হোম > ফিচার > আমার জীবন

বৃষ্টি ও সমুদ্র : পরিবারের সঙ্গে আনন্দ সফর

হুসাম মুহাম্মদ নুহাদ

হঠাৎ বাবার ফোন। আম্মুকে বললেন, ‘কক্সবাজার যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। তৈরি হয়ে নিয়ো।’ আমি আম্মুর পাশে বসে, বাবার কথা শুনেই আনন্দে মন ভরে গেল। সমুদ্র দেখার সুযোগ যেন হঠাৎ করেই দরজায় কড়া নাড়ল। এরপর ঠিক হলো, ৬ জুলাই আমরা কক্সবাজার যাব।

ভ্রমণের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল। ৫ জুলাই নোয়াখালী থেকে ঢাকায় চলে এলাম। পরদিন দুপুর ১২টায় আমাদের ফ্লাইট। তাই সকাল ১০টায় বাসা থেকে বেরিয়ে সিএনজিতে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিলাম। প্রায় এক ঘণ্টা ১৫ মিনিটের মধ্যেই বিমানবন্দরে পৌঁছে যাই।

সময়মতো ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ছেড়ে যায়। কক্সবাজার বিমানবন্দরেও নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাই। তবে বিমান থেকে নামতে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয়, কারণ তখন সেখানে প্রচণ্ড বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির মধ্যেই বিমানবন্দর থেকে হোটেলের উদ্দেশে রওনা দিলাম। হোটেলে পৌঁছে দুপুরের খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলাম। এই ভ্রমণে আমার সঙ্গে ছিলেন বাবা, মা ও আমার আদরের ছোট ভাই হাসিন মাহমুদ নায়ীব।

বৃষ্টি উপেক্ষা করে সৈকতে

হোটেলে বসে থাকতে আর ভালো লাগছিল না। বাইরে তখন টানা বৃষ্টি। এর মধ্যে জানতে পারলাম, ৪ নম্বর সতর্কসংকেত চলছে। বিষয়টি কিছুটা চিন্তায় ফেললেও সমুদ্র দেখার আগ্রহ দমে গেল না। আমি বাবাকে সৈকতে যাওয়ার জন্য বারবার তাগাদা দিতে থাকলাম। শেষ পর্যন্ত বাবা বৃষ্টির মধ্যেই আমাদের নিয়ে বের হলেন। প্রথমে গেলাম কলাতলী বিচে। ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। চারদিকে অন্ধকার, সমুদ্রের গর্জন আর বৃষ্টি—সব মিলিয়ে পরিবেশটা ছিল অন্য রকম।

প্রায় দুই ঘণ্টা সেখানে ঘোরাঘুরি করলাম। ছোট ভাই নায়ীব কিছুটা ভয় পাচ্ছিল। সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ, বৃষ্টির ঝাপটা আর অন্ধকার তাকে অস্বস্তিতে ফেলেছিল। তবে পরিবারের সবাই একসঙ্গে থাকায় সেই ভয়ও ধীরে ধীরে আনন্দে পরিণত হয়।

সৈকত থেকে হোটেলে ফিরে রাতের খাবার খেয়ে নিলাম। দিনভর ভ্রমণের ক্লান্তি থাকলেও মনজুড়ে ছিল সমুদ্রের স্মৃতি।

এক সৈকত থেকে অন্য সৈকতে

পরদিন সকালে আবার বেরিয়ে পড়লাম। ঘুরলাম সুগন্ধা বিচ ও লাবণী বিচ। একের পর এক সৈকত দেখার আনন্দে সময় কীভাবে কেটে যাচ্ছিল, টেরই পাচ্ছিলাম না। এরপর সিএনজিতে করে ইনানী বিচের উদ্দেশে রওনা হলাম। যেতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগল। তবে এর জন্য ভাড়া দিতে হয়েছে ১ হাজার ২০০ টাকা।

ইনানীর পথে প্রকৃতির সৌন্দর্য আমাদের মুগ্ধ করছিল। একপাশে উঁচু পাহাড়, অন্যপাশে বিশাল সমুদ্র। বৃষ্টিভেজা প্রকৃতির এই দৃশ্য ভ্রমণের আনন্দ আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল। আমার ছোট ভাই নায়ীবও পুরো পথ দারুণ উপভোগ করছিল।

ঢেউয়ের সঙ্গে নায়ীবের আনন্দ

ইনানী বিচে পৌঁছে বৃষ্টির মধ্যেই সমুদ্রে নেমে পড়লাম। তবে তার আগে আমরা চারজন একসঙ্গে বিচ বাইকে উঠলাম। পরিবারের সবাই মিলে সেই মুহূর্তটি বেশ উপভোগ করেছি।

প্রথমে নায়ীব পানিতে নামতে চাইছিল না। সমুদ্রের ঢেউ দেখে তার মধ্যে কিছুটা ভয় কাজ করছিল। কিন্তু পরে সে নিজেই ঢেউয়ের আনন্দে মেতে ওঠে। তার হাসি আর উচ্ছ্বাস আমাদের আনন্দকে আরো বাড়িয়ে দেয়।

বৃষ্টি তখনো থামেনি। কিন্তু সেই বৃষ্টি আমাদের আনন্দকে আটকে রাখতে পারেনি। বরং বৃষ্টির মধ্যে সমুদ্রের ঢেউ উপভোগ করার অভিজ্ঞতা ভ্রমণটিকে আরো স্মরণীয় করে তুলেছিল।

সতর্কসংকেতের মধ্যেও আনন্দের তিন দিন

কক্সবাজারে আমরা তিন দিন কাটিয়েছি। পুরো সময়জুড়েই ছিল বৃষ্টি ও সমুদ্রের সতর্কসংকেত। তবু পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে থাকার আনন্দে সেসব বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

বৃষ্টির মধ্যে সৈকতে ঘোরাঘুরি, ঢেউয়ের শব্দ শোনা, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করা—সব মিলিয়ে তিনটি দিন কেটে গেল দারুণভাবে। প্রতিটি মুহূর্তেই মনে হচ্ছিল, এই সময়গুলো যেন আরো দীর্ঘ হয়।

সৈকত ছাড়ার সময় মন খারাপ

ঢাকায় ফেরার আগের দিন সকালে আবার বেরিয়ে পড়লাম সৈকত দেখার জন্য। সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে আর ফিরে আসতে ইচ্ছা করেনি। ঢেউয়ের ওঠানামা, বৃষ্টিভেজা বাতাস আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময়—সবকিছুই মনে গেঁথে যাচ্ছিল।

সৈকতে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর গেলাম সি-ইন বার্মিজ মার্কেটে। সেখান থেকে বাড়ির সবার জন্য বিভিন্ন ধরনের আচার কিনে নিলাম। ভ্রমণের স্মৃতির সঙ্গে পরিবারের জন্য কেনাকাটাও যেন আনন্দের একটি অংশ হয়ে উঠল।

শেষ পর্যন্ত কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলাম। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সেখান থেকে নোয়াখালীর পথে যাত্রা করলাম।

কক্সবাজারের সেই তিন দিন আজও মনে পড়ে। বৃষ্টি, সমুদ্রের গর্জন, পাহাড়, ঢেউ আর পরিবারের সঙ্গে কাটানো আনন্দময় মুহূর্ত—সব মিলিয়ে ভ্রমণটি আমার জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি হয়ে থাকবে। সমুদ্রের কাছে গিয়ে যেমন প্রকৃতিকে নতুন করে চিনেছি, তেমনি পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দও আরো গভীরভাবে অনুভব করেছি।

রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ড : বর্ণিল অভিজ্ঞতা

ভ্রমণের দ্বিতীয় দিন রেডিয়েন্ট ফিশ ওয়ার্ল্ডে দারুণ কিছু সময় কাটল। মাত্র ৩০০ টাকার প্রবেশ টিকিট কেটে ভেতরে পা রাখতেই চমৎকার এক চমক, যা সত্যিই মন ছুঁয়ে যায়। ভেতরে ঢুকতেই যেন চোখের সামনে ভেসে উঠল এক মায়াবী জলজ রাজ্য! কী নেই সেখানে? পুকুর আর সাগরের তলদেশের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ এমনভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যে মনে হয়, সত্যিই আমরা সাগরের তলদেশে হেঁটে বেড়াচ্ছি; আর চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে রঙ-বেরঙের দলছুট মাছ।

সাগর ও মিঠাপানির প্রায় ১০০ প্রজাতির মাছ ও প্রাণী দেখার সুযোগ হলো। ভেতরের নান্দনিক ডেকোরেশন পুরো পরিবেশকে যেন অন্য এক রূপ দিয়েছে। উপভোগ করলাম রোমাঞ্চকর থ্রিডি শো দেখার দারুণ সুযোগ। তবে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পেয়েছে ঘরের ছোট্ট সদস্যটি। বর্ণিল সব মাছের কাণ্ডকারখানা দেখে ওর যে কী আনন্দ আর লাফালাফি, তা ছিল দেখার মতো! জলজ পৃথিবীর এমন মুগ্ধকর অভিজ্ঞতা সত্যিই বহুদিন মনে রাখার মতো।

সতর্ক থাকা জরুরি

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া কিংবা সমুদ্রবন্দরে স্থানীয় সতর্কসংকেত (৩, ৪, ৭ বা তার বেশি নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত) জারি হলে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠে। এ সময় পর্যটক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তায় প্রশাসন সমুদ্রে নামার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। তাই নিষেধাজ্ঞা থাকলে সমুদ্রে নামা থেকে বিরত থাকুন।

লাল পতাকা দেখলে সতর্ক হোন : সৈকতে লাল পতাকা উড়তে দেখলে বুঝবেন, সমুদ্রে নামা বিপজ্জনক। এ সময় পানিতে নামা থেকে বিরত থাকুন।

লাইফগার্ডের নির্দেশনা মানুন : সবসময় লাইফগার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশের নির্দেশনা মেনে চলুন। তাদের অনুমতি ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যাবেন না।

জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন : সমুদ্রে নামার আগে জোয়ার-ভাটার সময় সম্পর্কে জেনে নিন। পানির স্রোত ও আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

দুর্গাপূজার অনুষঙ্গ…

সর্বজনীন ফ্যাশন হয়ে উঠছে টোট ব্যাগ

কাশফুলের অরণ্যে...

পূজার খাবার

লা রিভে পূজার পোশাক

কম্পিউটার টেবিল হোক আরামদায়ক

পুলিশ প্লাজায় মডেস্ট ফ্যাশনের ‘আবায়া অ্যান্ড গাউন’

বৃষ্টি নামলেই খেতে পারেন যেসব খাবার

মাহাথিরের দেশ মালয়েশিয়ায়

টাইলস পরিষ্কার ও ঝকঝকে রাখার উপায়