ইদানীং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসকদের কেউ কেউ ভোজ্য তেল সয়াবিন ও সরিষার তেলের পরিবর্তে মাখন বা ঘি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, এসব প্রাণিজ চর্বি বেশি উপকারী। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ চর্বির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং স্বাস্থ্যের জন্য উদ্ভিজ্জ ফ্যাট তুলনামূলকভাবে বেশি উপকারী।
রেড মিট নিয়েও রয়েছে ভিন্ন ধারণা। অনেকের মতে, এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হলেও পুষ্টিবিদরা বলছেন, পরিমাণ ও চর্বির মাত্রার ওপর নির্ভর করে এর প্রভাব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মো. সায়েদুল আরেফিন বলেন, উদ্ভিজ্জ ফ্যাট প্রাণিজ ফ্যাটের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর হলেও পরিমিত পরিমাণে প্রাণিজ ফ্যাটও প্রয়োজন।
তিনি জানান, ফ্যাট শরীরের জন্য অপরিহার্য উপাদান। এটি শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে এবং ভিটামিন এ, ডি ও ই শোষণে সহায়তা করে। পাশাপাশি হরমোন তৈরি ও কোষ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পুষ্টিবিদদের মতে, ফ্যাট প্রধানত দুই ধরনের—স্যাচুরেটেড (সম্পৃক্ত) ও আনস্যাচুরেটেড (অসম্পৃক্ত)। প্রাণিজ উৎসের ফ্যাটে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে, যা অতিরিক্ত গ্রহণে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে উদ্ভিজ্জ তেল ও মাছ থেকে পাওয়া আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অলিভ অয়েল ও সূর্যমুখী তেলের মতো উদ্ভিজ্জ তেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক উপাদান থাকে। বিশেষ করে মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বজায় রাখতে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদদের মতে, মাখন, ঘি, পনির ও লাল মাংসের মতো খাবারে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকায় এগুলো পরিমিত মাত্রায় খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত গ্রহণে কোলেস্টেরল বেড়ে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, স্যাচুরেটেড বা ট্রান্স ফ্যাট বেশি গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। একজন পুরুষকে দৈনিক ৩০ গ্রাম এবং নারীকে ২০ গ্রামের বেশি স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিজ্জ ফ্যাট বেশি গ্রহণে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি কমে, আর প্রাণিজ ফ্যাট বেশি গ্রহণে ঝুঁকি বাড়তে পারে। হার্ভার্ডসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায়ও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে।
সূত্র: বিবিসি