জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থ-বছরের সাধারণ বাজেটের অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ১০ হাজার ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থ-বছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ৯ হাজার ৬৯ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় স্পিকার মেজর (অব.) এম হাফিজউদ্দিনের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এই বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আগে সংসদীয় কার্য-উপদেষ্টা কমিটির সভায় এ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের নিত্যসঙ্গী এবং এর ফলে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিনষ্ট হয়ে থাকে। আমাদের সরকার টেকসই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমনের উপর অধিক গুরুত্ব প্রদান করেছে। একই সাথে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১১ লক্ষাধিক মিয়ানমারের নাগরিকের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গ্রামীণ অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা
অর্থমন্ত্রী জানান, অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)-এর আওতায় প্রায় ২০ লাখ গ্রামীণ শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হয়েছে, যার এক-তৃতীয়াংশই নারী। গ্রামীণ অবকাঠামো সচল রাখতে চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) খাতে ১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) খাতে ১ হাজার ৪৫৪ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভিজিএফ ও কাবিখা কর্মসূচির মাধ্যমে ৫ লাখ মেট্রিক টনের অধিক খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়েছে।
চলমান ও ভবিষ্যৎ অবকাঠামো প্রকল্প
বর্তমানে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৫০টি দুর্যোগ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া নদী ভাঙন ও বন্যা প্রবণ এলাকায় আরও ৪৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে ব্যাপক খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। সরকারের প্রথম ৬ মাসে ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ১,৫০০ কিলোমিটার খাল, নদী ও নালা খননের এবং ১ লাখ চারা রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কাজ চালানো হচ্ছে।
প্রযুক্তি ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম
বড় ধরনের দুর্যোগে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের লক্ষ্যে 'ন্যাশনাল ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার' (এনইওসি) স্থাপনের জন্য জমি ক্রয় করা হয়েছে এবং নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এছাড়া ভূমিকম্প ও অন্যান্য দুর্যোগের জন্য প্রায় ৫২১ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক উদ্ধার যন্ত্রপাতি ও ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটফর্ম ল্যাডার ক্রয় করা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) জন্য বেতার যোগাযোগ ১০০ ভাগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ৭৮ হাজার ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবকের একটি অনলাইন ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে। স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাহায্যে দুর্যোগ পূর্বাভাস কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং নদীভাঙন পর্যবেক্ষণে আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত ক্ষুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে এবং যেকোনো প্রান্ত থেকে টোল-ফ্রি ১০৯০ নম্বরে ডায়াল করে মুহূর্তেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা যাচ্ছে। বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি ও জানমাল রক্ষায় আগামীতেও আধুনিক রেসকিউ সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে বলে বাজেট বক্তৃতায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।