হোম > সাহিত্য সাময়িকী > প্রবন্ধ

কোড ব্রেকিং টেকনোলজির জনক আলকিন্দি

আহমাদ ফাহমি

টেকনোলজি ও ইন্টারনেটনির্ভর বর্তমান বিশ্বে তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে পদ্ধতির মাধ্যমে মানুষকে এই সুরক্ষা দেওয়া হয়, তাকে বলে এনক্রিপশন। এনক্রিপশন হলো, কোনো তথ্যকে অ্যালগরিদম ও গোপন কী (key) ব্যবহার করে এক ধরনের সাংকেতে (cipher text) রূপান্তর করা হয়।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বিশেষ করে যুদ্ধক্ষেত্রে নিরাপদ যোগাযোগ বজায় রাখা, গোপন বার্তা আদান-প্রদান এবং সামরিক নির্দেশ পৌঁছে দিতে এনক্রিপশন দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

অন্যদিকে, এনক্রিপ্ট করা তথ্য ভেঙে আসল বার্তা (plain text) উদ্ধার করার প্রক্রিয়াকেই বলা হয় কোড ব্রেকিং বা ক্রিপ্টঅ্যানালাইসিস। এই প্রযুক্তি বহু ঐতিহাসিক মুহূর্তে বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানদের ‘এনিগমা’ যন্ত্রে এনক্রিপ্ট করা সামরিক বার্তা পোল্যান্ডের সাইফার ব্যুরো ও ব্রিটেনের ব্লেচলি পার্কের কোড-বিশ্লেষকরা ভেঙে ফেলেন। ফলে শত্রুপক্ষের গোপন যোগাযোগ কার্যত উন্মুক্ত হয়ে যায়।

তবে ২০ শতকের এই সাফল্যের পেছনে যে ধারণাগত ভিত্তি কাজ করেছে, তার সূচনা হয়েছিল আরো বহু আগে। নবম শতাব্দীর বহুমুখী প্রতিভাধর পণ্ডিত আলকিন্দিই প্রথম কোড ব্রেকিং প্রযুক্তিকে পদ্ধতিগত রূপরেখা সামনে আনেন। সে সময় বার্তা আদান-প্রদানের জন্য পাখির মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হতো এবং নিরাপত্তার স্বার্থে সেগুলো প্রায়ই এনক্রিপ্ট করা থাকত।

আল-কিন্দি তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘রিসালাহ ফি ইসতিখরাজিল মুআম্মা’ (A Manuscript on Deciphering Cryptographic Messages) রচনা করে ক্রিপ্টোগ্রাফিতে বৈপ্লবিক অগ্রগতি করেন। এই গ্রন্থে তিনি যে পদ্ধতির বর্ণনা দিয়েছেন, তা আজ ‘ফ্রিকোয়েন্সি অ্যানালাইসিস’ নামে পরিচিত।

এই পদ্ধতির মূল ধারণা হলো, যদি কোনো ভাষার একটি অক্ষরকে অন্য কোনো চিহ্ন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়, তবে নতুন চিহ্নটিতে মূল অক্ষরের ব্যবহারিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখবে। যেমন : ইংরেজি ভাষায় ‘e’ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অক্ষর (প্রায় ১৩ শতাংশ)। সুতরাং, যদি ‘e’-এর পরিবর্তে ‘#’ ব্যবহার করা হয়, তবে ‘#’-ই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত চিহ্ন হিসেবে গণ্য হবে। এই পরিসংখ্যানগত ধারা বিশ্লেষণ করেই একজন ক্রিপ্টঅ্যানালিস্ট মূল বার্তার অক্ষরগুলো শনাক্ত করতে পারেন।

কোরআনের আরবি পাঠ গভীরভাবে অধ্যয়ন করতে গিয়ে আলকিন্দি অক্ষরগুলোর এই স্বতন্ত্র ব্যবহারের হার লক্ষ করেছিলেন এবং সেখান থেকেই তিনি এই পদ্ধতির ভিত্তি নির্মাণ করেন। পরে ইউরোপের রেনেসাঁ যুগে ক্রিপ্টোগ্রাফাররা আরো উন্নত কৌশল উদ্ভাবন করলেও, আল-কিন্দির এই আবিষ্কারই ছিল সেই দীর্ঘ যাত্রার সূচনা। উল্লেখ্য, ‘ক্রিপ্টঅ্যানালাইসিস’ শব্দটি নিজেই তুলনামূলকভাবে আধুনিক; ১৯২০ সালে উইলিয়াম ফ্রিডম্যান প্রথম এটি ব্যবহার করেন।

আজও ফ্রিকোয়েন্সি অ্যানালাইসিস প্রাচীন ধাঁচের সাইফার ভাঙার একটি মৌলিক পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি ভাষাগত ও পরিসংখ্যানগত জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল, পাশাপাশি প্রয়োজন হয় তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণক্ষমতা।

(১০০১ ইনোভেশনস অবলম্বনে)

রণাঙ্গনে খালিদের আগমন

আরবের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকাই কি ছিল গঙ্গাঋদ্ধি রাষ্ট্রের রাজধানী?

নিম্নবর্ণের হিন্দুদের থেকে বাংলার মুসলমানদের উৎসতত্ত্ব : বয়ান ও বাস্তবতা (পর্ব ২)

খলিফা আবু বকরের রণকৌশল ও চার সেনাপতির অগ্রযাত্রা (দ্বিতীয় পর্ব)

ঈদ উৎসবে রঙিন রাজধানী

ফররুখ সত্ত্বা : বিনির্মাণ ও বৈভব

মুসলিম শাসনামলে ঈদ

মীর জুমলা গেট

খিলজি-পূর্ব আমলে বিক্রমপুরের প্রাচীনতম মসজিদের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ