ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত প্রধান দুই আসামিকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। শনিবার দিবাগত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বলছে, ফয়সাল করিম মাসুদ ও সহযোগী আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মী ওসমান হাদিকে হত্যা করে ভারতে পালিয়ে আসে। মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে তারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরার পর বাংলাদেশে ‘ফেরার উদ্দেশে’ শেষ পর্যন্ত বনগাঁয় আসে।
এসটিএফ বলছে, দুই বাংলাদেশি তাদের দেশে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ গুরুতর অপরাধ করে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে বলে ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ তথ্য ছিল। তারা সুযোগ পেলে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করছিল।
এ তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার গভীররাতে বনগাঁ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে মামলা করা হয়েছে জানিয়ে এসটিএফ বলছে, রোববার আদালতে হাজির করার পর তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মোটরসাইকেলে এসে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা রাজধানীর পল্টন এলাকায় হাদীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে পরে তার মৃত্যু হয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলাকারীদের একজন হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদকে শনাক্ত করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার তার গ্রেপ্তারে তথ্য দিলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
এর আগে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ফয়সাল করিম মাসুদ, তার প্রতিষ্ঠান অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড এবং পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হামলার পেছনে কোনো আর্থিক যোগসাজশ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা এবং অর্থ স্থানান্তর বা গোপন করার সম্ভাবনা ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
হাদী হত্যা মামলায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের থানায় মামলা করেন।