বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী কাল সকালে ঢাকায় আসছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আমার দেশকে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি কলকাতা হয়ে ঢাকা আসছেন বলে জানা গেছে।
তিনি রাষ্ট্রপতিনের মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করবেন। এর আগে গত ৫ জুন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে ভারতের নতুন হাইকমিশনারের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী।
ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হবেন দীনেশ ত্রিবেদী।তিনি এমন এক মুহূর্তে তার দায়িত্ব নিচ্ছেন, যখন পুশ ইন নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার কলকাতায় দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, আমরা শুধু সীমানার সঙ্গে সংযুক্ত নই। আমরা বাংলাদেশের মানুষ এবং তাদের স্বপ্নের সঙ্গে সংযুক্ত।
হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে ঢাকা আসার আগে দীনেশ ত্রিবেদী গতকাল কলকাতার নেতাজি ভবনে যান। তিনি সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, নেতাজির আদর্শই তার বেড়ে ওঠা এবং জনসেবার মানসিকতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। বাংলাদেশ ও ভারতের একটি অভিন্ন স্বপ্ন আছে, গণতন্ত্রের অভিন্ন স্বপ্ন। তাই শুধু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষই নয়, আমি এর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি মানুষকে যুক্ত করছি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমি নিশ্চিত যে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এদেশের মানুষ এবং বাংলাদেশের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করবেন যাতে আমরা যা অর্জন করতে যাচ্ছি তাতে সফল হতে পারি।
গত এপ্রিল মাসে ভারতের সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ সালে রেল বাজেট পেশ করার সময় যাত্রী ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে তিনি দলীয় নেতৃত্বের তোপের মুখে পড়েন এবং পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ ছাড়া তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন এবং পরের মাসেই বিজেপিতে যোগ দেন।
এআরবি