হাইকোর্টের নির্দেশনার পরও বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) নির্বাচন অজ্ঞাত কারণে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার ৩ জুন বিএসবিআরএ নির্বাচন-২০২৬ অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল।
এর আগে সোমবার বিচারপতি বিষ্ণুদেব চক্রবর্তী এবং আসিফ হাসান এ নির্বাচনে সভাপতি পদে আমজাদ হোসেন চৌধুরীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করে রুল জারি করে। কিন্তু মঙ্গলবার বিএসবিআরএ নির্বাচন বোর্ড এক নোটিশে জানায়, ৩ জুন অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষে চলমান কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আখতার উল চৌধুরী এবং সদস্য মো. রাবেল প্রধানিয়া ও আশরাফ মাহমুদের স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে বলা হয়, পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হলো।
এ বিষয়ে জানার জন্য বিএসবিআর’র বর্তমান প্রশাসক এবং উপ-সচিব আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহেদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এদিকে হঠাৎ অজ্ঞাত কারণে নির্বাচন বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সাধারণ ভোটারগন।
সভাপতি পদপ্রার্থী আমজাদ হোসেন চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, হাইকোর্টের রায়ে তার প্রার্থিতার বিষয়ে আর কোনো আইনি বাধা না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হওয়ার পরও প্রশাসক ও নির্বাচন কমিশন পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন স্থগিত করেছে। মাত্র ৮৪ সদস্যের এসোসিয়েশনে তার প্রার্থীতার মনোনয়নপত্র যুক্ত করার জন্য নির্বাচন স্থগিতের কোন কারণ দেখছি না।
আমজাদ হোসেন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, হাইকোর্টে আইনি লড়াই শেষে আমার প্রার্থিতার বৈধতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এরপরও নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত রহস্যজনক। সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে একটি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এর আগে হাইকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব জানান, সভাপতি পদের জন্য আবেদনকারী আমজাদ হোসেন চৌধুরীর মনোনয়নপত্র অবিলম্বে গ্রহণের নিদেশনা দিয়েছে আদালত। একই সাথে অনুষ্ঠাতব্য নির্বাচনে তাকে (প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী) ব্যালট পেপারে অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সমান সুযোগ দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও নির্বাচন বোর্ডকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হাইকোর্ট প্রার্থিত শর্তাবলি ও নির্দেশনাবলি অনুসারে নির্বাচন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবাদীগণের (বিবাদী) ওপর কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন।
আইনজীবীরা সাংবাদিকদের জানান, মনোনয়নপত্র নিয়ে যে অন্যায় ও নিয়মবহির্ভূত জটিলতা তৈরি করে একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার হীন চেষ্টা করা হয়েছিল, আদালতের এ আদেশের মাধ্যমে তা ধূলিসাৎ হয়েছে এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন নির্বাচনে অংশ নিতে আমজাদ হোসেন চৌধুরীর পক্ষে কোনো আইনি বাধা নেই।