হোম > ফিচার > সাহিত্য সাময়িকী

মুসা আল হাফিজ-এর কবিতা

হাজেরা

বৃষ্টি বইছে

সমস্ত অনুচ্চারিত প্রেমের উচ্চারণে।

হাওয়ার দৌড় মানেই রহস্য।

অপেক্ষার মেঘবুকে বর্ষণের সংকেত দিয়ে

পৃথিবীর ললাটে বোনে উদ্‌গমের বীজ!

ঘাস কাঁপছে—আসছে আলিঙ্গন!

বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা মাঠের হৃদয়ে—

মেঘ-বাতাসের কামজলে পাখির পালক ভিজে ওঠে

প্রতিটি দিশায় তার জলের শিহরন।

কাদামাটির গন্ধে জেগে ওঠে কৃষকের যৌবন,

মাটির স্তরে স্তরে গর্জে ওঠে ইতিহাস,

বৃষ্টি নামে—

আদমের শস্যগাঁথা গীত হয় ক্ষেতের ডগায়।

সহসা জলবায়ুর রোষের বিস্তার।

পলিথিনে মোড়া শিশু হাজেরা—

কপালে এখনো লেগে আছে দুপুরের ঘুম!

বৃষ্টিতে কাদায় পা ভিজলে বলত, মা, মাটি কাঁদছে?

তার ছেঁড়া কাপড়ের পুতুলের নাম মায়া —

একটামাত্র চোখের বোতাম, নাম জোনাকি।

হাজেরার চোখ মায়ার জোনাকির সাথে স্বপ্ন দেখত।

আজ কেউ নেই।

মা তাকে হারিয়ে কাঁদছে চাতালের কোণে

বুক জুড়ে বন্যার থাবা—

দুধের গন্ধে ভেজা গামছাও

ভেসে গেছে অচেনা দিগন্তে।

হাজেরা—বন্যার অন্তর্লিখনে স্থগিত এক নাম, প্রহরের ক্ষতে লেখা জলের ইতিহাস ।

মায়ের আর্তি রাষ্ট্রের পাথর-নীরব দেয়ালে প্রতিধ্বনিহীন...

ত্রাণের সারিও জানে না হাজেরার নাম

সংস্থার খাতায় বাজেটের সংখ্যাগুলো নদীহীন মানচিত্রের মতো।

আলোহীন বাতিগুলো জলের কবিতা পাঠ করছে,

প্রতিটি ছায়া শব্দহীন সুরে ভিজে আছে,

বৃষ্টির ঘুমে ঢেকে আছে শহরের নাভিমূল।

নদীর কাদায় মুখ গুঁজে পড়ে থাকা পুতুলটি

হাজেরাকে ডেকেছে সারারাত ।

ঘুমশেষের ভোরে রাষ্ট্র জানাল : মৃত্যু—১২, নিখোঁজ—২৫।

তারপর টেবিলে কফি রেখে,

নতুন খসড়া।

শিশুটির চোখে ছিল নদী

তা এখন কারো চোখে নেই।

শুধু আকাশে, বাতাসে, গামছার ছেঁড়া প্রান্তে—

জলের দহন হয়ে বারবার কে হারায়?

হাজেরা, হাজেরা…

স্লোগানের দর্শন এবং ইনকিলাব জিন্দাবাদ

রোমাঞ্চ, ইতিহাস আর প্রকৃতি

খালেকুজ্জামানের চাকরিজীবন

তত্ত্ব-বাহাসের গভীর ও সহজ সন্ধান

১ ফেব্রুয়ারি প্রতীকী বইমেলা সফল করার আহ্বান

ব্রিটিশবিরোধী আজাদি আন্দোলনের মহানায়ক

বাংলাদেশের সাহিত্যে হেজেমনি ও ফ্যাসিবাদ

আধুনিক বাংলা সাহিত্যজাগরণে বাঙালি মুসলমান

ভবিষ্যতের পৃথিবী

মোহাম্মদ ঘোরী ও পৃথ্বীরাজের লড়াই