আমার দেশ পাঠকমেলা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জবি পাঠকমেলার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তরিক ও প্রাণবন্ত পরিবেশে আয়োজিত কর্মশালায় পাঠকমেলার সদস্যরা অংশ নেন।
কর্মশালার বিশেষ আলোচ্য বিষয় ছিল ‘অনলাইনে নারীরা কীভাবে নিরাপদ থাকবেন’। আলোচনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার, নারীর অনলাইন নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা এবং প্রতিরোধের বাস্তবসম্মত উপায় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
কর্মশালায় সাইবার বুলিং, অনলাইনে নারীর নিরাপত্তা, সাইবার অপরাধ, আইনি সুরক্ষা ও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, প্রতিরোধ, সচেতনতা, করণীয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এতে অনলাইন নিরাপত্তার নানা দিক উঠে আসে।
অনলাইন হয়রানির ধরন ও বিস্তার
সাইবার বুলিং হলো ডিজিটাল মাধ্যমে কাউকে অপমান, হুমকি, হেয় বা মানসিকভাবে আঘাত করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, ট্রলিং, ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি, অনুমতি ছাড়া ছবি প্রকাশ এবং ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস এর অন্তর্ভুক্ত। নারীরা প্রায়ই লিঙ্গবিদ্বেষী মন্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের শিকার হন। এসব আচরণ তাদের মর্যাদা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
অনলাইনে নারীর নিরাপত্তা : মানসিক ও সামাজিক প্রভাব
অনলাইন হয়রানি নারীর মানসিক স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস, শিক্ষা ও পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ভয়ে অনেকে মতপ্রকাশ ও অনলাইন কার্যক্রম থেকে সরে যান। ভুক্তভোগীকে দায়ী করার প্রবণতা অপরাধীর দায় আড়াল করে এবং অভিযোগ জানাতে বাধা সৃষ্টি করে। তাই পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের উচিত ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো, তার গোপনীয়তা রক্ষা করা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা।
প্রতিরোধ, সচেতনতা ও করণীয়
সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার, দ্বিস্তরীয় যাচাইকরণ (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা 2FA) চালু রাখা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করা জরুরি। অপরিচিত লিংক এড়িয়ে চলতে হবে এবং একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড (ওটিপি) বা পাসওয়ার্ড কারো সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া যাবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বৃদ্ধি, সহজ অভিযোগব্যবস্থা চালু এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ অনলাইন পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
কর্মশালায় জেলা ও থানাপর্যায়ে সাইবার সহায়তা জোরদার, শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভুক্তভোগীর প্রতি সামাজিক সহমর্মিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পাঠকমেলার এ ধরনের কর্মশালা বইপড়া ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার পাশাপাশি সমকালীন সামাজিক সংকট নিয়ে সচেতন আলোচনার গুরুত্ব তুলে ধরে। বক্তারা মনে করেন, সাইবার অপরাধ ও অনলাইন হয়রানি প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত সচেতনতা, কার্যকর আইনি ব্যবস্থা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ জরুরি। রাষ্ট্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠতে পারে নিরাপদ ও বৈষম্যহীন ডিজিটাল পরিবেশ।