‘আমার দেশ পাঠকমেলা’র সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পাঠচক্রের এবারের আয়োজন ছিল জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদ আনাসকে নিয়ে। পাঠচক্রে পাঠ করা হয় ‘শহীদ আনাস স্মরণ সংখ্যা’। বইপাঠের পাশাপাশি শহীদ আনাসের জীবন, সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের পাশাপাশি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।
‘শহীদ আনাস স্মরণ সংখ্যা’য় উঠে এসেছে রাজপথে তার সাহসিকতার গল্প। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে চিঠি লিখে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়াতে রাজপথে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। তার গল্পের মধ্য দিয়ে উঠে আসে জুলাইয়ের রাজপথে থাকা অসংখ্য তরুণের সাহস ও প্রত্যয়ের চিত্র।
আলোচনায় ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম সিয়াম বলেন, ‘আমাদের ভাই শহীদ আনাস এক বিশাল সাহসিকতার প্রমাণ রেখে গেছেন আমাদের কাছে। আমরা কখনো কোনো স্বৈরশাসকের সামনে মাথা নত করিনি।’
সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী কৌশিক রহমান রিফাত বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শহীদদের নিয়ে আরো বই প্রকাশ হওয়া প্রয়োজন। এসব বইয়ের মাধ্যমে আগামী প্রজন্ম সেই সময়ের ইতিহাস জানতে পারবে।’
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী সামিন ইয়াসার বলেন, ‘শহীদ আনাসের পাশাপাশি প্রত্যেক শহীদের জীবন ও অবদান নিয়ে বই এবং প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করা দরকার।’ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জামান পায়েল আহত যোদ্ধাদের গল্প সামনে আনার ওপর গুরুত্ব দেন। ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রাবিব রেহান বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস শুধু শিক্ষার্থীদের নয়; এতে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ও সংগ্রামের কথাও উঠে আসা প্রয়োজন।
বইপাঠ শেষে সামিন ইয়াসার শহীদ আনাসের ছবি ও তার পরিবারের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি উপস্থিত সবার সামনে তুলে ধরেন। ছবিগুলো যেন আলোচনার আবেগকে আরো গভীর করে তোলে। একজন তরুণের মুখ, একটি পরিবারের শূন্যতা এবং একটি সময়ের ইতিহাস একসঙ্গে উপস্থিত হয় সেখানে।
শেষ বক্তব্যে সামিন ইয়াসার বলেন, রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য প্রয়োজনে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। আমাদের সবার হৃদয়ে এমন চিন্তা থাকা প্রয়োজন—নিজের আগে দেশ। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে শেষ হয় পাঠচক্র। পাঠচক্র শেষ হলেও শহীদ আনাসের জীবন ও আত্মত্যাগের গল্প থেকে গেল পাঠকদের মনে আর জুলাইয়ের সেই দিনগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়টিও যেন আরো গভীর হয়ে উঠল।