৩৫ বছর পার হলেই যেন শরীরের সব নিয়ম বদলে যায়। আগের মতোই নিয়ম মেনে সালাদ খাওয়া বা হাঁটার পরও ওজন কমতে চায় না। অনেকে ভাবেন, বয়সের কারণে হজমশক্তি কমে গেছে। কিন্তু আসল কারণটি হলো অলক্ষ্যে শরীর থেকে পেশি বা মাসল কমে যাওয়া।
৩৫ বছরের পর নারীদের শরীরে বয়সজনিত পেশি ক্ষয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এটি না থামালে প্রতি ১০ বছরে শরীর থেকে প্রায় ৩ থেকে ৮ শতাংশ পেশি হারিয়ে যায়। পেশি হলো শরীরের ক্যালরি পোড়ানোর মূল ইঞ্জিন। তাই পেশি কমে গেলে ওজন কমানো খুব কঠিন হয়ে পড়ে।
পেশি ও মেটাবলিজম
আমাদের শরীর বিশ্রামে থাকা অবস্থাতেও ক্যালরি পোড়ায়। একে বলে ‘রেস্টিং মেটাবলিক রেট’। এক পাউন্ড চর্বির তুলনায় এক পাউন্ড পেশি প্রায় তিন গুণ বেশি ক্যালরি পোড়াতে পারে।
পেশি কমে গেলে শরীর আগের মতো ক্যালরি পুড়াতে পারে না। ফলে ২৮ বছর বয়সে যা খেয়ে ওজন ঠিক থাকত, ৩৮ বছর বয়সে তা খেলেই ওজন বেড়ে যায়। শরীর তখন বাড়তি ক্যালরিকে চর্বি বানিয়ে ফেলে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয় হরমোনের পরিবর্তন। বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীদের শরীরে ‘ইস্ট্রোজেন’ হরমোন কমতে থাকে।
‘দ্য জার্নালস অব জেরোন্টোলজি’র গবেষণা অনুযায়ী, এই হরমোন কমে গেলে পেশি দ্রুত কমে এবং চর্বি বাড়ে। এই চর্বি মূলত পেটে গিয়ে জমা হয়।
ডায়েটের ভুল ও প্রোটিন রেজিস্ট্যান্স
ওজন বাড়ছে দেখে অনেক নারী খাওয়া একদম কমিয়ে দেন বা শুধু দৌড়ঝাঁপ করেন। এটি উল্টো ক্ষতি করে। পর্যাপ্ত পুষ্টি ছাড়া হঠাৎ খাওয়া কমিয়ে দিলে শরীর চর্বি না পুড়িয়ে উল্টো পেশি ভেঙে শক্তি জোগাড় করে। এতে শরীর আরো নরম ও দুর্বল হয়ে যায়।
বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীরে ‘অ্যানাবলিক রেজিস্ট্যান্স’ তৈরি হয়। এর মানে হলো, শরীর সহজে প্রোটিন থেকে নতুন পেশি তৈরি করতে পারে না।
গবেষণা বলছে, এই সমস্যা দূর করতে নারীদের প্রতিদিন প্রতি কেজি ওজনের জন্য ০.৮ থেকে ১.২ গ্রাম প্রোটিন খেতে হবে। শুধু কম খেয়ে ওজন কমানোর চেষ্টা ৩৫ বছরের পর আর কাজ করে না।
পেশি ধরে রাখার উপায়
কিছু নিয়ম মেনে চললে সহজেই পেশি ও মেটাবলিজম ঠিক রাখা যায়। যেমন- সপ্তাহে অন্তত ২ থেকে ৩ দিন হালকা ওজন তোলা, পুশ-আপ বা স্কোয়াটের মতো ব্যায়াম করতে হবে। শুধু এক বেলা প্রোটিন না খেয়ে সকাল, দুপুর ও রাতের খাবারে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম করে ভালো প্রোটিন রাখতে হবে। মানসিক চাপ বাড়লে ‘কর্টিসল’ হরমোন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন পেশি ভেঙে ফেলে এবং পেটে চর্বি জমায়। তাই পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।
সূত্র: এনডিটিভি
এএম