হোম > ফিচার > তথ্য-প্রযুক্তি

রোবট কি একদিন মানুষের জায়গা নেবে

আরিফ বিন নজরুল

একসময় রোবট ছিল শুধু বিজ্ঞান কল্পকাহিনির বিষয়। সিনেমায় দেখা যেত মানুষের মতো কথা বলা, কাজ করা কিংবা সিদ্ধান্ত নেওয়া যন্ত্র। কিন্তু প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে সেই কল্পনা এখন বাস্তবের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। কারখানার উৎপাদন লাইন থেকে হাসপাতাল, রেস্টুরেন্ট, এমনকি ঘরের ভেতরেও এখন রোবটের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের মধ্যেই একটি প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে—রোবট কি একদিন মানুষের জায়গা নিয়ে নেবে?

বর্তমানে বিশ্বের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ রোবট দিয়ে করানো হচ্ছে। কারণ রোবট ক্লান্ত হয় না, বিরতি চায় না এবং একই কাজ বারবার নির্ভুলভাবে করতে পারে। গাড়ি উৎপাদন, প্যাকেজিং, গুদাম ব্যবস্থাপনা বা ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরির মতো কাজে রোবট ইতোমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। যেমন : Tesla বা Amazon-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে দ্রুত ও কার্যকর করার জন্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI যুক্ত হওয়ার পর রোবটের সক্ষমতা আরো বেড়েছে। এখন শুধু যান্ত্রিক কাজ নয়, ডেটা বিশ্লেষণ, ভাষা বোঝা, এমনকি মানুষের সঙ্গে কথোপকথনও করতে পারছে অনেক সিস্টেম। হাসপাতালের অস্ত্রোপচার সহায়তা, গ্রাহকসেবা, অনুবাদ বা কনটেন্ট তৈরির মতো কাজেও AI-চালিত প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ছে। ফলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ভবিষ্যতে হয়তো অসংখ্য চাকরি হারিয়ে যাবে।

এই আশঙ্কা পুরোপুরি অমূলকও নয়। ইতিহাস বলছে, নতুন প্রযুক্তি আসার সঙ্গে সঙ্গে কিছু পেশা হারিয়ে যায়। যেমন : শিল্পবিপ্লবের সময় অনেক ম্যানুয়াল কাজ মেশিনের হাতে চলে গিয়েছিল। একইভাবে AI ও রোবটের যুগে কিছু প্রচলিত চাকরি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে, যেসব কাজ নিয়মিত ও পুনরাবৃত্তিমূলক। ক্যাশিয়ার, ডেটা এন্ট্রি, সাধারণ কাস্টমার সাপোর্ট বা কারখানার কিছু কাজ এর মধ্যে থাকতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে মানুষ অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাবে। কারণ রোবট যত উন্নতই হোক, মানুষের সৃজনশীলতা, আবেগ, নৈতিক সিদ্ধান্ত ও মানবিক বোঝাপড়ার বিকল্প এখনো তৈরি হয়নি। একজন শিক্ষক, চিকিৎসক, শিল্পী বা মনোবিজ্ঞানীর কাজ শুধু তথ্য দেওয়া নয়। সেখানে মানবিক সংযোগও গুরুত্বপূর্ণ। রোবট নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারে। কিন্তু মানুষের মতো অনুভব করতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতের বড় পরিবর্তন হবে ‘চাকরি হারানো’ নয়। বরং ‘চাকরির ধরন বদলে যাওয়া’। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে নতুন দক্ষতা প্রয়োজন হবে। যেমন : AI পরিচালনা, রোবট মেইনটেন্যান্স, ডেটা বিশ্লেষণ বা সৃজনশীল প্রযুক্তিভিত্তিক কাজের চাহিদা বাড়তে পারে। অর্থাৎ প্রযুক্তি কিছু দরজা বন্ধ করলেও নতুন দরজাও খুলে দেবে। সবশেষে বলা যায়, রোবট হয়তো মানুষের কিছু কাজের জায়গা নেবে, কিন্তু পুরো মানুষকে নয়। প্রযুক্তি যতই এগোক, মানুষের চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধই থাকবে সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই ভয় পাওয়ার বদলে সময়ের সঙ্গে নিজেকে প্রস্তুত করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

জন্মদিন মনে করিয়ে দেবে হোয়াটসঅ্যাপ, আসছে নতুন রিমাইন্ডার ফিচার

কতটা নির্ভরযোগ্য উইকিপিডিয়ার তথ্য

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে ‘আসক্তি তৈরির ছক’ পাল্টানোর নির্দেশ ইইউর, না হলে জরিমানা

সমালোচনার পর ইনস্টাগ্রামের বিতর্কিত সুবিধা সরিয়ে নিল মেটা

নম্বরের বদলে ইউজারনেম দিয়েই চ্যাট করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপে, ঝুঁকি কোথায়

বর্জ্য থেকে জ্বালানি

মহাকাশের বিস্ময় ‘রেড স্প্রাইটস’

রাস্তায় এআই ক্যামেরায় সাফল্য

সাইবার নিরাপত্তায় ফিনিক্স সামিট ২০২৬

ধারণক্ষমতা ঘাটতির কারণে এআই ব্যবহারে লাগাম টানল গুগল