জুলাই আন্দোলনে গিয়ে শহীদ হন লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার সুজন ইসলাম। কাজ করতেন আশুলিয়ার এক গার্মেন্টস। একমাত্র উপার্জনকারী এ সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে।
জানা গেছে, ঢাকার আশুলিয়ায় গত ৫ আগস্ট আন্দোলনে যোগ দেন সুজন। সেখানে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় সহযোদ্ধারা গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে গেলে পথেই সুজন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পরদিন সুজনের লাশ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবী গ্রামে আনা হয়। সন্তানের মৃত্যুর খবরে পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়ে। এলাকাজুড়ে শুরু হয় শোকের মাতম। এ ঘটনায় সুজনের বাবা সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেনসহ ১২৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
শহিদুল ইসলাম ও রিজিয়া বেগম দম্পত্তির একমাত্র ছেলে সুজন। শারীরিক প্রতিবন্ধী বাবা শহিদুল বর্তমানে কর্মহীন। স্বচ্ছলতা ফেরাতে আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি নেন সুজন। সেখানেই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার পর নিহত হন পুলিশের গুলিতে।
সুজনের বাবা শহিদুল বলেন, আমার ছেলের পাঠানো টাকা দিয়ে সংসার চলত। আমরা গরিব। ছেলে ছাড়া সাত মাস হতে চলল। এখন আমাদের খোঁজখবর নেওয়ার মতো আর কেউ নেই। কেউ যেন আমার মতো আর সন্তানহারা না হয়। আমি আমার ছেলে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
সুজনের বিষয়ে তার প্রতিবেশী মরিয়ম বেওয়া বলেন, অতিদরিদ্র পরিবারে জন্ম সুজনের। ঢাকায় সামান্য বেতনে আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় সে। স্বপ্ন ছিল বৈষম্য দূরীকরণ ও গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা।