২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কিত ও রক্তাক্ত অধ্যায় হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেছেন, সেদিন রাজধানীর পল্টন ও বায়তুল মোকাররম এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে লগি-বৈঠা দিয়ে নিরীহ মানুষকে পিটিয়ে হত্যা এবং মরদেহের ওপর পৈশাচিক উল্লাসের যে দৃশ্য জাতি প্রত্যক্ষ করেছিল, তা কোনো সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘সেদিনের সংঘাতের মূলে ছিল তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন ও প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ। বিচারপতি কে এম হাসানকে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি চলাকালে ভয়াবহ সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পূর্বে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি লগি-বৈঠা নিয়ে ঢাকায় প্রবেশের যে প্রকাশ্য আহ্বান ছিল, তা ছিল পূর্বপরিকল্পিত সহিংসতার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। সেই উসকানিমূলক আহ্বানের ধারাবাহিকতায় রাজপথে প্রকাশ্য দিবালোকে বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘চব্বিশের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি হয়েছে, সেখানে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তখনই অর্থবহ হবে, যখন অতীতের সব রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিচারহীনতার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে। দলীয় প্রভাব কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার জন্য প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা রাষ্ট্র ও অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব।’
নিহতদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা ২৮ অক্টোবরের বর্বরোচিত হামলায় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। অতীতের বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে ভবিষ্যতে রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করতে হবে।’