মোবাইল সেবাকে জনবান্ধব করতে ভয়েস মূল্যসীমা প্রত্যাহারের প্রস্তাব করলো নাগরিক প্লাটফর্ম ভয়েস ফর রিফর্ম ও টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিপ্যাপ)।
রোববার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিবিএল ভবনে ‘ভয়েস মূল্যসীমা প্রত্যাহার প্রস্তাব: মোবাইল সেবাকে জনবান্ধব করতে নতুন সরকারের করণীয়’ শীর্ষক এক সংলাপে মূল প্রবন্ধে এ কথা বলা হয়। ‘ভয়েস ফ্লোর প্রাইস’ হলো মোবাইল ফোনে কথা বলার জন্য সরকার বা নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) নির্ধারিত সর্বনিম্ন মূল্যসীমা। ২০১৮ সালের আগস্টে বাংলাদেশে এমন মূল্যসীমা নির্ধারণ করা হয়। রেট প্রতি মিনিট ৪৫ পয়সা। এই মূল্যসীমা এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। ভয়েস ফর রিফর্মের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় সংলাপে অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিটিআরসির উপ-পরিচালক মোহাম্মাদ ফারহান আলম, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারি সাদাত হোসেন, রবি কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা শাহেদ আলম ও বাংলালিংকের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল মাসুদ প্রমুখ।
সংলাপের শুরুতে এই দাবির সপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে মূল প্রবন্ধে টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিভাইস পেনিট্রেশন না বাড়ালে ইন্টারনেট পেনিট্রেশন বাড়বে না। এর এর ফলে স্বাবলম্বীদের তুলনায় অসচ্ছল নাগরিকরা বঞ্চিত হচ্ছেন। ২০১৮ সালে যখন মূল্যসীমা চালু করা হয়েছিল তখন দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল ১৮ শতাংশ। এখন তা বেড়ে ৪৫ শতাংশ হয়েছে। স্মার্টফোন ব্যবহার ২৬ শতাংশ পরিবারের সংখ্যা ৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। কিন্তু গত তিন বছরে প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ নয়। স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল ফোন উৎপাদনে সরকারের দেওয়া সুবিধা কাজে আসছে না। তারা স্মার্টফোন উৎপাদন করছে না। ফিচার ফোনে গুরুত্ব দিলেও উৎপাদন কমছে।
তিনি আরও বলেন, আইটিইউ ২০১৮ সালে সব মিলিয়ে ১৩০ মেগার্জ তরঙ্গ ছিলো। এর ৬০-৭০ শতাংশ ভয়েসের জন্য ব্যবহৃত হতো। ২০২৬-এ এসে তা পৌঁছেছে ৩১৫ মেগাহার্জে। এই এক দশকে ১৪২ শতাংশ তরঙ্গ বাড়লেও অপারেটররা ৯০০ ব্যান্ডে ২ জিতে মাত্র ৫ শতাংশ ব্যবহার করে ৫০ শতাংশের ওপর মুনাফা করছে। দেশজুড়ে শতভাগ ৪জি নেটওয়ার্ক স্থাপনে এখনও ২০ হাজার টাওয়ার লাগবে। অথচ অপারেটররা শতভাগ কাভারেজ দিচ্ছে বলে দাবি করেছে। এসব কারণেই জিপি-কে এসএমপি বলা হলেও তা সফল হয়নি। এ কারণে গ্রামীণ ফোনের বাজার শেয়ার না কমে বাড়ছে।
রবির কর্মকর্তা সাহেদ আলম বলেন, একজন গ্রাহক ১০০ টাকা রিচার্জ করলে ৫৬ টাকার বেশি সরাসরি সরকার পায়। ভয়েস ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার আগে সামগ্রিকভাবে ‘কস্ট স্টাডি’ করতে হবে। নইলে একটি গোষ্ঠী এখানে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
বিটিআরসির উপপরিচালক মোহাম্মদ ফারহান আলম বলেন, ২০১৮ সালের পর টেলিযোগাযোগ সেবায় ‘কস্ট রিভিউ’ করা হয়নি। এটি বর্তমানে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।