হোম > ফিচার > স্বাস্থ্য

স্টেথোস্কোপের জন্ম-বিবর্তন

ডা. নুসরাত শোয়াইব

১৮১৬ সালে ফ্রান্সের চিকিৎসক René Laennec প্যারিসের Necker-Enfants Malades Hospital-এ কর্মরত অবস্থায় এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেন স্টেথোস্কোপ। এক নারী রোগীর বুকে সরাসরি কান লাগিয়ে হৃৎস্পন্দন শোনা তার কাছে অস্বস্তিকর মনে হওয়ায় তিনি কাগজ গুটিয়ে একটি নল তৈরি করেন। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেন, এতে হৃদযন্ত্রের শব্দ আরো স্পষ্ট শোনা যায়। এভাবেই জন্ম নেয় ‘মিডিয়েট অস্কালটেশন’ পদ্ধতি এবং প্রথম এক-কর্ণ (monaural) কাঠের স্টেথোস্কোপ।

ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক

* ১৮১৬—আবিষ্কার : লায়েনেক কাঠের তৈরি ফানেল-আকৃতির এক-কর্ণ স্টেথোস্কোপ নির্মাণ করেন, যা হৃদ ও ফুসফুসের শব্দ স্পষ্টভাবে শোনার সুযোগ দেয়।

* ১৮৫১-১৮৫২—দ্বিকর্ণ স্টেথোস্কোপ : আইরিশ চিকিৎসক Arthur Leared দুটি কানের জন্য উপযোগী (binaural) স্টেথোস্কোপ উদ্ভাবন করেন। পরে George Cammann—এটিকে আরো উন্নত করে বাণিজ্যিকভাবে প্রচলিত করেন।

* ১৮৯৪—বেল ও ডায়াফ্রাম যুক্ত চেস্টপিস: ডা. Robert Bowles এমন একটি চেস্টপিস তৈরি করেন, যাতে বেল ও ডায়াফ্রাম—দুই অংশই ছিল। ফলে বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সির শব্দ শোনা সহজ হয়।

* ১৯৪৫-১৯৪৬—আধুনিক রূপান্তর : Howard Sprague এবং Maurice Rappaport আধুনিক দ্বিমুখী ও নমনীয় টিউবযুক্ত স্টেথোস্কোপের নকশা উন্নত করেন, যা আজও বহুল ব্যবহৃত।

রেনে লায়েনেকের বেদনাবিধুর পরিণতি

স্টেথোস্কোপ আবিষ্কারের মাধ্যমে যিনি লাখো কোটি রোগীর জীবন রক্ষায় অবদান রেখেছেন, তার নিজের জীবন ছিল সংক্ষিপ্ত ও বেদনাময়। René Laennec ছিলেন যক্ষ্মা (টিউবারকুলোসিস) রোগ নির্ণয়ে পথিকৃৎদের অন্যতম। বিদ্রুপের বিষয়, তিনি নিজেই আক্রান্ত হন যক্ষ্মায়—যে রোগ নির্ণয়ে তার আবিষ্কার বিপ্লব ঘটিয়েছিল। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে, ১৮২৬ সালে, যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জীবনের শেষদিকে তিনি নিজের বুকের শব্দ নিজেই স্টেথোস্কোপ দিয়ে শুনতেন এবং রোগের অগ্রগতি উপলব্ধি করতেন—একজন চিকিৎসক হিসেবে নিজের শরীরেই যেন গবেষণার নির্মম বাস্তবতা প্রত্যক্ষ করছিলেন। তার মৃত্যু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক গভীর বেদনার অধ্যায় হয়ে আছে।

আধুনিক যুগে স্টেথোস্কোপ

বর্তমানে স্টেথোস্কোপ শুধু কাঠ বা রাবারের নলেই সীমাবদ্ধ নয়। ইলেকট্রনিক অ্যাম্প্লিফিকেশন, ব্লুটুথ সংযোগ, নয়েজ-ফিল্টারিং প্রযুক্তি যুক্ত হয়ে এটি আরো কার্যকর হয়েছে। ডিজিটাল স্টেথোস্কোপে শব্দ রেকর্ড, সংরক্ষণ এবং দূরবর্তী বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর সুবিধাও যুক্ত হয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের চিরন্তন প্রতীক

দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে স্টেথোস্কোপ চিকিৎসকের অন্যতম প্রধান সহচর। আধুনিক ইমেজিং প্রযুক্তি—ইকোকার্ডিওগ্রাফি, সিটি স্ক্যান কিংবা এমআরআই—যতই উন্নত হোক না কেন, রোগীর শয্যার পাশে দাঁড়িয়ে স্টেথোস্কোপ দিয়ে হৃদ ও ফুসফুসের শব্দ শোনা এখনো ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার প্রথম ধাপ। একটি সাধারণ কাগজের নল থেকে শুরু হয়ে আজকের ডিজিটাল ডিভাইস—স্টেথোস্কোপের এই দীর্ঘ যাত্রা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। স্টেথোস্কোপ শুধু একটি চিকিৎসা যন্ত্র নয়; এটি মানবিক চিকিৎসাচর্চার প্রতীক—চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে আস্থা, দায়িত্ব ও সহমর্মিতার সেতুবন্ধ।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ, ঢাকা

লিভারে বিপদের সংকেত ও প্রতিকার

বাকপ্রতিবন্ধকতার চিকিৎসা

বর্ষাকালে হৃদরোগীর সতর্কতা

দেশে প্রতি ১৩ জনে একজন নারীর অকাল মেনোপজ

হাম ও উপসর্গে আরো ৭ জনের মৃত্যু

বন্যার সময় ছয় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে সতর্ক থাকার আহ্বান ডব্লিউএইচওর

কেন আদুরে শিশু দেখলে গাল টানতে ইচ্ছে করে

যুক্তরাষ্ট্রে অর্ধেকের বেশি রাজ্যে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব, আক্রান্ত হাজারো মানুষ

বিএমইউর রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম

ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৫১