দেশে চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জন চাকরিতে যোগ দেননি। ১ অক্টোবর ছিল তাদের যোগদানের নির্ধারিত তারিখ। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের হিসাবে, নিয়োগপত্র পাওয়া ১৩ হাজার ৭৪৮ জনের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন যোগ দিয়েছেন। বাকি ৯১৮ জন যোগ দেননি।
সহকারী শিক্ষক পদটি ১৩তম গ্রেডের; নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী এ পদে ভাতাসহ শুরুতে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি চাকরির নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার কারণে পদটি চাকরিপ্রার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় হলেও এতজনের যোগ না দেওয়ায় বিস্ময় তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, তাদের কেউ অন্য চাকরিতে যুক্ত থাকতে পারেন বা একই সময়ে পাওয়া অন্য কোনো সুযোগ বেছে নিয়েছেন। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম বলেন, নয় শতাধিক প্রার্থী যোগ না দেওয়ায় অধিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে চাকরিতে যোগ দেওয়া না-দেওয়া ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ধারণা করা যায়, অনেকে এর চেয়ে ভালো চাকরি পেয়েছেন।
চট্টগ্রামেই নিয়োগপত্র পাওয়া ৫২৫ জনের মধ্যে ৬৪ জন যোগ দেননি। সারা দেশে ৬১ জেলায় একই চিত্র দেখা গেছে। যারা যোগ দিয়েছেন, তাদের ওরিয়েন্টেশন কার্যক্রম চলছে। নতুন শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে পদায়নের কথা রয়েছে ১১ অক্টোবর। নির্ধারিত সময়ে যোগ না দিলে সাধারণত পরে যোগদানের সুযোগ থাকে না।
এদিকে এই নিয়োগ নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক রয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। পরে নিয়োগপত্র দেওয়ার সময় প্রথম তালিকায় বিপুলসংখ্যক সুপারিশপ্রাপ্তের নাম না থাকায় আন্দোলন শুরু হয়। যাচাই-বাছাই শেষে অধিকাংশকে নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও এখনো ৮০ জনের বেশি প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে। তাদের কারও বিরুদ্ধে মামলা বা অন্য জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
অন্যদিকে, দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকসংকট রয়েছে। ৩৬ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদ শূন্য থাকায় সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এতে আরও সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জনের যোগ না দেওয়া প্রাথমিক শিক্ষার বিদ্যমান শিক্ষকসংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্রবঞ্চিত রংপুরের পীরগঞ্জের পশালবাড়ীর মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, নিয়োগপত্র পাননি এমন ৩১ জনের তথ্য তাঁরা সংগ্রহ করেছেন। এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।
তিনি বলেন, এখন আমরা হাইকোর্টে রিট করার দিকে এগুচ্ছি; এ ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। কেননা, গত দুই দিন আগে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে বসেছিলাম; সেখানে পুলিশ আমাদের হয়রানি করেছে; ফোন কেড়ে নিয়েছিল।