পঞ্চগড় থেকে গরু কিনে ফেরার পথে ডাকাতের ধাওয়া, চাঁদাবাজির চেষ্টা ও হয়রানির আশঙ্কার মধ্যে পড়ে শেষ পর্যন্ত পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেয়েছেন এক গরু ব্যবসায়ী। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে গন্তব্যের পথে এগিয়ে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ীর নাম হেলাল আহমেদ। তিনি রাজধানীর ডেমরা এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর ডেমরা এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী হেলাল আহমেদ। আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে গরু কিনে দুটি পিকআপ ও একটি ট্রাকে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। তেঁতুলিয়ার বেশ কয়েকটি গ্রাম থেকে ২৪টির মতো গুরু কিনেন হেলাল। পরে সেগুলো নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন। পথে সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে একটি প্রাইভেটকার ও ৮-১০টি মোটরসাইকেলে থাকা একদল ব্যক্তি তাদের অনুসরণ করতে থাকে।
একপর্যায়ে ওই লোকগুলো গরুভর্তি ট্রাক থামাতে বলে ও বকাঝকা করে। তখন হেলাল ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনের সন্দেহ হয়- তাদের অনুসরণ করা লোকগুলো সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র। পরিস্থিতি আঁচ করতে হলে তারা গরুভর্তি গাড়ি না থামিয়ে দ্রুত পঞ্চগড় সদর থানার সামনে এসে গাড়ি থামান। সেখানে থানা-পুলিশের সহযোগিতা চান তারা। পরে ডাকাতদল পালিয়ে যায় এবং পুলিশ তাদের নিরাপত্তায় এগিয়ে আসে।
তবে থানায় নেওয়ার পরও বিপত্তি কাটেনি। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র ব্যবসায়ীকে অবাঞ্ছিত প্রশ্ন করে টাকা আদায়ে চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা ব্যবসায়ীকে গরু চুরি করে আনার অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। তারা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টাও করে।
পরে ভুক্তভোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদকে। অভিযোগ পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলামকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। পরে পুলিশ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও যাদের কাছ থেকে গুরু কেনা হয়েছে তাদের বক্তব্য নেয়। কোনো অসঙ্গতি না পেয়ে গরুগুলো ছেড়ে দেয়। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার স্বার্থে সদর থানা-পুলিশ প্রায় চার কিলোমিটার পর্যন্ত গরুগুলোসহ ব্যবসায়ীকে এগিয়ে দেয়।
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হেলাল আহমেদ আমার দেশকে বলেন, “তেঁতুলিয়া থেকে গরু কিনে ফেরার পথে একদল লোক আমাদের পিছু নেয়। পরে তারা গাড়ির গতিরোধের চেষ্টা করে। আমরা বিপদ বুঝতে পেরে দ্রুত থানায় চলে যাই। এরপর একটি গোষ্ঠী আমাদের বিভিন্ন অপবাদ ও আখ্যা দিয়ে মারধরের ভয়ও দেখায়। পরে পরিচিতজনদের মাধ্যমে মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে কোনো হয়রানি ছাড়াই পুলিশ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে গরুগুলো ছেড়ে দেয়। এ সময় পুলিশ আমাদের গাড়িকে সামনের থানা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়।
হেলাল আহমেদ আরও বলেন, “এমপির উদারতায় আমাদের কাজটা সহজ হয়ে যায়। মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত থেকেও রেহাই পেয়েছি।”
জানতে চাইলে পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রীর নির্দেশনা পেয়ে আমরা বিষয়টি যাচাই-বাচাই করি। পরে কোনো সমস্যা না থাকায় আইনিপ্রক্রিয়া শেষে ওই গরুগুলোনহ ওই ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদের নিরাপত্তায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বিষয়টি জানার পর আমি ওসিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি। কেউ ঝামেলা করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সরকার গরুর ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তরিক। স্থানীয় প্রশাসনকে সে অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এএস