হোম > ফিচার > আমার জীবন

বাইরে বৃষ্টি ঘরে হবে খিচুড়ি

রোজিনা আক্তার

বাঙালি চিরকালই ভোজনবিলাসী; আর যদি হয় ঝরঝর বৃষ্টির দিন! এমন বৃষ্টিতে খাবার টেবিলে একটু ভিন্নতা এনেও করা যেতে পারে বৃষ্টিবিলাস। আকাশে মেঘ দেখলেই সবার আগে খিচুড়ির কথাই মাথায় আসে। বৃষ্টিতে তখন ঘরবন্দি হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আড্ডাটা আরো জমে উঠবে, যদি থাকে ধোঁয়া ওঠা গরম গরম সুস্বাদু খিচুড়ি। এমন বৃষ্টিমুখর দিনে গরম গরম ভুনা খিচুড়ি বা পাতলা খিচুড়ি খাওয়ার মজাই আলাদা; আর যদি সঙ্গে থাকে শুঁটকি ভর্তা ও গরুর মাংস ভুনা।

পাতলা খিচুড়ি

উপকরণ : চিনিগুঁড়া বা ভাতের চাল ৫০০ গ্রাম, মসুর বা ভাজা মুগ ডাল ১ কাপ, সবজিকাটা দুই কাপ পরিমাণ (পছন্দমতো আলু, গাজর, মিষ্টিকুমড়া, বরবটি, ফুলকপি ও মটরশুঁটি), তেল ও ঘি দুই টেবিল চামচ, ফোড়নের জন্য ২টি তেজপাতা, সামান্য জিরা ও দারুচিনি, আদাবাটা ১ চা চামচ, হলুদগুঁড়া দেড় চা চামচ, মরিচগুঁড়া ১ চা চামচ, কাঁচামরিচ ৬টি, লবণ স্বাদমতো ও পানি পরিমাণমতো।

প্রণালি : চাল ও ডাল একসঙ্গে ধুয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। হাঁড়িতে তেল ও ঘি গরম করে ফোড়নের মসলাগুলো দিন। আদাবাটা ও গুঁড়া মসলা সামান্য পানি দিয়ে কষিয়ে নিন। ধুয়ে রাখা চাল-ডাল দিয়ে কিছুক্ষণ ভাজুন। পছন্দমতো সবজি ও পরিমাণমতো গরম পানি দিয়ে দিন। সব সেদ্ধ হয়ে চাল ফুটে নরম না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। নামানোর আগে কাঁচামরিচ ও সামান্য ঘি ছড়িয়ে নামিয়ে নিন।

গরুর মাংস ভুনা

উপকরণ : মাংস এক কেজি, তেল ১ কাপ, পেঁয়াজকুচি ১ কাপ, কিশমিশ ৫০ গ্রাম, পেঁয়াজ-রসুন-আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, মাখন ৫০ গ্রাম, কোরানো নারকেল আধা কাপ, মরিচগুঁড়া ২ চা চামচ, হলুদগুঁড়া এক চা চামচ, ধনেগুঁড়া এক চা চামচ, দারুচিনি ৩ টুকরো, এলাচ ৪-৫টি, লবণ পরিমাণমতো, টকদই ১ কাপ ও কাঁচামরিচ ৫-৭টি।

প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে কড়াইতে মাখন গরম করুন। পেঁয়াজ ও কিশমিশ দিয়ে পাঁচ মিনিট ধরে ভাজুন। সব মসলা দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে মাংস দিয়ে দিন। আঁচ কমিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট ঢাকা দিয়ে রান্না করুন যতক্ষণ না মাংস নরম হয়। এবার বাকি সব উপকরণ দিয়ে আরো তিন-চার মিনিট রান্না করুন। সবশেষে কাঁচামরিচ ছিটিয়ে দিন। সার্ভিং ডিশে ঢেলে গরম গরম পরিবেশন করুন।

নারকেল দুধে ভুনা খিচুড়ি

উপকরণ : নারকেল ১টি, চাল ১ কেজি, মুগ ডাল ১০০ গ্রাম, আলু ৩টি, টমেটো ১টি, কাঁচামরিচ ৫টি, ধনেপাতাকুচি ২ চা চামচ, হলুদ ১ চা চামচ, জিরা ১ চা চামচ, ঘি পরিমাণমতো ও গরমমসলাগুঁড়া ১ চা চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি : নারকেল কুরে তা থেকে দুধ বের করে চাল ও ডাল ভেজে নারকেল দুধে আধা সেদ্ধ করুন। কড়াইয়ের ঘি গরম করে জিরা, তেজপাতা ও কাঁচামরিচ ফোড়ন দিন। এতে আলু, টমেটো ও মটরশুঁটি দিয়ে ভেজে তাতে চাল-ডাল ঢেলে নাড়তে থাকুন। হলুদ, লবণ ও চিনি দিন। সব সেদ্ধ হয়ে মাখা মাখা হলে নামিয়ে সামান্য ঘি ও গরমমসলারগুঁড়া ছড়িয়ে দিন।

পটোলের খোসা দিয়ে চিংড়ি ভর্তা

উপকরণ : পটোলের খোসা এক কাপ, মাঝারি সাইজের চিংড়ি মাছ পাঁচটি, পেঁয়াজকুচি দুই টেবিল চামচ, রসুনকুচি এক চা চামচ, আদাকুচি এক চা চামচ, হলুদ সামান্য, শুকনো মরিচ চারটি, লবণ পরিমাণমতো ও সরষের তেল এক টেবিল চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি : পটোলের খোসা ছাড়িয়ে রাখুন। পটোলের খোসা ও চিংড়ি ভালো করে ধুয়ে হলুদ ও লবণ মাখিয়ে বাকি সব উপকরণসহ অল্প আঁচে সামান্য পানি ছিটিয়ে ভেজে নিন। এমনভাবে ভাজতে হবে যেন চিংড়ি সেদ্ধ হয়। ভাজা হলে এবার সব মিহি করে বেটে নিন।

এ মজাদার ভর্তা খুব সহজে বাসায় তৈরি করে ফেলুন এবং গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

বেগুন-শুঁটকি ভর্তা

উপকরণ : ছুরি শুঁটকি ছোট করে কাটা এক কাপ, বেগুন মাঝারি আকারের ২টা, পেঁয়াজকুচি এক কাপ, রসুনকুচি ১/২ কাপ, জিরাগুঁড়া আধা চা চামচ, হলুদগুঁড়া আধা চা চামচ, মরিচগুঁড়া এক চা চামচ, শুকনো মরিচ কুচি ২ চা চামচ, লবণ পরিমাণমতো, তেল ৩/৪ চা চামচ।

প্রস্তুত প্রণালি : প্রথমে শুঁটকি মাছ গরম পানিতে ভালো করে ধুয়ে নিন। বেগুন কেটে সামান্য হলুদ আর লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে নিন।

এবার প্যানে তেল দিয়ে পেঁয়াজ ও রসুনকুচি সামান্য ভেজে বাকি মসলা দিয়ে কষিয়ে মাছে দিয়ে দিন। প্রয়োজনে সামান্য পানি দিন। অল্প আঁচে মাছ সেদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। এবার বেগুন ভর্তা দিয়ে দিন। ভালো করে নেড়ে রান্না করুন।

ভর্তাটা শুকিয়ে তেল ছেড়ে এলে নামিয়ে নিন। সবশেষে বেগুন-শুঁটকি ভর্তা সুন্দরভাবে পরিবেশন করুন।

বর্ষার চার দূত

বাদলা দিনে পায়ের বাড়তি যত্ন

যে কথা হয়নি বলা...

টুনু ও তার বাবার গল্প

বাবাকে নিয়ে অসমাপ্ত গল্প

বিড়ালপ্রেমীদের জন্য মুহাম্মদ রাজের নতুন উদ্যোগ

মাছের কয়েক পদ

আখাউড়ার পথে-প্রান্তরে

বাহারি কাটে সালোয়ার

তীব্র গরমে ঘর ঠান্ডা রাখার উপায়