হোম > ফিচার > নারী

লেখক এবং বইয়ের গল্প

রুশিতা রূপন্তী

জুবাইদা পারভীন লিপি

লেখক, আবৃত্তিশিল্পী ও বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান ঘোষক

একাত্তরের যুদ্ধে যখন দেশের অবস্থা টালমাটাল, সে বছরের জুলাই মাসে রাজশাহীতে জন্মগ্রহণ করেন এই লেখিকা। রাজশাহী সরকারি পিএন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাসের পর রাজশাহী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে মেধা তালিকায় চতুর্থ স্থান অধিকার করেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।

তিনি শুধু মেধাবী শিক্ষার্থীই ছিলেন না, নিজেকে একজন লেখক এবং বাচিকশিল্পী হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করেছেন। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখি শুরু করেন লিপি। মেজো খালার অনুপ্রেরণায় লেখালেখির জগতে প্রবেশ করেন তিনি। পরে বাবার উৎসাহে বিভিন্ন সময় স্কুলের দেয়ালিকা, লিটল ম্যাগাজিন, স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন অনলাইন ফোরামেও তিনি লিখছেন।

অমর একুশে বইমেলা-২০২৫-এ চলন্তিকা প্রকাশনী থেকে ‘বিধিলিপি’ নামে তার একটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। বইটির মূল্য ২৫০ টাকা।

বইটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

জীবন কখনো সহজ, কখনো জটিল—তবু তার প্রতিটি বাঁকে লুকিয়ে থাকে গল্প। বিধিলিপি এমন সাতটি গল্পের মেলবন্ধন, যেখানে উঠে এসেছে জীবনের জটিলতা, সম্পর্কের টানাপড়েন এবং হৃদয়ের নান্দনিক অনুভূতির চিত্র। প্রেম-বিরহ, আশা-নিরাশা কিংবা পাওয়া না পাওয়ার সমীকরণ গল্পগুলোর প্রতিটি স্তরে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। সবকিছু মিলিয়ে বিধিলিপি তৈরি করেছে জীবনের রঙিন ও ধূসর ক্যানভাস। কেননা এই গল্পগুলো কখনো স্থায়ী ঠিকানার সন্ধান দেয়, কখনো সম্পর্কের নিঃসঙ্গতা অনুভব করায়। কখনো পিছুটানের গভীরে ডুব দিয়ে বলে যায় না পাওয়া ভালোবাসার কথা। আবার কখনো জীবনের প্রতীক হয়ে ছুটে চলা ট্রেনের যাত্রায় উঠে আসে আমাদের না বলা গল্পগুলো। প্রতিটি গল্প জীবনের এক ভিন্ন রূপকথা বলে—কখনো সুখের আলো, কখনো বেদনার ছায়ায় আচ্ছাদিত। এখানে জীবনের বাস্তবতা মিশে গেছে আবেগের সূক্ষ্ম রঙে। সহজ অথচ গভীর ভাষার এই গল্পগ্রন্থ পাঠককে ভাবাবে, আবেগে ভাসাবে এবং জীবনের প্রতিচ্ছবি হয়ে নতুন করে দেখার চোখ দেবে। বিধিলিপি আমার কাছে শুধু একটি বই নয়, জীবনের গল্প শোনার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

লেখকের অন্যান্য বই

আমার যত কথা (কাব্যগ্রন্থ)

নিয়তি (গল্পগ্রন্থ)

দিনবদল (গল্পগ্রন্থ)

জীবনের অষ্টব্যঞ্জন (উপন্যাস)

গোধূলিতে মধুমাস (গল্পগ্রন্থ)

স্বপ্ন

লেখালেখি, আবৃত্তি এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশ বেতারের অনুষ্ঠান ঘোষক হিসেবে সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন লিপি। এসব নিয়েই তিনি সামনে এগিয়ে যেতে চান।

এ্যানি আক্তার

লেখক ও আবৃত্তিশিল্পী

শিকড় ময়মনসিংহে হলেও, এই লেখিকার জন্ম কাতারে। পরে অবশ্য বেড়ে ওঠেন নিজ জেলাতেই। বিদ্যাময়ী গভ. গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং নাসিরাবাদ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ এবং ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন।

২০২৫ অমর একুশে বইমেলায় কিংবদন্তি পাবলিকেশনস থেকে ‘বৃষ্টির চোখে জল’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে এ্যানির। বইটির মুদ্রিত মূল্য ৩৩৪ টাকা। লেখালিখি ছাড়াও তিনি একজন আবৃত্তিশিল্পী এবং উদ্যোক্তা।

বইটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

ঠিক যেমন সুখ আর দুঃখ একসঙ্গে পুষে রাখে রাতের বালিশ, তেমনি কবিতার গায়েও একসঙ্গে ছুঁয়ে থাকে প্রেম-বিরহ, সুখব্যথা-দুঃখব্যথা, ভালোবাসা-মন্দবাসা। কখনো কখনো সুখকে ছাপিয়ে দুঃখরা দীর্ঘমেয়াদি গল্প লিখে যায় কবিতার শরীরে। সুখও সময় পেরোলে বিষাদ হয়ে ওঠে, হঠাৎ গাছ থেকে একটি হলুদ ফুলের ঝরে পড়া মুহূর্তের মতো যাকে আমরা ‘বিচ্ছেদ’ বলে ডাকি। কোনো এক বৃষ্টিস্নাত রাতে আকাশের দিকে তাকালে হঠাৎ বুকের বাঁ পাশে দস্তক দেয় সন্ধ্যাতারা বা দুঃখবিলাসী ফুল । যে ফুলের ঘ্রাণ আজন্ম লেগে থাকে বুকের বাঁ পাশে থাকা পৃথিবীর সব প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার গায়ে। তাই তো কবিতাই প্রেম, কবিতাই বিরহ, কবিতাই জীবন গল্পের কথা বলে। কখনো বা এই বিচ্ছেদ বা

বিরহ ‘ইবাদতের অশ্রু’ হয়ে ওঠে—

‘আমার কাছে ভালোবাসাটা ছিল আমার ‘ইবাদত’

আর আপনার কাছে ছিল শুধুই ‘সময়ের প্রয়োজন’,

যা সময়ের পরিক্রমায় ম্লান হয়ে গেছে—

হয়তো হারিয়েও গেছে

অথচ আমি আজও রোজ জায়নামাজে বসে ইবাদতের অশ্রু জমা রাখি।’

এ্যানি বলেন, ‘লেখালিখিটা আমার মনের খোরাক। শুরুতে ছোট ছোট কবিতা লিখতাম, যা শুধুই নিজের জন্য, ভালো লাগা থেকে। ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে ধীরে ধীরে কবিতাগুলো পাঠকপ্রিয় হতে শুরু করে। তারপর টুকরো টুকরো লেখাগুলোকে মলাটবদ্ধ করার সাহস সঞ্চার হয়। ২০২১ সালে প্রকাশ করি আমার প্রথম কাব্যগ্রন্থ। মূলত পাঠকরাই আমার লেখালিখির অনুপ্রেরণা।’

লেখকের অন্যান্য বই

জলকাব্য (কাব্যগ্রন্থ)

মোহমায়া (কাব্যগ্রন্থ)

আমার শুধু এই তুমিটাই চাই (কাব্যগ্রন্থ)

দুঃখ আমার পদ্ম পাতার জল (গল্পগ্রন্থ)

স্বপ্ন

লেখালেখি নিয়ে স্বপ্নের কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সাহিত্যাঙ্গনে নিজের দৃঢ় একটা অবস্থান তৈরি করা এবং লেখার মাধ্যমে পাঠকের হৃদয়ে আজীবন বেঁচে থাকাটাই আমার কাম্য।’

খন্দকার ফাহমিদা ফেরদৌস

লেখক ও কর্মজীবী

খন্দকার ফাহমিদা ফেরদৌস সিলেটের মেয়ে। সিলেটের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতি ও নির্মল আকাশ দেখে আর ভোরের কুয়াশা গায়ে মেখে তার বেড়ে ওঠা। বর্তমানে ঢাকা শহরের বসুন্ধরায় স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে তার বসবাস। তার স্বামী স্বনামধন্য সাংবাদিক। পেশাগত জীবনে ফাহমিদা একজন ব্যাংকার। শখের বশে অবসরে লেখালেখি করেন। ২০২৫ সালের অমর একুশে বইমেলায় মেঘদূত প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয়েছে ‘সোনাপুর চা বাগান ও একটি হলুদ শাড়ি’ নামে তার একটি গল্পগ্রন্থ।

বইটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ

সায়ন্ত আর বীথি কিছুক্ষণ হাওরের পাড়ে দাঁড়িয়ে গল্প করে। তারপর দুজন মিলে একটা নৌকায় চড়ে। নৌকার একপাশে বসে মাঝি দাঁড় টানে, আর আরেক পাশে বীথি বসে। সায়ন্ত বসে বীথির দিকে মুখ করে নৌকার মাঝখানে। বীথি আনমনে হাওরের পানিতে হাত ভেজায়, মাঝে মাঝে পানি ছিটায়। গোধূলির কমলা আলোয় মেয়েটাকে কী অদ্ভুত সুন্দর লাগছে! সবুজ শান্ত প্রকৃতির মধ্যে নৌকায় বসা লাল টুকটুকে শাড়ি পরা এক তরুণী, বাতাসে তার খোলা চুলগুলো উড়ছে। মনে হচ্ছে পানি থেকে জলপরী উঠে এসেছে। সায়ন্ত মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে বীথির দিকে, চোখ ফেরাতে পারছে না। বীথির অবশ্য সেদিকে তেমন কোনো খেয়াল নেই, সে আনমনে পানি নিয়ে নাড়াচাড়া করছে।

অনেক রাত অব্দি ঝড়-বৃষ্টি চলতে থাকে। বিভিন্ন জায়গায় গাছ ভেঙে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। একপর্যায়ে বীথি বাধ্য হয়েই রাতে বাংলোয় থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির কারণে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বাংলোয় অনেকক্ষণ জেনারেটর চালানোর পর তেলও ফুরিয়ে গেছে। কাজের সাহায্যকারী হারিকেন আর মমবাতি জ্বালিয়ে রেখেছে বাংলোর বিভিন্ন জায়গায়। বেশ ঘুটঘুটে অন্ধকারে সময় কাটে দুজনের। তবে হারিকেন আর মোমবাতির আলোয় বেশ একটা মায়াময় পরিবেশের তৈরি হয়েছে বাংলাজুড়ে।

লেখকের অন্যান্য বই

স্পর্শের বাইরে (কাব্যগ্রন্থ)

মন শুধু মন ছুঁয়েছে (গল্পগ্রন্থ)

লেখকের কথা

আমি ভীষণ আবেগপ্রবণ মানুষ। আমার কাছে সম্পর্কের গুরুত্ব অনেক বেশি, যেগুলো টাকাপয়সা বা বৈষয়িক অন্য কিছু দিয়ে মাপা যায় না। আমার গল্পের নায়ক-নায়িকারাও খুব আবেগপ্রবণ হয়ে থাকেন।

তারা সম্পর্ক রক্ষা করতে জীবন বাজি রাখতেও প্রস্তুত থাকেন। গল্পের নায়িকারা তাঁতের শাড়ি পরতে ভীষণ পছন্দ করেন। তারা মাঝেমধ্যেই লম্বা চুল ছেড়ে বা বেণি দুলিয়ে পায়ে নূপুর ও হাতে কাচের চুড়ি পরে এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করেন। আমার গল্পের বইয়ের নাম ‘সোনাপুর চা বাগান ও একটি হলুদ শাড়ি’।

বইটিতে কিছু অতিপ্রাকৃতিক ঘটনার খোঁজও পাওয়া যায়। তা ছাড়া চা বাগান, কাঠগোলাপ, কৃষ্ণচূড়া, ভাট ফুল ও বিভিন্ন রকমের পাখির দেখাও পাওয়া যায় বইটিতে।

মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন যারা

সেলিমার ‘হোমমেড’ থেকে ‘হোমব্র্যান্ড’

রমজানে ইবাদত ও সাংসারিক অদৃশ্য শ্রম

নিজের কাজকে ভালোবাসতে হবে: শর্মি

দৃঢ় প্রত্যয় থেকেই বিসিএস ক্যাডার অনন্যা

নারীবান্ধব রাষ্ট্রনীতি ও তাদের সিদ্ধান্তের মূল্যায়ন চাই

ভোটের মাঠে নারীর পদচারণা

স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া ও ভালোবাসা পাচ্ছেন নারী প্রার্থীরা

নিরাপদ খাবার নিয়ে সাবিহার পথ চলা

রাজধানীতে শীতকালীন উদ্যোক্তা মেলা