হোম > চাকরি > ক্যারিয়ার পরামর্শ

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সাকিরুলের হুইলচেয়ার

আব্দুল্লাহ আল মামুন

চোখে আলো নেই, অথচ পথ চলার ইচ্ছা অদম্য। প্রতিদিনের চলাফেরায় সামান্য একটি সিদ্ধান্ত নিতেও অনেক সময় অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে হুইলচেয়ারে চলাচলকারী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জন্য এই নির্ভরশীলতা আরো বেশি। সেই বাস্তবতাকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন থেকেই প্রযুক্তির সহায়তায় বিশেষ এক হুইলচেয়ার তৈরি করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাকিরুল ভূঁইয়া উদয়।

তার উদ্ভাবিত হুইলচেয়ারটি শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়; এটি যেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে সীমিত মানুষের স্বনির্ভরতার পথে এক নতুন সম্ভাবনার দরজা। ব্যবহারকারীর মুখ ও নাকের নড়াচড়ার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় হুইলচেয়ারটি। সামনে কোনো বাধা এলে আল্ট্রাসনিক সেন্সর তা শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামিয়ে দেয়। একই সঙ্গে এতে ব্যবহারকারীর হার্ট রেট, পালস ও শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই অভিনব উদ্ভাবনই নজর কেড়েছে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার, ২০২৬’-এ।

অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর ভাবনা

সাকিরুল ভূঁইয়া উদয় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। প্রযুক্তিকে শুধু জটিল সমস্যা সমাধানের হাতিয়ার হিসেবে নয়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কষ্ট কমানোর মাধ্যম হিসেবে দেখতে চান তিনি। সেই ভাবনা থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ও হাত দিয়ে হুইলচেয়ার পরিচালনা করতে অক্ষম মানুষের কথা মাথায় রেখে এই বিশেষ হুইলচেয়ার তৈরির উদ্যোগ নেন। সাধারণ হুইলচেয়ার চালাতে দুই হাতের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু কোনো ব্যক্তি যদি হাত দিয়ে হুইলচেয়ার চালাতে না পারেন, তাহলে সামান্য দূরত্ব অতিক্রম করতেও তাকে অন্যের সহায়তা নিতে হয়। আর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির ক্ষেত্রে সামনে থাকা বাধা শনাক্ত করাও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। সাকিরুলের উদ্ভাবনটি মূলত এই দুই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করেছে।

নাক যেদিকে, হুইলচেয়ারও সেদিকে

হুইলচেয়ারটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য এর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। ব্যবহারকারীর মুখ ও নাকের নড়াচড়া শনাক্ত করতে এতে ওয়েবক্যামের ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে হাতে কোনো নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ধরার প্রয়োজন নেই। ব্যবহারকারী নাক যেদিকে নেবেন, হুইলচেয়ারও সেদিকে চলবে। অর্থাৎ মুখের সামান্য নড়াচড়ার মাধ্যমেই হুইলচেয়ারের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রযুক্তিটির ফলে যেসব ব্যক্তি হাত ব্যবহার করতে পারেন না, তারাও তুলনামূলকভাবে সহজে নিজের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ পাবেন। এতে প্রতিটি ছোটখাটো প্রয়োজনের জন্য অন্যের ওপর নির্ভরশীলতা কমতে পারে। সাকিরুল ভূঁইয়া উদয় বলেন, ‘যারা হাত দিয়ে হুইলচেয়ার চালাতে পারেন না, সামান্য মুভমেন্টের জন্যও অন্যের ওপর নির্ভর করতে হয়, মূলত তাদের জন্যই এই সমাধানটি তৈরি করেছি।’

সামনে বাধা, নিজেই থেমে যাবে

শুধু হুইলচেয়ার চালানোর ব্যবস্থা করেই থেমে থাকেননি সাকিরুল। ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে তার উদ্ভাবনে। চলার পথে সামনে কোনো বাধা এলে হুইলচেয়ারে থাকা আল্ট্রাসনিক সেন্সর সেটি শনাক্ত করবে। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে হুইলচেয়ার থেমে যাবে। ফলে ব্যবহারকারী বাধার সঙ্গে ধাক্কা খাওয়ার ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত থাকবেন। সাকিরুলের ভাষায়, ‘সামনে কোনো বাধা এলে আল্ট্রাসনিক সেন্সর সেটি শনাক্ত করে হুইলচেয়ার থামিয়ে দেবে।’

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীর জন্য এই প্রযুক্তি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সামনে থাকা কোনো বস্তু বা প্রতিবন্ধকতা চোখে দেখে বোঝার সুযোগ তাদের নেই। সেন্সরের মাধ্যমে সেই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে।

শুধু চলাচল নয়, নজরে রাখা হয় স্বাস্থ্যও

সাকিরুলের হুইলচেয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা। এতে ব্যবহারকারীর হার্ট রেট, পালস ও শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা যায়। অর্থাৎ এটি শুধু একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাওয়ার বাহন নয়; ব্যবহারকারীর শারীরিক অবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও পর্যবেক্ষণ করতে পারে। প্রযুক্তি ও মানবিক প্রয়োজনের এই সমন্বয়ই উদ্ভাবনটিকে অন্য সাধারণ হুইলচেয়ারের তুলনায় আলাদা করে তুলেছে।

উদ্ভাবনের স্বীকৃতি মিলল ইনোভেশন ফেয়ারে

রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন। মেলায় প্রদর্শিত হয় এক হাজারের বেশি নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন। এর মধ্যেই সাকিরুলের বিশেষ হুইলচেয়ার দর্শনার্থীদের আগ্রহ তৈরি করে। তবে সাকিরুলের কাছে এটি শুধু একটি প্রদর্শনীতে নিজের প্রযুক্তি তুলে ধরার সুযোগ নয়। তার কাছে এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এমন কিছু মানুষের স্বপ্ন, যারা প্রতিদিন চলাচলের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।

প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বাধীনতার স্বপ্ন

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের জীবনকে কাছ থেকে না দেখলেও তাদের প্রতিদিনের চলাচলের সীমাবদ্ধতা সহজেই অনুমান করা যায়। কোথাও যেতে হলে সহায়তা প্রয়োজন, সামনে বাধা থাকলে থেমে যেতে হয়, আর শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলে একটি সাধারণ হুইলচেয়ারও অনেক সময় হয়ে ওঠে নির্ভরশীলতার প্রতীক। সাকিরুল সেই বাস্তবতাকেই প্রযুক্তির মাধ্যমে পাল্টাতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের সমস্যাকে সামনে রেখেই এ উদ্ভাবনের ভাবনা আসে। প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের চলাচল আরো সহজ ও স্বনির্ভর করা সম্ভব—এ চিন্তা থেকেই হুইলচেয়ারটি তৈরি করা হয়েছে।’

মেডিকেল ছেড়ে প্রথম বিজেএসেই পঞ্চম শাওলিন

দেশীয় স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির নতুন অধ্যায়ের কারিগর শাহীনুর

কাজের মধ্যেই তৈরি হয় ক্যারিয়ার

ইউসিএলের ৫৫ অনলাইন কোর্সে বিনা মূল্যে শেখার সুযোগ

গাছের কান্না শুনে ছুটে চলেন রাতুল মুন্সি

অভিজ্ঞতা ছাড়াই নারীদের ব্র্যান্ড প্রমোটর হওয়ার সুযোগ

প্রথম বিজেএসেই সিভিল জজ

শিক্ষকতায় জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রযুক্তির সমন্বয় জরুরি

চিকিৎসকদের বিসিএস প্রস্তুতির কৌশল

সেলস অ্যাডমিনে এআই : সময় বাঁচাবে, কাজ হবে স্মার্ট