হোম > প্রকৃতি ও পরিবেশ

হেমন্তেই শীতের আগমনী বার্তা, এবার শীত কেমন হবে?

স্টাফ রিপোর্টার

হেমন্তের শুরুতেই দেশের আবহাওয়ায় আসতে শুরু করেছে শীতের আগমনী বার্তা। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে রাত ও ভোরে বাড়ছে শীতের অনুভূতি। দিনের তুলনায় রাতের তাপমাত্রা কমে আসায় ভোরে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। এর প্রভাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও শেষ রাত ও সকালে শীতের আমেজ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।তবে এবার শীত কতটা তীব্র হবে এবং কত দিন স্থায়ী হবে, তা নিয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের আগমনী অনুভূত হলেও পুরো মৌসুমের চিত্র নির্ভর করবে আগামী কয়েক মাসের আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতির ওপর। এর মধ্যে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি, বিশেষ করে এল নিনোর প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামের আমবাগানে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন সোমবার চট্টগ্রামের আমবাগানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিন তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে গত শনিবারও দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল তেঁতুলিয়ায়, ১৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাপমাত্রার এই পরিসংখ্যান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দিন ও রাতের আবহাওয়ার পার্থক্য তুলে ধরে। দিনের বেলায় কোথাও কোথাও গরমের অনুভূতি থাকলেও উত্তরাঞ্চলে রাত ও ভোরে ঠান্ডা বাড়ছে। অর্থাৎ, একদিকে দিনের উষ্ণতা পুরোপুরি কাটেনি, অন্যদিকে রাতের আবহাওয়ায় শীতের প্রভাব স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিকের মতে, বাংলাদেশের জন্য স্বস্তিদায়ক তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। তাপমাত্রা এর নিচে নামলে অনেকের ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। উত্তরাঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা আরও কমলে শীতের অনুভূতি বাড়বে। একই সঙ্গে তাপমাত্রা কমার এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে রাজধানীতেও ভোর ও সকালে শীতের আমেজ বাড়তে পারে।

এবারের শীত নিয়ে আবহাওয়াবিদদের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে এল নিনো। প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত এই জলবায়ু পরিস্থিতি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আনতে পারে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি জলবায়ু পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ এলাকায় দিনের সর্বোচ্চ ও রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের কাছাকাছি থেকে বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পূর্বাভাসে বাংলাদেশের মতো অঞ্চলের আবহাওয়ায়ও এ ধরনের বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতির প্রভাব বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

ডব্লিউএমওর ৮ অক্টোবর প্রকাশিত বৈশ্বিক মৌসুমি পূর্বাভাসেও চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে এল নিনোর প্রভাব আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা এবং বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এবার শীত তুলনামূলক উষ্ণ হতে পারে কিংবা শীতের স্থায়িত্ব কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এল নিনো থাকলেই দেশের সব এলাকায় একই ধরনের আবহাওয়া তৈরি হবে, এমন নয়। অঞ্চলভেদে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে। ফলে শীতের তীব্রতা, স্থায়িত্ব এবং শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা সম্পর্কে চূড়ান্ত ধারণা পেতে আরও কিছুদিনের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে আকাশ আংশিক মেঘলা এবং আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এ সময়ে দিনের তাপমাত্রায় সামান্য পরিবর্তন হলেও রাতের তাপমাত্রা কমার প্রবণতা শীতের অনুভূতি বাড়াতে পারে। পরবর্তী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পরিবর্তনেও নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদেরা।

সাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে তার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে লঘুচাপের সৃষ্টি, এর অবস্থান ও শক্তির ওপর বৃষ্টির বিস্তৃতি নির্ভর করবে।

দেশের উত্তরাঞ্চল সাধারণত শীতের প্রভাব আগে অনুভব করে। বিশেষ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়াসহ উত্তরের জেলাগুলোতে রাতের তাপমাত্রা কমতে শুরু করলে ভোরের দিকে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হয়। পরে তাপমাত্রার এই পরিবর্তন দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও শীতের আবহ তৈরি করতে পারে।

তবে হেমন্তের শুরুতে তাপমাত্রা কমতে থাকা মানেই তীব্র শীতের আগমন নয়। দিনের তাপমাত্রা, রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা, বাতাসের গতিপ্রকৃতি, কুয়াশা এবং শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি মিলিয়েই শীতের প্রকৃত রূপ নির্ধারিত হবে মনে করেন আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম।

সব মিলিয়ে, প্রকৃতিতে শীতের আগমনী বার্তা স্পষ্ট হতে শুরু করলেও এবার শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বৈশ্বিক পূর্বাভাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার সম্ভাবনা উঠে এসেছে। তবে বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে কখন কতটা শীত পড়বে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের হালনাগাদ পূর্বাভাসের ওপর।

শীতের স্থায়িত্ব কমার শঙ্কা, বাড়তে পারে উষ্ণতা

তাপমাত্রা কমার আভাস

জলবায়ু পরিবর্তনে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

সদাজাগ্রত উপকূলের সৌন্দর্যঘেরা নিদ্রার চর

ধারণার চেয়ে দ্রুত গলছে ডুমসডে গ্লেসিয়ার, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির শঙ্কা

শীতের কামড় কখন টের পাবেন, জানাল আবহাওয়া অফিস

বিশ্বজুড়ে কার্বন নিঃসরণে কে কতটা দায়ী

দ্রুত বদলাচ্ছে পৃথিবীর জলবায়ু, জটিল করে তুলছে পরিস্থিতি

তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে ঢাকায়, উপকূলে বৃষ্টির আভাস

প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষায় প্রচারাভিযান চালাচ্ছে ইউএনডিপি