হোম > সাহিত্য সাময়িকী

ঔপনিবেশিক বাংলার জমিদারপ্রথা ও বাঙালি মুসলমান (শেষ পর্ব)

মোহাম্মদ আবদুল মান্নান

সূর্যাস্ত আইন ও লাখেরাজ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত আইন

১৭৯৩ সালের ভূমি রাজস্ব আইনে জমিদারি কেড়ে নিয়ে নিলামে বিক্রির একটি নির্মম ও কঠোর বিধান ‘সূর্যাস্ত আইন’ (Sunset Law) নামে পরিচিত হয়। এই প্রতারণামূলক সূর্যাস্ত আইনের মাধ্যমে ইংরেজরা পুরোনো বহু জমিদারকে সরিয়ে নিজেদের অনুগত জমিদারশ্রেণি তৈরি করেন। এই ব্যবস্থা গ্রামবাংলার সামাজিক কাঠামোতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ তার ‘বহিপীর’ নাটকে পুরোনো ও ক্ষয়িষ্ণু জমিদার হাতেম আলীর চরিত্রের মাধ্যমে সূর্যাস্ত আইনের অপপ্রভাব ফুটিয়ে তুলেছেন।

সূর্যাস্ত আইন ছাড়াও জারি করা হয় লাখেরাজ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত আইন। এ দুই আইন ব্যবহার করে বিশেষভাবে মুসলমানদের জমিদারি ও তালুকদারি আর তাদের লাখেরাজ সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে ইংরেজদের আস্থাভাজন সহযোগীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। খ্রিষ্টান পাদরি ও তাদের পুরোনো মিত্র ব্রাহ্মণ-কায়স্থদের পরামর্শে ইংরেজ ঔপনিবেশিকরা ‘সূর্যাস্ত আইন’ নামে পরিচিত বিধানের আওতায় হঠাৎ হুকুম জারি করে চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে আয়মা, লাখেরাজ ও তৌজিs লাখেরাজের দলিল-দস্তাবেজ ও সনদ-পাঞ্জা কোম্পানি সরকারে দাখিলের হুকুম জারি করেন। আগে থেকে নেওয়া ফয়সালা বাস্তবায়নের এরূপ শঠতা ও প্রবঞ্চনাপূর্ণ ঘোষণায় সূর্যাস্তের আগে সব দলিলপত্র দাখিল করার হুকুম জারি করা হয়। এভাবে অসংগত খোঁড়া অজুহাত খাড়া করে মুসলমানদের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজ কল্যাণের নানা কাজে নিয়োজিত বিপুল পরিমাণে লাখেরাজ সম্পত্তি আর মুসলমানদের অধিকাংশ জমিদারি খাস করে নেওয়া হয় এবং সূর্যাস্তের পর সে সম্পত্তি ব্রাহ্মণ এবং কায়স্থদের মধ্যে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়। হিন্দু নায়েব-গোমস্তারাও এর ফলে রাতারাতি জমিদার বনে যান।

ইংরেজরা লাখেরাজ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত আইন পাস করে মুসলিম আমলের সব ধরনের জায়গির, আয়মা, লাখেরাজ, আলতমগা, মদতে মায়াশ প্রভৃতি ভূসম্পদ কেড়ে নেয়। এসব জমির আয়ে পরিচালিত মুসলমানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দাতব্য প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়। ১৮১৬ সাল থেকে হাজী মুহাম্মদ মুহসিন ওয়াকফ তহবিলের বার্ষিক ৫৫ হাজার টাকা আয়ের ২২ লাখ টাকার তহবিল, চট্টগ্রামের মীর আবদুর রহীমের ওয়াকফ তহবিলসহ এ ধরনের বহু তহবিল অন্যায়ভাবে বাজেয়াপ্ত করা হয়। শুধু ১৮২৮ থেকে ১৮৪৫ সালের মধ্যেই ২০ হাজারের বেশি লাখেরাজ সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়। ফলে এসব লাখেরাজ ও ওয়াকফ সম্পত্তির আয়ে পরিচালিত মুসলমানদের মসজিদ-মাদরাসা-খানকাহ-ইমামবাড়া-মুসাফিরখানা প্রভৃতি মুসলিম শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান আর তাদের অবৈতনিক শিক্ষাব্যবস্থা এবং ধর্মীয় ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং বহু প্রাচীন মুসলিম পরিবার ধ্বংস বা দুর্বল হয়। মুসলিম সমাজের শক্তির উৎস মুফতি, কাজী, মুহতাসিব প্রভৃতি ধর্মীয় ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোও এর ফলে ভেঙে পড়ে।

মুসলিম শাসনে বাংলার উন্নত শিক্ষা পদ্ধতি ও সমৃদ্ধ বিষয়বস্তু এবং সর্বজনীন শিক্ষার গৌরব ছিল। প্রতি চারশ ছাত্রের জন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল। গৌড়, পান্ডুয়া, সোনারগাঁ, দরসবাড়ী, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, মুর্শিদাবাদ, ঢাকা, সিলেটের বিখ্যাত শিক্ষাকেন্দ্রগুলোয় বাইরের ছাত্ররা পড়তে আসতেন। কিন্তু হান্টারের ভাষায় ‘ক্রুসেডীয় মনস্তত্ত্বের অধিকারী সহানুভূতিহীন, অনুদার, নিকৃষ্ট তহবিল তসরুফকারী ও শতাব্দীব্যাপী অন্যায়কারী’ ঔপনিবেশিকরা তাদের শঠতামূলক আত্মসাৎ প্রক্রিয়ায় ‘মুসলমানদের আত্মার ওপর পীড়ন’ চালায়। বাংলার গৌরবময় উন্নত শিক্ষা-সংস্কৃতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়।

শরদিন্দু শেখর চাকমা লিখেছেন : “১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দে বড়লাট লর্ড কর্নওয়ালিস কর্তৃক প্রবর্তিত চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এবং এর আগের ‘সূর্যাস্ত আইন’ মুসলমানদের জন্য একটি বড় আঘাত। এতে অনেক মুসলমান জমিদার জমিদারি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যান এবং এসব জমিদারি অধিকাংশ হিন্দুদের নব্য ধনিক শ্রেণির হাতে চলে যায়। এমন হয়েছিল যে, মুসলমান জমিদারদের অনেক হিন্দু কর্মচারী ওইসব জমিদারি কিনে জমিদার বনে যায়। এসব জমিদার পরবর্তীকালে ইংরেজদের খুবই অনুরক্ত ও প্রিয় পাত্র এবং তাদের সহযোগী হয়। তাদের অনেকেই ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত করতে সচেষ্ট হয়। তাছাড়া তারা মুসলমান প্রজাদের ওপর অত্যাচার নিপীড়ন করে হিন্দু-মুসলমান বিরোধকে আরো উসকে দেয়।”

চিরস্থায়ী জমিদারি বন্দোবস্তের বিষম ফল

১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলার মোগল আমলের জমিদারি ব্যবস্থার খোল-নৈচা পাল্টে ফেলা হয়। জমিদারি ব্যবস্থার পুরা দুর্বৃত্তায়ন করার ফলে তা জুলুম-শোষণ-নিপীড়নের যন্ত্রে পরিণত হয়। নতুন ব্যবস্থার ফলে সৃষ্ট মৌলিক পরিবর্তনগুলো রায়তদের জীবনে বিপর্যয় ঘটায়। এখানে কিছু বিষয়ে সামান্য আলোকপাত করছিÑ

এক. নতুন ব্যবস্থায় রায়ত বা কৃষকের কাছ থেকে জমির মালিকানা ছিনিয়ে নিয়ে তাদের কার্যত ভূমিদাসে পরিণত করা হয়। জমিদারদের অনর্জিত সম্পদে অনৈতিকভাবে মালিকানা স্বত্ব দেওয়া হয়। এটি ছিল আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকাশ্য ডাকাতি। রায়তরা পুরুষাণুক্রমে এই ব্যবস্থার চরম মন্দ ফল হিসেবে আর্থসামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে বিপর্যয়ের মুখে পড়েন। অন্যদিকে অনর্জিত সম্পদ ভোগের মাধ্যমে জমিদারদের জীবনে আপাত মধুর সৌভাগ্য চূড়ান্ত বিবেচনায় অভিশপ্ত শ্রেণিতে পরিণত করে।

দুই. মুসলিম শাসনামলে ফসলের পরিমাণ অনুসারে গ্রাম্য পঞ্চায়েতের মাধ্যমে খাজনা আদায় করা হতো। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল দ্বারা খাজনা আদায় করতেন। নতুন ব্যবস্থায় নগদ অর্থে মুদ্রার মাধ্যমে খাজনা আদায়ের নিয়ম করা হয়। পঞ্চায়েতের বদলে সরাসরি চাষির কাছ থেকে খাজনা নেওয়া শুরু হয়। ফসলের বদলে জমির পরিমাণের ভিত্তিতে খাজনার পরিমাণ ঠিক করা হয়। এই তিনটি পরিবর্তন কৃষকদের জীবনে বিপর্যয় আনে।

তিন. খাজনা আদায়ের জন্য সেকালের সবচেয়ে নিষ্ঠুর লোকদের জমিদারির ইজারা দেওয়ার জন্য নিলাম ডাকা হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির লুণ্ঠন-সহচর নব্য ধনী দুর্বৃত্তরা প্রচুর নগদ অর্থ নিয়ে নিলামে অংশ নেন। ভূমিব্যবস্থার কোনোরূপ ধারণা ছাড়াই সেকালের সবচেয়ে নিষ্ঠুর ও লোভী, দস্যু মনোভাবের কিছু নব্য পুঁজিপতি পুরোনো জমিদারদের জায়গা দখল করেন। তারা কালো পথের অঢেল টাকাকড়ি জমিদারি কেনার প্রতিযোগিতায় নিয়োজিত করে সমাজের গতিশীলতা রুদ্ধ করে অলস বিলাসিতার কুপথকে প্রশস্ত করেন।

চার. নতুন জমিদারদের ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্য রক্ষার ঢালরূপে ব্যবহার করা হয়। নিজেদের জমিদারি এলাকা থেকে দূরে বসে এই নব্য ধনী জমিদাররা গ্রাম-বাংলার জনগণকে শোষণের মাধ্যমে কলকাতায় বাগানবাড়িকেন্দ্রিক নতুন ‘বাবু’ সংস্কৃতির জন্ম দেন। তারা বাণিজ্যলব্ধ অর্থ ভূমিতে লগ্নি করেন, মামলা-মোকদ্দমায় জড়িয়ে, ক্রমে অলস, বিলাসী, ব্যভিচারী, অত্যাচারী, উদ্যোগ ও উদ্যমহীন পরগাছায় পরিণত হন। বিদেশি শাসনের সঙ্গে তাদের শ্রেণিস্বার্থ কর্মক্ষমতা জড়িয়ে থাকায় এই জমিদাররা ব্রিটিশ শাসনের আনুগত্যের দড়িতে বাঁধা পড়েন। ফলে তাদের সৃজনশীল কর্মক্ষমতার অপচয় হয়। তাদের ভ্রষ্টদের নিয়েই গড়ে ওঠে কোম্পানি আমলের কলকাতা।

পাঁচ. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বণিকরা বাংলার চিরায়ত গ্রামীণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে কলকাতাকেন্দ্রিক নতুন শহুরে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়েন। তাদের অসংগত বাণিজ্যিক স্বার্থে আঠারো শতক শেষ হওয়ার আগেই এ দেশের ঐতিহ্যবাহী ও জগৎজোড়া সুনাম এবং চাহিদার অধিকারী তাঁত ও মসলিন শিল্প, তুলা, রেশম, বস্ত্র ও অন্যান্য কুটিরশিল্প ধ্বংস করা হয়। নীল চাষের অদ্ভুত পদ্ধতি চালু করে কৃষকদের সর্বস্বান্ত করা হয়।

ঙ. ইংরেজ বণিকরা ষড়যন্ত্র, প্রতারণা ও উৎকোচের মতো অসাধুতার মাধ্যমে এ দেশের শাসন ক্ষমতা দখল করে শোষণের বুনিয়াদ পাকা করতে একের পর এক আঘাতে বাংলার চিরায়ত স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামীণ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে ফেলেন। তারা কলকাতাকেন্দ্রিক নতুন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলেন। ১৭৯৩ সালের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে ভূমিকে পণ্যে পরিণত করা হয়। বহু বনেদি পরিবারকে রাতারাতি পথে বসিয়ে ইংরেজদের বশংবদ দেওয়ান-বেনিয়ান-মুৎসুদ্দী গোমস্তা শ্রেণির লোকদের সামন্ত অভিজাতরূপে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। বাংলার সামাজিক বিন্যাসের ফলে পুরাই পাল্টে যায়।

ছয়. ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইংরেজ বণিকরা বাংলার সম্পদ ভান্ডার লুট করে এ দেশ থেকে বিপুল অর্থ পাচার করেন। ১৭৭৯-৮৬ সালে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব ঘটে। আর এ সময় দুনিয়ার সেরা শিল্পোন্নত বাংলা কৃষিনির্ভর গরিব জনপদে পরিণত হয়। ইংল্যান্ডের সদ্য গড়া কল-কারখানায় এ দেশ থেকে কাঁচামাল সরবরাহ করে কোম্পানি বণিকরা এক দফা মুনাফা লুটেন। এরপর সেই কাঁচামালে উৎপাদিত বিলাতের পণ্য বাংলায় বাজারজাত করেন। শঠতামূলক এই হাত সাফাইয়ের মাধ্যমে তারা বিপুল বিত্তের মালিক হন। ইংরেজদের ব্যবসানীতির ফলে দুনিয়ার একসময়ের সেরা শিল্পোন্নত উদ্বৃত্ত আয়ের বাংলাদেশে শিল্প ও বাণিজ্য লুপ্ত হয়। এই দেশ যেন ভোজবাজির মতো দারিদ্র্য ও দুর্ভিক্ষের কেন্দ্রে পরিণত হয়। বাংলার জনগণ মসলিনের গৌরব হারিয়ে পরনের মোটা কাপড় আর নিত্যদিনের জিনিসপত্রের জন্যও বিলাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

সাত. বাংলার গ্রামীণ শিল্প ধ্বংস করে লুটেরা পুঁজির একাংশ দিয়ে কলকাতা ও তার পাশে ভাগীরথীর তীরে কল-কারখানা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। দুনিয়ার সেরা পাট উৎপাদনকারী পূর্ববাংলার সঙ্গে নৌ, সড়ক ও রেল যোগাযোগহীন কলকাতায় ভাগীরথী নদীর তীরে পাটকল গড়া হলেও এ সময় পূর্ববাংলায় কোনো পাটকল পাকিস্তান কায়েমের আগে স্থাপন করা হয়নি।

আট. জমিদাররা অবাধে যথেচ্ছভাবে খাজনা আদায়ের অধিকার পেয়ে রায়ত-প্রজাদের নানাভাবে শোষণ করেন। তারা বিরামহীনভাবে জমির খাজনা বাড়ানো ছাড়াও আবওয়াব, সেলামি, নজরানা, বিবিধ কর আরোপ করেন। হিন্দু জমিদারদের পূজাপার্বণ, অন্নপ্রাশন, বিয়েশাদিতে মুসলমান প্রজাদের ওপর বিশেষ কর বসানো হয়। মুসলমানদের কাছ থেকে দাড়ির ট্যাক্স, মসজিদের ট্যাক্স, মুসলমানি নাম রাখার ট্যাক্স প্রভৃতিও জবরদস্তি আদায় করা হয়।

উপসংহার : চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাতিল

চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে সৃষ্ট জমিদাররা কোম্পানি আমলের প্রায় ১০০ বছর এবং এরপর ১৮৫৭ সালের সিপাহি-জনতার বিপ্লবোত্তর ব্রিটিশ শাসনের নব্বই বছর জনগণের আর্থসামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক জীবন নানাভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। ১৭৬৩ সাল থেকে ফকির মজনুশাহর নেতৃত্বে শুরু হওয়া ফকির বিদ্রোহ, সমসাময়িক বিভিন্ন কৃষক বিদ্রোহ, ১৮১৮ সালে শুরু হওয়া হাজী শরীয়ত উল্লাহর ফরায়েজী আন্দোলন, ১৮২১ সালে শুরু হওয়া মীর নিসার আলী তিতুমীরের জিহাদ আন্দোলন, কারামত আলী জৌনপুরীর তাইয়ুনী আন্দোলন, নওয়াব সলীমুল্লাহর নেতৃত্বে ১৯০৫ সাল থেকে ঢাকাকেন্দ্রিক পূর্ববাংলা ও আসাম প্রদেশ রক্ষার আন্দোলনসহ সব পরিসরে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের জমিদাররা বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষক-প্রজাদের হাড়-গোশত জ্বালিয়ে খেয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আজাদি আন্দোলনে পূর্ববাংলার জনগণ ইংরেজদের হাত থেকে আজাদি অর্জনের পাশাপাশি নিজেদের ঘাড়কে এই জমিদারি ব্যবস্থার জোয়াল থেকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করেছেন।

পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫১ সালের ১৬ মে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৫০ সালের East Bengal State Acquisition and Tenancy Act, 1950 নামক আইনের মাধ্যমে পূর্ববাংলায় জমিদারি প্রথা বাতিল করেন। ফলে পূর্ববাংলার তখনকার প্রায় সাড়ে ৪ কোটি মানুষ প্রায় ২০০ বছরের জমিদারদের জুলুম-শোষণের নিগড় থেকে মুক্ত হন। ১৯৪৭ সালের আজাদির পর এটি ছিল ঢাকাকেন্দ্রিক কৃষি ও কৃষকপ্রধান বাংলার মুসলমানদের সবচেয়ে তাৎপর্যমণ্ডিত অর্জন। এ উপলক্ষে বাঙালি মুসলমানদের প্রাচীনতম দৈনিক সংবাদপত্র ‘দৈনিক আজাদ’-এ আট কলামব্যাপী তিন লাইনের প্রধান শিরোনাম ছিল : ‘পূর্ব্ববঙ্গের ৪!! কোটি অধিবাসীর বুকের উপর হইতে জমিদারি প্রথার জগদ্দল পাথর অপসারিত!! দেশের শোষিত ও নিগৃহীত জনসাধারণের অর্থনৈতিক মুক্তির সূচনা।’

বিতর্ক বনাম ইতিহাস

নবাব সলিমুল্লাহ ও নারী শিক্ষার বিকাশ

খালিদ ইবনুল ওয়ালিদের হীরা বিজয়ের চুক্তিপত্র

খলিফা আবু বকরের শাসনকালে পারস্যের হীরা নগরী বিজয়

নৌপ্রযুক্তিতে মুসলিম সভ্যতার অবদান

ফররুখ কেন পড়ব

কোরবান

আবু তাহের তারেকের কবিতা

হজের টুকরো স্মৃতি

চিরকুট