আ.লীগ সরকারের সময় যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, আমরা ভেরিভিকেশন করব। যথাযথ হয়েছে কি না… আশা করি এ কাজটা খুব দ্রুততার সাথে করতে পরব।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।
লাইসেন্সধারী কারা, যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কি না, তারা লাইসেন্স পাওয়ার উপযুক্ত কি না–আইন অনুসারে সে গুলো সবই যাচাই বাছাই করা হবে বলে জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্র ন্ত্রী বলেন, এটা যাচাই করার পর কী পরিমাণ লাইসেন্সের যোগ্যতা আছে, তাদের লাইসেন্স আমরা বহাল রাখব। আবার দেখা যাবে যাদের দেওয়া ঠিক হয়নি, যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করেনি, তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করার উদ্দেশে পেয়েছে, সে বিবেচনায় তাদের বাতিল করা হবে। একই সাথে সেই লাইসেন্সের অধীনে কোনো অস্ত্র থাকলে তা বাজেয়াপ্ত হবে।
সোমবারই এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হবে বলে জানান সালাউদ্দিন আহমেদ।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে কতগুলো লাইসেন্স, কতগুলো লাইসেন্সধারী অস্ত্র আছে, তার পরিসংখ্যান তৈরি করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের সূত্র ধরে মন্ত্রী বলেন, দপ্তরের সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হলাম। প্রত্যেক দপ্তরের প্রধানদের সাথে আবার আলাদা আলাদা কথা বলব। আজকে যে আলোচনা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন করা। জনগণকে শান্তি- স্বস্তি দেওয়া। জন প্রত্যাশা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জনগণের বন্ধুতে পরিণত করা। সেই লক্ষ্যে কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি আমরা।
জমা না পড়া ১০ হাজার অস্ত্র ‘অবৈধ হয়ে গেছে’
নির্বাচনের আগে সদ্য বিদায়ী অন্তবর্তী সরকার বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র জমা পড়েনি বলে তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এসবস অস্ত্র আইনানুগভাবে অবৈধ হয়ে গেছে। সেগুলো উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে। সেগুলোর ব্যাপারে মামলাও করা যেতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কতগুলো মামলা হয়েছে দেখে এগুলো আমরা রেগুলার করবে।
৫ অগাস্টের পরের মামলা যাচাই করা হবে
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগের সরকার পতনের পর যে শতশত মামলা হয়েছে, তার সবই যে সঠিক ছিল না, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তা স্বীকার করে নেন।
তিনি বলেন, কিছু সুবিধাবাদী মানুষ এগুলো সুযোগ নিয়ে ভোগান্তির সৃষ্টির জন্য অনেককে আসামি করেছে, যারা সেখানে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। বড় বড় ব্যবসায়ী, অনেক স্বনামধন্য ব্যক্তি, সমাজের বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
‘প্রটোকল’ সবাই পাবে না
জেলার পুলিশ সুপার অনেক সময় রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দিতে বাধ্য হন, সেটা যেন না করা হয়, সে ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিধির বাইরে কোনো প্রটোকল পুলিশ সুপাররা দেবেন না।
বিডিআর বিদ্রোহের নতুন তদন্ত হবে
বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমরা এটার জন্য আরেকটা তদন্ত কমিশন গঠন করার কথা বলেছি, আমাদের প্রতিশ্রুতি আছে। আমাদের ইশতেহারের মধ্যেও আছে। পুনঃতদন্ত বা কমিশন গঠন করে ন্যায়বিচারের জন্য… ।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি আশ্বাস দেন, পুলিশের যারা পদবঞ্চিত হয়েছে বিভিন্ন সময়ে, তারা অবশ্যই ন্যায়বিচার পাবে।