সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ১২তলা সরকারি অফিস ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তিনটি বেজমেন্টসহ ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৮ কোটি ৭০ লাখ ৬৬ হাজার ৪৪৪ টাকা।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হলে কমিটি তা পর্যালোচনা শেষে অনুমোদন দেয়।
এদিন সভায় মোট ১১টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি প্রস্তাব আলোচনার তালিকা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় ৩টি বেজমেন্টসহ ১২তলা অফিস ভবন নির্মাণ, অভ্যন্তরীণ স্যানিটারি, পানি সরবরাহ ও বিদ্যুতায়ন কাজ’ শীর্ষক প্রকল্পের প্যাকেজ ডব্লিউ-০২-এর আওতায় নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। পুরো অর্থ সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শেরেবাংলা নগর প্রশাসনিক এলাকায় বহুতল সরকারি অফিস ভবন নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এছাড়াও বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। টিসিবির ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠান পিটি ট্রিনিটি কাহায়া এনার্জি এই তেল সরবরাহ করবে। পুরো ক্রয়ে সরকারের ব্যয় হবে ২৮২ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। প্রতি লিটার তেলের আমদানি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৪১ টাকা ২৮ পয়সা।
র্যাবের অভিযানিক সক্ষমতা বাড়াতে ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ ও ৬০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের কাছ থেকে ১২২ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় এসব যানবাহন সংগ্রহ করা হবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবে স্পট মার্কেট থেকে আরও তিন কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জুন মাসে সরবরাহের জন্য নির্ধারিত ২০তম, ২১তম ও ২২তম কার্গো যথাক্রমে ভাইটল এশিয়া, বিপি সিঙ্গাপুর এবং গানভর সিঙ্গাপুর থেকে সংগ্রহ করা হবে। এসব এলএনজি আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ১৮৬ কোটি ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ২২২ টাকা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পেও অতিরিক্ত ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভূমি উন্নয়নকাজের পাঁচটি প্যাকেজে ভ্যারিয়েশন বাবদ সংশোধিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৯৯ কোটি ৭৭ লাখ ৫ হাজার টাকা।
বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় ঢাকা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা আরও উন্নত করতে নতুন সাব-স্টেশন নির্মাণ ও ভূমি উন্নয়নসংক্রান্ত তিনটি পৃথক প্যাকেজ অনুমোদন পেয়েছে। কনসোর্টিয়াম অব ইইএল অ্যান্ড এফএইচএল এবং রেভারি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড যৌথভাবে প্রকল্পগুলোর কাজ বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা।
এছাড়া একই বৈঠকে সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট এবং ভেড়ামারা ৪১০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে পুনর্নির্ধারিত লেভেলাইজড ট্যারিফে বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (নওপাজেকো) থেকে এই বিদ্যুৎ সংগ্রহ করা হবে। নতুন নির্ধারিত দরে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতের ইউনিট মূল্য হবে ৪ টাকা ৬৫ পয়সা। আর ডিজেলচালিত উৎপাদনের ক্ষেত্রে সিরাজগঞ্জ কেন্দ্রের জন্য ইউনিটপ্রতি ২০ টাকা ৬৩ পয়সা এবং ভেড়ামারা কেন্দ্রের জন্য ২০ টাকা ৬৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এএস