হোম > সাহিত্য সাময়িকী > প্রবন্ধ

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস আবিষ্কারে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ

মাহমুদ নাসির জাহাঙ্গীরি

অক্টোবর ১১, ১৮৭১ – সেপ্টেম্বর ৩০, ১৯৫৩

পাশ্চাত্য সাহিত্যচর্চার পথ অনুসরণ করে শুরু হয় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস লেখার যুগ। সাহিত্যের ইতিহাস লেখার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর (১৮২০-৯১) ‘সংস্কৃত ভাষা ও সংস্কৃত সাহিত্য-শাস্ত্রবিষয়ক প্রস্তাব’ শীর্ষক গ্রন্থ রচনা করে। তার অনুকরণে বিদ্যাসাগরের প্রিয় শিষ্য রামগতি ন্যায়রত্ন (১৮৩১-৯৪) রচনা করেন ‘বাঙ্গালা ভাষা ও বাঙ্গালা ভাষাবিষয়ক প্রস্তাব’। বাংলা সাহিত্যের প্রথম ইতিহাস রচনার গৌরব পণ্ডিত রামগতি ন্যায়রত্নের প্রাপ্য। ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ‘বাঙ্গালা ভাষা ও বাঙ্গালা সাহিত্যবিষয়ক প্রস্তাব’ গ্রন্থে বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ ও উনিশ শতকের সাহিত্য সম্বন্ধে ধারাবাহিক আলোচনা করেন। উনিশ শতকের সত্তরের দশকের গোড়ায় ভারতবর্ষে আদমশুমারি পরিচালিত হয়, ন্যায়রত্নের গ্রন্থটিকে বলা যায় বাংলা সাহিত্য শুমারির এক অনন্য প্রচেষ্টা। তার আদর্শ সামনে রেখে একে একে প্রকাশিত হয় রাজনারায়ণ বসুর বাঙ্গালা ভাষা ও সাহিত্য (১৮৭৮), গঙ্গাচরণ সরকারের বঙ্গসাহিত্য ও বঙ্গভাষা (১৮৭৯), হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর বর্তমান শতাব্দীর বাংলা সাহিত্য (১৮৮১)। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী গ্রন্থটি রচনা করেন বঙ্কিমী ধারায়, বিদ্যাসাগরীয় ধারায় নয়। যদিও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সঙ্গে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ছিল ব্যক্তিগত সম্পর্ক। বিদ্যাসাগরের আশ্রয়ে থেকেই তিনি ভর্তি হন সংস্কৃত কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৮৭৭ সালে সংস্কৃতে অনার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। হরপ্রসাদ বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় সংস্কৃতভরা রচনার প্রতি আমার বিদ্বেষ জাগে।’ সংস্কৃতের গতি ও বাংলার গতি একদিকে নয়। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাকে সংস্কৃতের দিকে চালাইবার চেষ্টা, আর গঙ্গার স্রোতকে হিমালয়ের দিকে চালাইবার চেষ্টা একই রকম।’

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার ‘বাঙ্গালা ভাষা’ প্রবন্ধে বিদ্যাসাগরীয় তথা রামগতি ন্যায়রত্ন মহাশয়ের ধারা এবং টেকচাঁদী ধারা পাশাপাশি উপস্থাপন করেন। সংস্কৃতবাদী ধারার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন : ‘সংস্কৃতবাদী সম্প্রদায়ের মুখপাত্রস্বরূপ আমরা ন্যায়রত্ন মহাশয়কে গ্রহণ করিতেছি। ন্যায়রত্ন মহাশয় স্বপ্রণীত উক্ত সাহিত্যবিষয়ক প্রস্তাবে আপনার মতগুলি লিপিবদ্ধ করিয়া রাখিয়াছেন এই জন্যই তাহাকে এ সম্প্রদায়ের মুখপাত্র স্বরূপ ধরিতে হইল।’ বঙ্কিমচন্দ্র নিজে বিদ্যাসাগরের সংস্কৃতানুসারী ভাষা ও প্যারীচাঁদ মিত্রের কথ্য-বাকভঙ্গি নতুনভাবে সমন্বয় বা বিন্যস্ত করে একটি নিজস্ব গদ্যরীতি প্রবর্তন করেন। একে বলা হয় সুশিক্ষিত অথবা নব্য সম্প্রদায়ের ধারা। এ ধারায় সব কীর্তিকে অতিক্রম করে সবচেয়ে স্মরণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে দীনেশচন্দ্র সেনের বঙ্গভাষা ও সাহিত্য। তার পটভূমি এ রকম : ১৮৯১ সালে প্রকাশিত হয় তিনটি প্রবন্ধ; এর মধ্যে একটির বিষয় ছিল বঙ্গভাষা ও সাহিত্যের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। কলকাতার পিচ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে প্রবন্ধটি মূল্যায়ন করেন দুই কৃতবিদ্য মানুষ— সাহিত্যিক চন্দ্রনাথ বসু ও পণ্ডিত ঐতিহাসিক রজনীকান্ত গুপ্ত। এ প্রবন্ধটি হলো বীজ। সেখান থেকেই পুঁথি সংগ্রহের ওপর ভিত্তি করে বিস্তৃত ইতিহাস লেখার সংকল্প জাগে দীনেশচন্দ্রের মনে। প্রথম সংস্করণের ভূমিকায় দীনেশচন্দ্র উল্লেখ করেন : ‘নানা স্থানে পর্য্যটন করিয়া সঞ্জয়কৃত মহাভারত, গোপীনাথ দত্তের দ্রোণপর্ব্ব, রাজেন্দ্রদাসের শকুন্তলা, দ্বিজ কংসারির প্রহ্লাদ চরিত্র, রাজারাম দত্তের দীপর্ব, ষষ্ঠিবর ও গঙ্গাদাসের মহাভারতোক্ত উপাখ্যান প্রভৃতি বিবিধ হস্তলিখিত প্রাচীন কাব্য সংগ্রহ করি। তখন বঙ্গভাষার একখানি বিস্তৃত ইতিহাস লিখিবার সংকল্প মনে স্থির হয়।’ কুমিল্লা জিলা স্কুলে শিক্ষকতাকালে ১৮৯০ সালে এর সূচনা, দীর্ঘ ছয় বছরের সাধনার ফসল প্রকাশিত হয় ১৮৯৬ সালে বঙ্গভাষা ও সাহিত্য নামে। যেখানে বৌদ্ধযুগের শেষ, সেখান থেকে শুরু করেন দীনেশচন্দ্র সেন। বঙ্গভাষা ও সাহিত্য গ্রন্থে বাংলা সাহিত্যের সুবিস্তৃত ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে যে যুগবিভাগ করেন, তা শুরু হয় হিন্দু বৌদ্ধ যুগ (৮০০-১২০০) নাম দিয়ে। ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইউম বলেন, ১৮৯৬ সালে যখন বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রামাণিক ইতিহাসগ্রন্থ বঙ্গভাষা ও সাহিত্য প্রকাশিত হয়, তখন বাংলা সাহিত্যের উপকরণ সম্পর্কে পণ্ডিতবর্গসহ সকল শিক্ষিত মানুষেরই ধারণা ছিল প্রায় একই রকম সীমাবদ্ধ। তারা মনে করতেন যে, বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগীয় উপকরণের মধ্যে কিছু রামায়ণ মহাভারতের অনুবাদ, কিছু বৈষ্ণব পদাবলি এবং মঙ্গলকাব্যের পুঁথি ছাড়া তেমন কিছু নাই।

রবীন্দ্রনাথও প্রাচীন সাহিত্য বলতে বুঝতেন ভারতবর্ষের প্রাচীন সাহিত্য। দীনেশচন্দ্র সেনের বঙ্গভাষা ও সাহিত্যপাঠের পরই তিনি প্রাচীন বঙ্গসাহিত্য সম্পর্কে সম্যক অবহিত হন। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়, ‘দীনেশবাবু অদ্ভুত পরিশ্রমে ও প্রতিভায় এই সাহিত্যের স্তরগুলি যথাক্রমে বিন্যাস করিয়া বঙ্গসমাজের নৈসর্গিক প্রক্রিয়ার ইতিহাস আমাদের দৃষ্টিগোচর করিয়াছেন।’ তারই প্রতিক্রিয়ায় রামায়ণ প্রবন্ধটি দীনেশচন্দ্র সেনের রামায়ণী কথার ভূমিকাস্বরূপ লিখিত হয় ১৩১০ সালের ৫ পৌষ। প্রাচীন সাহিত্য বলতে রবীন্দ্রনাথ কী বুঝতেন তার স্বাক্ষর আছে সমসাময়িক কালের রচনা মেঘদূত (১২৯৮), কাদম্বরী চিত্র, কাব্যে উপেক্ষিতা, কুমারসম্ভব ও শকুন্তলা এবং শকুন্তলা প্রবন্ধে। এগুলো সংকলিত হয় তার প্রাচীন সাহিত্য গ্রন্থে ১৯০৭ সালে। তবে রবীন্দ্রনাথ ও দীনেশচন্দ্র সেনের এক যুগের বদ্ধমূল ধারণার আমূল পরিবর্তন ঘটে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের উদ্ভবের কালকে নতুন করে আবিষ্কার করার পর। মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপালের রাজদরবার থেকে চর্যার পুঁথি খুঁজে পান ১৯০৭ সালে।

চর্যাপদ আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত বৌদ্ধদের সাহিত্য ছিল লোকচক্ষুর অন্তরালে। একই রকমভাবে সাহিত্যবিশারদের আত্মপ্রকাশের আগ পর্যন্ত মুসলমানদের রচিত সাহিত্য ছিল প্রায়ই অবজ্ঞাত। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে সাহিত্যবিশারদ সম্পাদিত কয়েকটি কাব্য প্রকাশিত হয় কিন্তু সেখানে মুসলমানরা ছিল অনুপস্থিত। লালগোলার জমিদার রায় যোগীন্দ্রনারায়ণ রাও বাহাদুরের অর্থানুকূল্যে প্রকাশিত সত্যনারায়ণের পুঁথি, মৃগলুব্ধ, মৃগলুব্ধ সম্বাদ, গঙ্গামঙ্গল, জ্ঞানসাগর, শ্রীগৌরাঙ্গ সন্ন্যাস, সারদামঙ্গল, গোরক্ষবিজয় কাব্যে তৃপ্ত হয়েছে শুধু এক শ্রেণির মানুষের সাহিত্যবোধ। একে তুলনা করা যায় কৃষ্ণনগরের মহারাজার (১৭১০-৮৩) অর্থানুকূল্যে কবি ভারতচন্দ্র রচিত অন্নদামঙ্গল কাব্য প্রকাশের সঙ্গে। রবীন্দ্রনাথ তার ‘বঙ্গভাষা ও সাহিত্য’ প্রবন্ধে লেখেন, ‘দীনেশবাবুর গ্রন্থে হুসেন-শা পরাগল খাঁ ছুটি খাঁর সহিত আমাদের যেটুকু পরিচয় হইয়াছে তাহাতে ইতিহাস আমাদের কাছে অনেকটা সজীব হইয়া উঠিয়াছে।’ দুই বিশ্বযুদ্ধের অন্তর্বর্তীকাল অতিক্রান্ত হয়েছে কিন্তু সাহিত্যবিশারদ খুঁজে পাননি পরাগল খাঁ বা ছুটি খাঁর মতো একজন পৃষ্ঠপোষকের দেখা। তিনি পৃষ্ঠপোষকের অভাবে কাজী দৌলতের সতীময়না লোরচন্দ্রানী কিংবা দৌলত উজির বাহরাম খানের লায়লী মজনু অথবা আলাউলের পদ্মাবতীর প্রতিলিপি স্বহস্তে তৈরি করলেও প্রকাশ করতে পারেননি। শুধু ব্যতিক্রম আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য। রাজধানীর আলো থেকে বঞ্চিত একজন লেখক কলকাতাশিক্ষিত যুবক এনামুল হকের সহযোগিতার পরই এ গ্রন্থটি প্রকাশ করতে সক্ষম হন। ১৯৩৩ সালের গ্রীষ্মকালে মুহম্মদ এনামুল হক সুফীবাদের ইতিহাসবিষয়ক অভিসন্দর্ভ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দাখিল করেই মধ্যযুগীয় পাণ্ডুলিপি নিয়ে গবেষণার উদ্দেশ্যে আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া থানার সুচক্রদণ্ডীতে চলে যান। তারই ফসল আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য।

আবর্তিত হয় একই চক্র—স্বদেশি আন্দোলনের সময় শুরু করেছিলেন মহারাজার জীবনী রচনা দিয়ে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে প্রকাশিত হয় মহারাজ রাজবল্লভের জীবনী (১৩৪৭)। কিন্তু পুঁথি সম্পাদনা বা গ্রন্থ রচনায় হাত দিতে পারেননি। একে তুলনা করা যায় নৌকার দাঁড়ির দাঁড় সঞ্চালনের সঙ্গে, কখনো কাণ্ডারির ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারেননি।

‘প্রাচীন আদর্শ পুঁথি কোনো-এক পুস্তকালয়ে যথাসম্ভব সংগৃহীত থাকিলে অনুসন্ধিৎসুর পক্ষে সুবিধার বিষয় হয়’—রবীন্দ্রনাথের এই কথার ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় সংগ্রহ করেন সাহিত্যবিশারদের ছয় শতাধিক পুঁথি। দীনেশচন্দ্র সেন উনিশ শতকের শেষ দশকে তার বঙ্গ ভাষা ও সাহিত্য রচনা করেন ত্রিপুরা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে সংগৃহীত তিন শতাধিক বাংলা পুঁথির ওপর নির্ভর করে। এ সময় দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া স্কুলের হেডমাস্টার। ড. শহীদুল্লাহ্ বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনার কর্মযজ্ঞ শুরু করেন বিশ শতকের পঞ্চাশের দশকে, তখন তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগের প্রধান (১৯৫০-৫৪)। ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় রক্ষিত ছয় শতাধিক পুঁথির ওপর ভিত্তি করেই রচিত হয় বাংলা সাহিত্যের নতুন ইতিহাস রচনার যুগ। ১৯৫৩-৫৪ শিক্ষাবর্ষে শহীদুল্লাহ্‌র প্রেরণায় মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনার প্রকল্প গ্রহণ করেন। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস-সংক্রান্ত শহীদুল্লাহ্‌র প্রবন্ধগুলো দুই খণ্ড বাংলা সাহিত্যের কথা-য় (১৯৫৩-১৯৫৬) সংকলিত হয়। ১৯৫৩ সালেই রাজশাহীর বরেন্দ্র রিসার্চ মিউজিয়ামে আহমদ শরীফ দান করেন হিন্দু কবি রচিত বাদবাকি পুঁথিগুলো। এরপরই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচনার প্রধান ধারায় একদিকে প্রাচীন যুগের স্মারক হিসেবে যুক্ত হয় চর্যাপদ, অন্যদিকে মধ্যযুগের সাহিত্যে যুক্ত হয় মুসলমান লেখকদের অবদান। যার স্বাক্ষর দেখা যায় ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত, ড. সুকুমার সেন রচিত বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস (১৯৬৫) গ্রন্থে। তাছাড়া শ্রীভূদেব চৌধুরীর বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এবং একই নামে দীন মুহম্মদের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে (১৯৬৯) তার স্বাক্ষর পরিলক্ষিত হয়। ১৯৫২-৫৯ কালে ঢাকা কলেজের অধ্যাপক মুহম্মদ মনসুরউদ্দীন একই সঙ্গে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক, তার ইতিহাসেও পড়ে সাহিত্যবিশারদের পুঁথির ওপর নির্ভরতার চিত্র। এসব গ্রন্থে মধ্যযুগে মুসলমানদের অবদান অংশটি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রচিত হয় সাহিত্যবিশারদের পুঁথির ওপর নির্ভর করে। প্রাচীন যুগের ইতিহাস রচনায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর আবিষ্কৃত পুঁথি যেভাবে প্রধান প্রেরণাদাত্রী হয়েছে, একইভাবে মধ্যযুগের মুসলমানদের অবদান রচনায় সাহিত্যবিশারদের পুঁথি উৎসাহ জুগিয়েছে, পথপ্রদর্শক হয়েছে। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৮৯৭, ১৮৯৯, ১৯০৭ ও ১৯২২ সালে চারবার নেপাল সফর করেন এবং ১৯০৭ সালে আবিষ্কার করেন প্রাচীন যুগের স্মারকগ্রন্থ চর্যাপদ; অন্যদিকে সাহিত্যবিশারদ ১৯০৭ সাল থেকে আমৃত্যু (১৯০৭-৫৩) দক্ষিণ চট্টগ্রাম সফর করে আবিষ্কার করেন মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের শ্রেষ্ঠ অবদান। বাংলা সাহিত্যের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাহিত্যবিশারদের অবদানকে এক কথায় বলা যায় তুলনাহীন।

জুলাইয়ের অভিঘাত ও আমাদের শিল্প-সাহিত্য

ইমরুল হাসান ও আমাদের সময়

‘রাজবন্দির জবানবন্দি’ ও চব্বিশের বিপ্লবীরা

মান্নান সৈয়দ: কেন এবং কতটা

ভিক্টর হুগোর লেখায় আধ্যাত্মিকতা কীভাবে এলো

আবুল মনসুর আহমদের চোখে বাংলাদেশের কালচার

চিঠি

মিলাদুন্নবী যেভাবে বিশ্বসংস্কৃতি হলো

মিলাদুন্নবীর সাংস্কৃতিক উদযাপন

হাসান রোবায়েত ও জুলাইয়ের কবিতা