অনেকেই একসঙ্গে একাধিক ওষুধ সেবন করেন। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রয়োজনীয় হলেও কখনো কখনো একটি ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমানোর জন্য আরেকটি ওষুধ যোগ করা হয়। এভাবে একের পর এক ওষুধ যুক্ত হতে থাকলে অনিচ্ছাকৃতভাবে নতুন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গবেষণায় কী পাওয়া গেছে
কানাডার অন্টারিও প্রদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রেসক্রাইবিং ক্যাসকেড কতটা প্রচলিত, তা জানতে একটি নতুন গবেষণা করা হয়েছে। গবেষকরা প্রথমে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে এমন ৬৫টি সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধ ব্যবহারের ধরন চিহ্নিত করেন। এরপর অন্টারিওর স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্যভান্ডারে থাকা প্রেসক্রিপশন রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা হয়, বাস্তবে এসব ওষুধের সংমিশ্রণ কতটা ঘটছে। গবেষণায় ২৪টি প্রচলিত ও সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রেসক্রাইবিং প্যাটার্ন শনাক্ত করা হয়েছে।
একাধিক ওষুধ গ্রহণ করা কেন গুরুত্বপূর্ণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একই ব্যক্তির একাধিক দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকার প্রবণতা বাড়ে। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, কিডনি রোগ, আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য একাধিক ওষুধ প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
রোগী দীর্ঘদিন ধরে কোনো ওষুধ গ্রহণ করলে নির্দিষ্ট সময় পরপর সেটি এখনো প্রয়োজনীয় কি না, তা পর্যালোচনা করা উচিত। কোনো ওষুধের উপকারের তুলনায় ঝুঁকি বেশি হলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সেটির ডোজ কমানো, পরিবর্তন বা বন্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি ওষুধ যোগ করার আগে সম্ভাব্য কারণগুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী ও একাধিক ওষুধ গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ।
রোগীদের জন্য সতর্কতা
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো প্রেসক্রিপশনের ওষুধ বন্ধ, পরিবর্তন বা ডোজ কমাবেন-বাড়াবেন না। আপনি কোন ওষুধটি কখন থেকে এবং কী কারণে গ্রহণ করছেন, তার একটি হালনাগাদ তালিকা রাখুন। চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে প্রয়োজন অনুযায়ী তালিকাটি দেখান। ওষুধ শুরু করার পর নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে শুধু সেই উপসর্গের জন্য আরেকটি ওষুধ শুরু করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন। উপসর্গটি বর্তমান কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কি না, তা যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি বা যারা একসঙ্গে অনেক ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের মাধ্যমে নিয়মিত ওষুধ পর্যালোচনা করা উপকারী।
লেখক : বিভাগীয় প্রধান, কার্ডিওলজি, সাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ, গুলশান, ঢাকা