হোম > চাকরি > ক্যারিয়ার পরামর্শ

মেডিকেল ছেড়ে প্রথম বিজেএসেই পঞ্চম শাওলিন

শাহ বিলিয়া জুলফিকার

একদিকে সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তির হাতছানি, অন্যদিকে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন—দ্বিধার সেই মুহূর্তে নিজের স্বপ্নকেই বেছে নিয়েছিলেন সৈয়দা শাওলিন আকতার আলো। সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না, তার প্রমাণ মিলেছে প্রথমবারের বিজেএস পরীক্ষাতেই। মাস্টার্স শেষ না করেও অ্যাপিয়ার্ড সনদে ১৮তম বিজেএসে সারা দেশে পঞ্চম হয়ে সিভিল জজ পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। স্বপ্ন, সিদ্ধান্ত আর নিরলস পরিশ্রমে নিজের পথ তৈরি করা শাওলিনের সেই সাফল্যের গল্প নিয়ে আজকের আয়োজন। লিখেছেন শাহ বিলিয়া জুলফিকার

জুডিশিয়ারিতে আসার প্রেরণা

শাওলিনের বিচারক হওয়ার স্বপ্নবীজ রোপিত হয়েছিল ছোটবেলায়। প্রথাগত ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্নের বাইরে গিয়ে তাকে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে বেশি অনুপ্রাণিত করেছিলেন তার নানু ও বড় মামা। মা-বাবার নিঃশর্ত ভালোবাসা এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের ইতিবাচক সহযোগিতাকে তিনি সাফল্যের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শাওলিন জানান, পরিবারের সদস্যরা তাকে সবসময় ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। এজন্য তিনি সবার প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।

শুরুটা যেমন ছিল

গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার সন্তান শাওলিনের স্কুল ও কলেজজীবন কেটেছে গাইবান্ধায়। তিনি ২০১৮ সালে এসএসসি এবং ২০২০ সালে এইচএসসি পাস করেন। এইচএসসির পর ভর্তিযুদ্ধে পাবনা মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েও ছোটবেলা থেকে বিচারক হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বসেন এবং ‘ডি’ ইউনিটের মেধা তালিকায় ১৬তম স্থান অর্জন করেন। এরপর ২০২০-২১ সেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। মেডিকেল ছেড়ে আসার পর থেকে অনেকেই তাকে ভয় দেখাত—‘তুমি ডাক্তার হলে না, এই ক্যারিয়ার তো অনিশ্চিত’ কিংবা ‘তুমি কখনো জুডিশিয়ারি ক্র্যাক করতে পারবে কিনা’; কিন্তু এসব সন্দেহ তাকে দমিয়ে দিতে পারেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম বর্ষে তিনি একটি প্রচলিত ধারণায় আক্রান্ত হয়েছিলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ে নাকি তেমন পড়াশোনা করতে হয় না। তবে প্রথম টার্ম পরীক্ষার পর এই ভুল ধারণা ভেঙে যায়। তিনি বুঝতে পারেন, এখানে না পড়লে রি-অ্যাডমিশন নেওয়া থেকে শুরু করে স্নাতক শেষ করতে বাড়তি সময়ের ঝুঁকি রয়েছে। এই উপলব্ধির পর থেকে শুরু হয় বিভাগকেন্দ্রিক নিয়মিত পড়াশোনা। পাশাপাশি দীর্ঘ চার বছর ধরে তিনি অ্যাডমিশন কোচিং ‘উদ্ভাস’-এ ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন।

প্রিলি প্রস্তুতি

২০২৫ সালের ৫ মে স্নাতক করার পর শাওলিন ১৮তম বিজেএস পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ছিলেন; পাশাপাশি আইনের পড়াশোনার ভিত্তিতে নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তার সাধারণ জ্ঞান ও গাণিতিক অংশে ভালো দখল ছিল। পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিয়ে বসেন প্রিলিমিনারি পরীক্ষায়।

রিটেন প্রস্তুতি

প্রিলিমিনারি পাসের পর লিখিত পরীক্ষার কথা ভেবে তিনি বেশ শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন, কারণ খুব অল্প সময়ে প্রস্তুতির ডেডলাইন ছিল। তবে সে সময় জাতীয় নির্বাচন ও ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার সময়সূচি একাধিকবার পিছিয়ে যায়, ফলে তিনি প্রায় ছয় মাসের একটি বাড়তি প্রস্তুতিকাল হাতে পান। এদিকে তার মাস্টার্সের ক্লাস, পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্ট চলছিল। তখনো নিয়মিত সকালে উঠে ক্লাসের আগে-পরে এবং দুপুরের বিরতির ফাঁকে পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। ক্লাস ও পরীক্ষার চাপে কোনো কোনো দিন দীর্ঘ সময় পড়া সম্ভব না হলেও অন্তত দুই ঘণ্টা নিবিড়ভাবে পড়াশোনার চেষ্টা কখনো ছাড়েননি শাওলিন। ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি চালিয়ে যান। ২০২৬ সালের ২৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত চলে লিখিত পরীক্ষা। এর ফাঁকে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায়ও অংশ নেন (ফলাফল এখনো অপেক্ষমাণ)। সেইসঙ্গে চলছিল মাস্টার্সের পরীক্ষা।

ভাইভা প্রস্তুতি

বিজেএস লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তিনি ভাইভার জন্য প্রস্তুতির সময় পান প্রায় ২০ দিন। এই স্বল্প সময়ে নিজের দুর্বলতা, শক্তির জায়গা, কোনো কাজ করতে ক্লান্তি অনুভব করেন না—এসব বিশ্লেষণ করে তিনি ভাইভার প্রস্তুতি সাজান। ভাইভার পর থেকে রেজাল্টের অপেক্ষায় দিন কাটত শাওলিনের।

রেজাল্ট-পরবর্তী অনুভূতি

২৩ সেপ্টেম্বর বিকালে কাঙ্ক্ষিত ফল প্রকাশের খবর পেয়ে প্রথমে অজু করে নামাজ আদায় করেন শাওলিন। এরপর ফলের তালিকায় একে একে প্রথম চারটি নাম পেরিয়ে পঞ্চম স্থানে নিজের রোল নম্বর দেখতে পান। মুহূর্তেই আবেগাপ্লুত হয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি। আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে শাওলিন মনে করেন, তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও প্রার্থনা কবুল হওয়ার ফলই এই সাফল্য। প্রায় এক বছর ধরে চলা বিজেএস প্রস্তুতির পথে মানসিক ভেঙে পড়া, শারীরিক অসুস্থতা, পরীক্ষা, টেস্ট ও অ্যাসাইনমেন্টের চাপ—সবকিছুর মধ্যেও প্রতিদিন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ়তাই তাকে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে।

নতুনদের উদ্দেশে পরামর্শ

ক্যারিয়ার নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারণার গণ্ডি ভেঙে নিজের আগ্রহ ও স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন শাওলিন। তার মতে, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বাইরেও অসংখ্য সম্ভাবনাময় পেশা রয়েছে, আর মানুষ নিজের পছন্দ ও প্যাশনের জায়গায় আন্তরিক পরিশ্রম করলে যেকোনো ক্ষেত্রেই সফল হতে পারে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে তিনি ধারাবাহিকতাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। এক দিনে অতিরিক্ত না পড়ে নিয়মিত ও পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে শাওলিন বলেন, ‘বিজেএস একটি দীর্ঘমেয়াদি যাত্রা; এখানে এক বা দুবার ব্যর্থ হওয়া মানেই শেষ নয়। বরং প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে পারলেই একসময় সাফল্য ধরা দেয়।’

দেশীয় স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির নতুন অধ্যায়ের কারিগর শাহীনুর

কাজের মধ্যেই তৈরি হয় ক্যারিয়ার

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সাকিরুলের হুইলচেয়ার

ইউসিএলের ৫৫ অনলাইন কোর্সে বিনা মূল্যে শেখার সুযোগ

গাছের কান্না শুনে ছুটে চলেন রাতুল মুন্সি

অভিজ্ঞতা ছাড়াই নারীদের ব্র্যান্ড প্রমোটর হওয়ার সুযোগ

প্রথম বিজেএসেই সিভিল জজ

শিক্ষকতায় জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তির সমন্বয় জরুরি

চিকিৎসকদের বিসিএস প্রস্তুতির কৌশল

সেলস অ্যাডমিনে এআই : সময় বাঁচাবে, কাজ হবে স্মার্ট