাধি হাসপাতালে কাজ করেছি। তারপর ঢামেক হাসপাতালে প্রথমবারের মতো থোরাসিক সার্জারি বিভাগ চালু ও প্রতিষ্ঠা করেছি। ডাক্তারদের এবং ছাত্রদের পড়িয়েছি, ট্রেনিং দিয়েছি। অবসর গ্রহণের পর তারই ধারাবাহিকতায় বেসরকারি পর্যায়ে থোরাসিক সার্জারি সেবা চালু করা এবং মধ্যবিত্তের নাগালে তা পৌঁছে দেওয়া—সর্বোপরি দক্ষ থোরাসিক সার্জন তৈরি করাই আমার স্বপ্ন।