প্রকৃতি সংরক্ষণ, পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে প্রচারাভিযান চালাচ্ছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। ‘সি ইট, বি ইট’ নামের এই উদ্যোগের লক্ষ্য, পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিভিন্ন পেশা ও দক্ষতার মানুষের অবদান তুলে ধরা এবং তরুণদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেওয়া।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা, সৃজনশীলতা কিংবা সামাজিক নেতৃত্ব—প্রতিটি ক্ষেত্রের তরুণদেরই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা সম্পর্কে কল্পনা করতে হলে আগে এমন মানুষের কাজ ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে হবে, যারা ইতিমধ্যে পরিবেশ রক্ষায় পরিবর্তন আনছেন। এই ধারণা সামনে রেখেই প্রচারাভিযানটি পরিচালিত হচ্ছে।
ইউএনডিপির উদ্যোগে ‘সি ইট, বি ইট’ প্রচারাভিযানে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নে কাজ করা বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি উদ্ভাবক এবং স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হচ্ছে। তাদের গল্পের মাধ্যমে তরুণদের সামনে পরিবেশসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশা ও কাজের সুযোগ তুলে ধরাই এর উদ্দেশ্য।
প্রচারাভিযানটির মতে, বিশ্বের অনেক তরুণ—বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশের তরুণেরা—এমন আদর্শ ব্যক্তিত্ব, প্রশিক্ষণ ও কর্মজীবনের সুযোগের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান না, যা তাদের নতুনভাবে ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে সহায়তা করতে পারে। ফলে তাদের অনেকের কাছেই পরিবেশ রক্ষায় কাজ করার সম্ভাব্য পথগুলো অজানাই থেকে যায়।
এই পরিস্থিতি বদলাতে উদ্যোগটি পরিবেশের জন্য কাজ করা বিভিন্ন মানুষের অভিজ্ঞতা তুলে ধরছে। এর মূল বার্তা—কোনো সম্ভাবনা সম্পর্কে না জানলে তা নিয়ে স্বপ্ন দেখা কঠিন; আর নিজের মতো কাউকে সেই কাজে সফল হতে না দেখলে সেখানে নিজের অবস্থান কল্পনা করাও কঠিন।
পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজন সব ধরনের দক্ষতা
প্রকৃতি রক্ষা ও পুনরুদ্ধারের কাজ কেবল পরিবেশবিজ্ঞানীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর জন্য প্রয়োজন নতুন ধারণা তৈরি, জটিল সমস্যার সমাধান, টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলা, কার্যকর যোগাযোগ, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ, নীতিনির্ধারণে প্রভাব বিস্তার এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগ বাস্তবায়নের দক্ষতা।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, যোগাযোগ, আইন, নকশা, কৃষি কিংবা উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ—যে ক্ষেত্রেই তরুণদের দক্ষতা থাকুক না কেন, তা একটি সুস্থ ও টেকসই পৃথিবী গঠনে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে বলে মনে করে ইউএনডিপি।
জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রচেষ্টা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন খাত ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন কর্মসংস্থান ও পেশাগত সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে। প্রচারাভিযানটি এসব সম্ভাবনা সামনে এনে তরুণদের নিজেদের আগ্রহ ও দক্ষতার সঙ্গে মানানসই কাজ খুঁজে নিতে উৎসাহিত করছে।
প্রচারাভিযানে যুক্ত হওয়ার আহ্বান
‘সি ইট, বি ইট’ উদ্যোগে শুধু কর্মজীবন শুরু করতে যাওয়া তরুণদেরই নয়, শিক্ষক, নিয়োগদাতা, যোগাযোগকর্মী, যুবনেতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাব্য অংশীদারদেরও যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের গল্প তুলে ধরা, নিজেদের যোগাযোগমাধ্যম ও সামাজিক নেটওয়ার্কে প্রচারাভিযানের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া এবং স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র ও যুব সংগঠনের মাধ্যমে তরুণদের প্রশিক্ষণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইউএনডিপি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করে বিভিন্ন পেশার সফল ব্যক্তিদের সামনে আনা এবং নতুন শ্রোতাদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগও রয়েছে।
প্রচারাভিযানটির লক্ষ্য, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বের এক বিলিয়ন শিশু ও তরুণের কাছে প্রকৃতিবান্ধব ও স্বল্প-কার্বনভিত্তিক ভবিষ্যৎ গঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষ, দক্ষতা ও সুযোগের পরিচয় তুলে ধরা।
ইউএনডিপির এই উদ্যোগের মূল প্রত্যাশা, প্রত্যেক তরুণ যেন নিজের সম্ভাবনা আবিষ্কার করতে পারে এবং পৃথিবীর ভবিষ্যৎ গঠনে নিজের ভূমিকা খুঁজে পায়। পরিবেশ রক্ষায় কাজ করা মানুষের বৈচিত্র্যময় গল্প তুলে ধরে নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা এবং তাদের সামনে বাস্তব সুযোগের পথ খুলে দেওয়াই ‘সি ইট, বি ইট’ প্রচারাভিযানের লক্ষ্য।