হোম > ফিচার > তথ্য-প্রযুক্তি

সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে: প্রযুক্তিমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এমপি বলেছেন, বর্তমান সরকার দেশের অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্র সম্পদের বিজ্ঞানভিত্তিক টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করবে।

মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা শিপইয়ার্ডে বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে আমরা আমাদের নির্বাচনি ইশতেহারে বর্ণিত সুনীল অর্থনীতির সকল কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এর মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন করার লক্ষে সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রভিত্তিক শিল্প প্রযুক্তির উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সমুদ্রে পরিবেশ সংরক্ষণ,  গবেষণা এবং উদ্ভাবনে গুরুত্বারোপ করা হবে।

তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণার ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক। তিনি বলেন, একটি গবেষণা জাহাজের Keel Laying Ceremony হচ্ছে জাহাজ নির্মাণের প্রাথমিক ধাপ।  আজকের এই ভিত্তিপ্রস্তর বাংলাদেশের সমুদ্রবিজ্ঞান, সামুদ্রিক সম্পদ অনুসন্ধান, ব্লু ইকোনমি এবং টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যৎ যাত্রার দৃঢ় ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্যই ছিল দেশের সামুদ্রিক সম্পদ সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান বৃদ্ধি করা এবং সেই জ্ঞানকে জাতীয় উন্নয়নের কাজে লাগানো। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, মৎস্যসম্পদ, উপকূলীয় ইকোসিস্টেম, সামুদ্রিক দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। তবে আমরা সবাই উপলব্ধি করি যে আন্তর্জাতিক মানের সামুদ্রিক গবেষণার জন্য একটি নিজস্ব আধুনিক গবেষণা জাহাজ দীর্ঘদিনের প্রয়োজন ছিল। আজ সেই প্রয়োজন পূরণের পথে আমরা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী বলেন, নতুন গবেষণা জাহাজ সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক জীবপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটনসহ সমুদ্রকেন্দ্রিক বিষয় সমূহের তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং নীতি প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, পাশাপাশি আমাদের তরুণ গবেষকদের জন্য একটি কার্যকর প্রশিক্ষণ প্ল্যাটফর্‌ম হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সামুদ্রিক গবেষণায় আরও শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করবে।

মন্ত্রী সাগরের নিচে সামুদ্রিক সম্পদের প্রাচুর্যতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সাগরের নিচে এত খনিজ সম্পদ রয়েছে এটিকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। আর সে গবেষণার জন্যই  আমাদের ইঞ্জিনিয়ারদের দ্বারা আমাদের সক্ষমতায়  এই জাহাজ নির্মিত হতে যাচ্ছে। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের জন্য গৌরবের।

মন্ত্রী তার বক্তৃতায় বলেন, জাপানিরা সমুদ্রের তলদেশ হতে অনেক সামুদ্রিক খাবার আহরণ করছে।  আমরাও যদি সমুদ্রের নিচে যায়, গভীরে যাই তাহলে খাদ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, নতুন করে আরও মডার্ন ফিশিং শীপকে অনুমতি দেয়া হবে। সমুদ্র আজ কেবল খাদ্যের উৎস নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সুনীল অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক জীবপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পর্যটনসহ বিভিন্ন খাতে এর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বৈজ্ঞানিক রিসার্চ ভেসেল এ জানতে পারবো আমাদের সমুদ্র সীমানার মধ্যে কোথায় মাছের বসবাস।

মন্ত্রী বলেন, সমুদ্রের গভীরে কী আছে, কোন প্রজাতির জীব কোথায় বাস করে, কী ধরনের পরিবেশগত পরিবর্তন ঘটছে, কোন সম্পদ ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হতে পারে- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার জন্য অত্যাধুনিক গবেষণা অবকাঠামো প্রয়োজন। গবেষণা জাহাজ সেই অবকাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

মন্ত্রী জাহাজ নির্মাণ শিল্পে দেশের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশীয় প্রযুক্তি ও দক্ষতার মাধ্যমে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা জাহাজ নির্মাণের উদ্যোগ 'মেড ইন বাংলাদেশ' সক্ষমতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। এটি আমাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করবে এবং প্রমাণ করবে যে বাংলাদেশ এখন শুধু জাহাজ ব্যবহারকারী দেশ নয়, বরং জাহাজ নির্মাণেও একটি সক্ষম ও সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র।

মন্ত্রী  নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে এই গবেষণা জাহাজের নির্মাণকাজ সম্পন্নের নির্দেশ দেন।  তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন এটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক গবেষণার একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।

​অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কমডোর মো. মিনারুল হক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিয়ার এডমিরাল একেএম জাকির হোসেন।

অনুষ্ঠানে খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ হারুন, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ওশেনোগ্রাফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিওআরআই)-এর বিজ্ঞানী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকৌশলী, নৌ-প্রযুক্তিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ, গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস

মহাকাশে ঝড় : ১০০ কোটি টনের প্লাজমা মেঘ

প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা

প্রযুক্তিনির্ভর ফিফা বিশ্বকাপ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিকল্প নেই: আইসিটি মন্ত্রী

ফেসবুক ডাউন, ভোগান্তিতে ব্যবহারকারীরা

এআইনির্ভর লেখালেখি কি সৃজনশীলতার ক্ষতি করছে

মুসলিম গণিতবিদের নাম থেকে যেভাবে এলো ‘অ্যালগরিদম’

প্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব

এআই যুগে শিক্ষার্থীদের জন্য সেরা ছয় বিষয়