দেশের মূল খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত না করে চরাঞ্চল, লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ এলাকার মতো কম ফসলি জমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
আজ বিশ্ব তুলা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর খামারবাড়িস্থ তুলা ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ‘তুলা উন্নয়ন বোর্ড’ আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষিমন্ত্রী বলেন, “দেশের তুলার মান অত্যন্ত ভালো। খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রেখে কৃষিপণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি বাড়াতে সীমিত কৃষিজমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। যেসব এলাকায় প্রচলিত খাদ্যশস্যের উৎপাদন তুলনামূলক কম, সেখানে তুলাসহ বিকল্প ফসলের আবাদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।”
২০৩০ সালের মধ্যে দেশে তুলার উৎপাদন ৫ লাখ বেলে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, কোন কোন অঞ্চলে নতুন করে আবাদ সম্প্রসারিত হবে, কতটুকু জমি ব্যবহৃত হবে এবং কতজন কৃষককে সম্পৃক্ত করা হবে—পরিকল্পনায় তা সুনির্দিষ্টভাবে থাকতে হবে। পাশাপাশি তুলা চাষের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে হলুদসহ অন্যান্য লাভজনক ফসল চাষের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও জোর দেন তিনি।
রঙিন তুলার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিকভাবে রঙিন তুলা উৎপাদন করা গেলে কাপড়ে কৃত্রিম রঙের ব্যবহার কমবে, যা পরিবেশবান্ধব পণ্যের বিশ্ববাজারে বড় অবদান রাখবে। এ-সংক্রান্ত গবেষণা ও বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
কৃষি গবেষণার জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “কম জমিতে বেশি উৎপাদন ও ব্যয় কমানোর মাধ্যমে কৃষিকে প্রতিযোগিতামূলক করতে হবে। অর্থায়ন কোনো বাধা হবে না, তবে কাজের গতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।”
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সলিম খান এবং সম্মানীয় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ কৃষি অর্থনীতিবিদ সমিতির মহাসচিব অধ্যাপক এএসএম গোলাম হাফিজ।