হোম > সাহিত্য সাময়িকী > গল্প

প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে

রাফিউল রিফাত

২১ নভেম্বর, ২০২৫। শুক্রবার, সকাল ১০টা ৩৮ মিনিট। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের একটা ঘরে চাশতের নামাজ পড়ছিলেন শরীফ ওসমান হাদি। হঠাৎ প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে সারা দেশ কেঁপে ওঠে। হাদি তখন নামাজের শেষ রাকাতে বসে দরুদ পড়ছেন। নামাজে বসেই তিনি শুনতে পান বইয়ের তাক থেকে বইগুলো মেঝেতে আছড়ে পড়ছে, প্রচণ্ড দুলুনিতে তার পায়ের নিচের মেঝে যেন দুলনার মতো করে দুলছে। মহান আল্লাহর ওপর অগাধ আস্থাশীল হাদি বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে আরো একাগ্রতার সঙ্গে বাকি নামাজটুকু শেষ করেন। ততক্ষণে ভূমিকম্প থেমে গেছে।

সালাম ফিরিয়ে তিনি প্রশান্ত হৃদয়ে জায়নামাজে বসে থাকেন কিছুক্ষণ। মনে মনে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানান। তারপর দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন।

স্ত্রীর নাম্বারে ডায়াল করলেন—একবার, দুবার, তিনবার। কল ঢুকল না। ফোনে নেটওয়ার্ক আছে; কিন্তু মোবাইল অপারেটর থেকে বলছে, ‘আপনি যে নাম্বারে কল করেছেন তা সঠিক নয়, দ্য নাম্বার ইউ হ্যাভ ডায়ালড ইজ নট ভ্যালিড।’

এটা কেমন কথা, বেশ অবাক হলেন হাদি। ঠিক সেই সময় তার চোখ পড়ল ফোনের স্ক্রিনে জ্বলজ্বল করতে থাকা ঘড়িটার দিকে, আর চমকে উঠলেন শরীফ ওসমান হাদি।

ঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে বেলা ২টা ২৪ মিনিট, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫। এটা কী করে সম্ভব? হাদির স্পষ্ট মনে আছে, তিনি যখন চাশতের নামাজে দাঁড়িয়েছেন তখন সকাল সাড়ে ১০টা, নভেম্বর মাসের ২১ তারিখ।

পাশের ঘর থেকে হইহল্লা আর কান্নাকাটির শব্দে হাদির ভাবনায় ছেদ পড়ল। হাদি ব্যস্তভাবে পাশের ঘরে গেলেন। দেয়ালে ঝোলানো বড় ডিজিটাল ঘড়িটায় জ্বলজ্বল করছে, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, বেলা ২টা ২৪ মিনিট। কিন্তু তখন এসব ভাবার সময় নেই। হাদি চোখের সামনে প্রথম ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হয়েছে, ভাই?’

ছেলেটি তখন হাউমাউ করে কেঁদে উঠল, ‘আমাদের হাদি ভাইকে গুলি করসে ভাই, হাদি ভাইয়ের মাথায় গুলি করসে।’

হাদি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, ‘কোন হাদি ভাই?’

ছেলেটির কান্নাভেজা চোখে বিস্ময় ঝরে পড়ল; বলল, ‘আমাদের শরীফ ওসমান হাদি ভাই, আমাদের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক।’

হাদির মাথায় তখন যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে। এটা কী শুনছেন তিনি! তিনি নিজে শরীফ ওসমান হাদি, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। দাঁড়িয়ে আছেন তার নিজের প্রতিষ্ঠা করা প্রাণের প্রতিষ্ঠান ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারে। তিনি কীভাবে গুলি খেতে পারেন?

মাথার ভেতর সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। যদিও জায়গাটা তার পরিচিত, কিন্তু আশেপাশের মুখগুলো অচেনা। তিনি ঘোরলাগা অবস্থায় শুনতে পেলেন তার আশেপাশের সবাই চিৎকার করে বলাবলি করছে, ‘হাদি ভাইয়ের গুলি লাগসে, সবাইকে ফোন করো, তাড়াতাড়ি ঢাকা মেডিকেলে আসতে বলো, হাদি ভাইয়ের জন্য অনেক রক্ত লাগবে, ডোনার লাগবে। সবাই তাড়াতাড়ি ঢাকা মেডিকেলে চলো।’

ঢাকা মেডিকেলের ইমারজেন্সিতে পৌঁছে হাদি দেখতে পেলেন গুলিবিদ্ধ সেই হাদি নামের ছেলেটিকে। সারা গা রক্তে মাখামাখি। গুলি মাথার একদিক দিয়ে ঢুকে অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। তার পাশে দাঁড়িয়ে তার সহযোদ্ধারা ছোটাছুটি-কান্নাকাটি করছেন, ডাক্তাররা ব্যস্তভাবে তাকে শুশ্রূষা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, তাদের কাউকেই তিনি চেনেন না!

বাইরে ততক্ষণে ভিড় জমাচ্ছেন সাংবাদিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী আর সাধারণ মানুষ। তাদের চেহারাও হাদির অচেনা।

আজ দুপুর থেকে কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছেন না হাদি। তিনি ফোনের দিকে তাকালেন, আরো কয়েকটা নাম্বারে কল করার চেষ্টা করলেন। সেই একই কথা—‘আপনি যে নাম্বারে কল করেছেন তা সঠিক নয়।’

হাসপাতালের ভিড় ঠেলে একটা চা দোকানে গিয়ে বসলেন হাদি। টিভিতে নিউজ চ্যানেলে বড় করে গুলিবিদ্ধ সেই যুবকের ছবি দিয়ে বলা হচ্ছে—‘ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি আততায়ীর গুলিতে গুরুতর আহত, তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।’ দোকানের এক কোণে বসে এক বৃদ্ধ কাঁদছেন; বলছেন, ‘ছেলেটা দেশের ভালা করতে আইছিল, ছেলেটারে শেষ কইরা দিল। নিজের পেটের সন্তানের লাইগাও কোনোদিন এত কষ্ট হয় নাই।’

কিছুক্ষণ পর টিভিতে সরাসরি সম্প্রচার হতে লাগল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাষণ। তিনি এই বিশেষ পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু এ কী? এ কোন ড. ইউনূস। ড. ইউনূসের চেহারা তো এটা নয়। এ কোন জগতে চলে এসেছে হাদি? যে জগতের সবকিছু তার চিরচেনা ঢাকার মতো, সব মানুষের নাম তার জগতের মতো, কিন্তু চেহারাগুলো ভিন্ন। এই জগতেও তার জগতের মতো মানুষেরা ইনসাফের জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করে, ইনসাফের জন্য জীবন বিলিয়ে দিতে পিছপা হয় না।

হঠাৎ তার ভাবনায় ছেদ পড়ল অ্যাম্বুলেন্সের শব্দে। অ্যাম্বুলেন্সে করে এই জগতের ওসমান হাদিকে রাজধানীর সবচেয়ে আধুনিক আর ব্যয়বহুল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সকে ঘিরে জনতা স্লোগান দিচ্ছে—‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার।’

হাদি মনে মনে ভাবলেন, ‘এই হাসপাতালে আমার মতো সাধারণ মানুষের চিকিৎসা!’

ঠিক তখন শোনা গেল এক সুদর্শন চেহারার টগবগে যুবক ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের বলছেন, ‘হাদি ভাই সুস্থ থাকা অবস্থায় কোনোদিন হয়তো এই হাসপাতালের সামনে দিয়েও হেঁটে যেতেন না, কিন্তু আজ দেশবাসীর ইচ্ছায় আমরা হাদি ভাইকে সেখানে নিয়ে যাচ্ছি উন্নত চিকিৎসার জন্য। আপনারা সবাই আমার ভাইয়ের জন্য দোয়া করবেন।’

ক্লান্ত হাদি হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আবার তার প্রিয় ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের দিকে হাঁটতে লাগলেন। ঢাকার এই অংশটায় তখন লোডশেডিং চলছে। চারদিক অন্ধকার। মাথার উপর বিশাল আকাশের দিকে একবার চাইলেন হাদি। অগুনতি নক্ষত্ররাজিতে ছেয়ে আছে সমস্ত আসমান। নীরবে হাঁটতে হাঁটতে আজকের সারা দিনে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো চিন্তা করতে লাগলেন হাদি। পরম করুণাময় অসীম প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তায়ালার এই অনন্ত অসীম সৃষ্টিজগতের রহস্যের আর কতটাই আমরা জানি? হয়তো আমাদের জগতের মতোই এমন আরো অসংখ্য জগৎ আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন, যেখানে আমার মতোই লাখে লাখে মুক্তিকামী মানুষেরা ঘুরে বেড়ায় এক টুকরো ইনসাফের ভূখণ্ড গড়ে তুলবে বলে।

হাদি ভাবতে থাকেন, আমি হয়তো কোনো প্যারালাল ইউনিভার্সে চলে এসেছি। বিজ্ঞান এই ধরনের সমান্তরালে চলতে থাকা দুই বা ততোধিক জগতের কথা স্বীকার করে। এই ব্যাপারে অনেক বই পড়েছেন হাদি। এমনকি স্কুল-কলেজে থাকতে হুমায়ূন আহমেদের কয়েকটা উপন্যাসেও এরকম জগতের বর্ণনা পড়েছে। সেও হয়তো এমনই কোনো টাইম অ্যান্ড স্পেসের গোলকধাঁধায় পড়ে এক জগৎ থেকে অন্য আরেক সমান্তরাল জগতে এসে উপস্থিত হয়েছে, যে দুই জগতের সবই এক, শুধু মানুষগুলোর চেহারা কিছুটা অন্য রকম। আর দুই জগতের সময়ের পার্থক্য মাত্র ২০ দিন। তাহলে কি তিনি টাইম ট্রাভেল করেছেন? কী জানি! এত কিছু ভাবতে চাইলেন না হাদি; কারণ ইনকিলাব সেন্টারে পৌঁছে শত শত সদস্যের কান্না আর স্মৃতিচারণ দেখে হাদি চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না। সবাই হাতে থাকা স্মার্টফোনে হাদির পুরোনো সব ভিডিও দেখছেন; হাদির স্লোগান—‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ’, ‘দিল্লি না ঢাকা’, ‘গোলামি না আজাদি’ প্রভৃতি।

বিভিন্ন স্মার্টফোনে চালানো ভিডিও থেকে আরো কিছু টুকরো টুকরো কথা ভেসে এলো—‘দেশ, রাষ্ট্র ও জাতির জন্য কিছু না করতে পেরে ৫০ বছর বেঁচে থেকে কী লাভ? এর চেয়ে এক বছর সিংহের মতো বাঁচা ভালো… একজন বিপ্লবীর মৃত্যু হবে সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে, রাজপথে, গ্লোরির মৃত্যু… আমি স্বপ্ন দেখি, কোনো একটা তুমুল মিছিল… একটা বুলেট এসে আমাকে বিদ্ধ করেছে… আমি হাসতে হাসতে শহীদ হয়ে গেছি।’

হাদি ভাবলেন, এটা তো আমার কথা। আমি তো এভাবেই ভেবেছিলাম।

হাদির চোখে-মুখে একটা পরিতৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। তিনি সন্তুষ্ট চিত্তে ইনকিলাব সেন্টারের বাইরে বেরিয়ে এলেন। তার নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহৃত সাইকেল ভ্যানটা সেখানে দাঁড়িয়ে আছে, তিনি সেটার উপর শুয়ে আকাশের অসংখ্য তারার দিকে তাকিয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।

এর পরের এক সপ্তাহ হাদি সমস্ত ঢাকা শহর পায়ে হেঁটে ঘুরে বেড়ালেন। শহরজুড়ে হাদির জন্য কান্না আর আফসোস। মেঘাচ্ছন্ন ঢাকায় সবার মন আজ বিষণ্ণ। ফজরের নামাজ পরে বের হওয়া সেই বৃদ্ধ মুসুল্লি, সেই চা দোকানি, যে তার সারা দিনের রোজগারের টাকাটা ইলেকশন ক্যাম্পেইনের জন্য দিয়েছিলেন, কিংবা রিকশায় বসে থাকা অচেনা মা কিংবা আরো কত-শত নাম না জানা মানুষেরা… সবার চোখে আজ বৃষ্টি।

গুলিবিদ্ধ হাদিকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলো রাষ্ট্রীয় প্রটোকলে, সংসদ সদস্য হওয়ার আগেই। হাদি সবটাই দেখলেন, মনে মনে ভাবলেন, তিনি তো বাঁচতে চেয়েছিলেন জনতার কাতারে, ভিআইপিদের মতো করে নয়।

হাদির সেই আশাও পূরণ হলো। হাদির মৃত্যুর সংবাদ এলো বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে। অর্থাৎ ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুক্রবার রাত, জুমার রাত। ওসমান হাদিকে আল্লাহ একজন শহীদ হিসেবে কবুল করেছেন। সমান্তরাল জগৎ থেকে আসা হাদির চোখেমুখে আনন্দ ঝিলিক দিয়ে উঠল। এই মৃত্যুই তো হাদি চেয়েছিলেন, এই মৃত্যুই তো যুগে যুগে সকল জগতের সকল হাদিরা চান।

হাদি যে সংসদে দাঁড়িয়ে ন্যায় আর ইনসাফের কথা বলতে চেয়েছিলেন, সেই সংসদ ভবনের সামনে হাদির জানাজায় অংশ নিলেন সারা দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মানুষ। সেখানে তারা স্লোগান তুললেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’ শহীদ হাদির জন্য কান্নায় ভেঙে পড়লেন শত শত সহযোদ্ধা, হাজার হাজার ছাত্রজনতা, লাখো মুক্তিকামী আর কোটি কোটি দেশবাসী।

১৮ ডিসেম্বর সে জানাজায় শামিল হলেন প্যারালাল ইউনিভার্স থেকে আসা আরেক ওসমান হাদি। আমাদের হাদির মতো সেই হাদিও ইনসাফের চাষাবাদ করতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশের প্রতি ইঞ্চি জমিতে। সেই ইনসাফের চারাগাছেরা আজ নতুন সূর্যের আলোয় মুখ তুলেছে। ধীরে ধীরে তারা লক্ষ কোটি মহিরুহ হয়ে উঠবে। বাংলার জমিনে ইনসাফের হুকুমত কায়েম হবে।

জানাজা শেষে সালাম ফেরানোর পরপরই সমবেত জনতা আফসোসের সুরে বলে উঠল, ‘আহারে হাদি, তুমি যদি দেখতে, সমস্ত দেশবাসী তোমার জন্য কী করছে, কতটা সম্মান, কতটা ভালোবাসা তোমার জন্য জমা করা ছিল, আহারে হাদি, আহারে।’

মুচকি হাসলেন অন্য জগতের বিপ্লবী হাদি। হাদি দেখেছেন, হাদি জেনেছেন। হাদি এও জেনেছেন, তার শহীদি তামান্না অচিরেই পূর্ণ হতে চলেছে। আর বেশি দেরি নেই।

ঠিক তখন আবারও একটা শক্তিশালী ভূমিকম্পে পায়ের তলার মাটি কেঁপে উঠল আর হাদি নিজেকে আবিষ্কার করলেন মসজিদে। দেয়ালের ডিজিটাল ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলেন, ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় বেলা ২টা। হাদি ফিরে এসেছেন তার জগতে, সমান্তরাল আরেক জগতের ভ্রমণ শেষ করে। আর আজকেই সেই দিন।

হাদি ধীর পায়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে এলেন। একটা ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়ে এগিয়ে চললেন বিজয়নগরের দিকে। শুনতে পেলেন তার পেছন থেকে এগিয়ে আসছে একটা মোটরসাইকেল, তার আততায়ী। হাদির চোখমুখ তৃপ্তির হাসিতে ভরে উঠল। তার শহীদি তামান্না আজ মহান আল্লাহ পাক পূরণ করবেন, আল্লাহ তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করে নিয়েছেন।

হাসিমুখে চোখ বুজলেন হাদি, মনে মনে পড়লেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’

যেভাবে বেড়ে উঠি (তৃতীয় পর্ব)

অপেক্ষা ও অশরীরী জ্যামিতি

পতাকা

বিমূর্ত দোলাচল

পোয়েটস অ্যাভেন্যু

দিলা গড়েতির দ্বিতীয় বাসর

নায়িকার ছবি

অবসর জীবনে

আম্মা ও কুইন্সল্যান্ড

ভুল নামে ভোর