গত ১৫ বছরে এক হাজার ৩৩৪টি রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। ছোট-বড় এই রেল দুর্ঘটনার মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ঘটেছে এক হাজার ৫১টি এবং পশ্চিমাঞ্চলে ঘটেছে ২৮৩টি।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে কুমিল্লা-৯ আসনের আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম জাতীয় সংসদকে এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়।
ওই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা প্রধানত রেললাইন, পয়েন্টস এন্ড ক্রসিংয়ের ত্রুটির কারণে বগি লাইনচ্যুত হয়। এছাড়া চাকার শার্পফ্রেঞ্জ, গেজ’র অসামঞ্জস্যতা, প্রাকৃতিক কারণে রেললাইন বেঁকে বা দেবে গিয়ে বগি লাইনচ্যুত হতে পারে।
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেল প্রকল্প নির্মাণে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোন অভিযোগ এখনো পাওয়া যায়নি। অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, মেট্রোরেল এমআরটি-৬ (উত্তর উত্তর-কমলাপুর) প্রকল্পে ডিপিপি তিনবার সংশোধন বরা হয়েছে। প্রথমে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি সাত লক্ষ টাকা। ২য় সংশোধনীতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৩৩ হাজার ৪৭১ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। সর্বশেষ ৩য় সংশোধনীতে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৩২ হাজার৭১৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, বিগত ১৫ বছরে (২০১১-২৬) বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ৬৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ, ৪১টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ, ৩২০টি ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ, ৪৮২টি মিটারগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। যাতে ব্যয় হয়েছে ছয় হাজার ৭৭০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, গত দেড় দশকে ছোট-বড় মিলিয়ে পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে ১৩৩৪টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পূর্বাঞ্চলে ১০৫১ ও পশ্চিমাঞ্চলে ২৮৩টি। দুর্ঘটনা প্রধানত রেলাইন, পয়েন্টস এবং ক্রসিং এর ত্রুটির কারণে বগি লাইনচ্যুত হয়। এছাড়া চাতার শার্প ফ্লেঞ্জ, গেজের অসামঞ্জ্যতা, প্রাকৃতিক কারণে রেললাইন বেঁকে যাওয়া বা দেবে গেলেও বগি লাইনচ্যুত হতে পারে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রেললাইন রক্ষণাবেক্ষণ করাসহ নতুন রেললাইন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। তাছাড়া দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তি বা বিভাগের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
কুমিল্লা-১০ আসনের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, মহাসসড়কে সেচ ইঞ্জিন দিয়ে পরিচালিত অবৈধ যান আটক করে ডাম্পিং স্টেশনে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ২০২৪ সালে জেলা ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে এক হাজার ৪১৭টি, ২০২৫ সালে এক হাজার ১২৩টি এবং ২০২৬ সালে ৩৬৪টি বাল্য বিবাহ বন্ধ করা হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সেবা প্রদানের জন্য সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭টি ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) স্থাপন করার সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিউআরটি প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান ১৪টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের কার্যক্রম জোরদারকরণসহ ২৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ওসিসি সেন্টার স্থাপন প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়াও ৬৪ জেলায় ওসিসি স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে মোট ১৫টি জেলায় ১৫টি ওসিসি স্থাপন করা হয়েছে যেখান হতে মোট ৮২ হাজার ৭০৮ জন নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুকে সমন্বিত সেবা প্রদান করা হয়েছে। যেখানে শিশু ২৪ হাজার ৭৫৩ জন। এর মধ্যে শারীরিক নির্যাতন শিকার হয়েছে ৪ হাজার ৫৮০ জন, যৌন নির্যাতন ২০ হাজার ৫ জন ও দগ্ধ ১৬৮ জন।
ফরিদপুর-৪ আসনের শহিদুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলসমূহের কার্যক্রম পুনর্গঠন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার ১ জুলাই ২০২০ তারিখে ২৫টি পাটকলের পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। এই মিলগুলোর সম্পদ সংরক্ষণপূর্বক দীর্ঘমেয়াদী ইজারা, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), জি-টু-জি বিনিয়োগসহ অন্যান্য উপযোগী পদ্ধতিতে পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী ইজারার মাধ্যমে ২০টি মিল পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।