ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনার পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা ও আলী খামেনীসহ শীর্ষ জেনারেলদের হত্যার মাধ্যমে বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হলো ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ।
ইরানে এ আগ্রাসনের পর বিশ্বের সব দুর্বল রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা শক্তিশালী আগ্রাসী প্রতিবেশী দেশের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে। ইরানে আগ্রাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবার বিশ্বকে নিয়ে গেছে মূলত ১৬ শতকের ঔপনিবেশিক যুগে, যেখানে ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলো শুধু অস্ত্রের জোরে এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকাসহ বিশ্ব দখল করে নিয়েছিল ।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ব্যতিক্রমী আর শান্তিকামী একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠার আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু শান্তির মুখোশের আড়ালে বিশ্বকে তিনি উপহার দিয়ে চলেছেন একের পর এক যুদ্ধ। ইরান আগ্রাসনকেও তিনি শান্তি হিসেবে আখ্যায়িত করে মূলত বিশ্ববাসীর সামনে যেন পরিহাস করে চলেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনি প্রচারে অসংখ্যবার বলেছেন, দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্টে নির্বাচিত হলে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করে দেবেন। এক বছর পার হয়েছে তিনি হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত বন্ধ হয়নি এ যুদ্ধ। বিশ্ববাসী আরো দেখেছে, ট্রাম্পের সহায়তায় গাজায় ইসরাইলের পৈশাচিক বর্বরতা আর গণহত্যা। গত বছর জুনে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি অংশ নিয়ে হামলা চালায় ইরানের বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই যুদ্ধের আট মাসের মাথায় এবার যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল একযোগে হামলা শুরু করল ইরানের বিরুদ্ধে। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প গায়ের জোরে অভিযান চালিয়ে তুলে আনেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে। কিউবাকেও হুমকি দেন ভেনেজুয়েলার পরিণতি বরণের। ঘোষণা দেন গ্রিনল্যান্ড দখলে নেওয়ার। ট্রাম্প নিজেকে শান্তিকামী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টার সম্পূর্ণ বিপরীত তার বাস্তব ভূমিকা।
প্রকাশিত তথ্য অনুসারে ইসরাইলের কাছে শতাধিক পারমাণবিক বোমা আছে। ইসরাইল নিজে বানিয়েছে এসব ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র। কিন্তু ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক বোমার অধিকারী হতে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এটি তাদের প্রকাশ্য ঘোষিত নীতি। ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধে তারা প্রয়োজনে হামলা করবে বলেও ঘোষণা দিয়ে রেখেছে। এর প্রমাণও তারা বারবার দিয়েছে সর্বশেষ জুন মাসের হামলাসহ। কিন্তু এবার ইসরাইল নতুন এক অদ্ভুত দাবি নিয়ে হাজির হয়েছে । সেটি হলোÑশুধু তাই নয়, ইসরাইলে হামলা করা যায় এমন কোনো মিসাইলও থাকতে পারবে না ইরানের কাছে। বিশেষ করে, ইরানের ব্যালাস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করতে হবে। ইসরাইলের লক্ষ্য ইসরাইল রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি কোনো শক্তির অস্তিত্ব রাখা হবে না তার আশপাশে। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের তুলনায় অন্য কোনো দেশ সামরিক দিক দিয়ে শক্তিশালী হতে পারবে না।
এ দাবি আদায়ের জন্য ইসরাইল ব্যাপক লবিং চালাতে শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসনে। জুন মাসে হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসন আবার সহসা ইরানে হামলার জন্য রাজি ছিল না। কিন্তু নেতানিয়াহু প্রশাসন অনবরত ট্রাম্প প্রশাসনকে বোঝাতে থাকে ইরানের ব্যালাস্টিক মিসাইল কর্মসূচি তার নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি এবং এটা বন্ধ করতেই হবে।
হামাস ইসরাইল যুদ্ধে হামাসের পাশাপাশি ধ্বংস হয় লেবাননে ইরান-সমর্থিত বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মিলিশিয়া বাহিনী হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ে ইয়েমেনের হুতি আর্মি আনসার আল্লাহ এবং ইরাকভিত্তিক ইরান-সমর্থিত অন্যান্য মিলিশিয়া বাহিনী। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতনের পর সেখান থেকেও বিদায় নিতে হয় ইরানকে। ফলে ইতিহাসে অন্যতম দুর্বল অবস্থানে এসে দাঁড়ায় ইরান। প্রকাশিত খবর অনুসারে এ সুযোগকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করে নেতানিয়াহু সরকার। ইরানে রেজিম চেঞ্জ বা ক্ষমতা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ইরানের সমস্ত অস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্যে অগ্রসর হয় ইসরাইল।
গত ডিসেম্বর মাসে নেতানিয়াহু ছুটে যান যুক্তরাষ্ট্রে। ফ্লোরিডায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অবকাশযাপন কেন্দ্র মার-এ-লাগোয় ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। এখানে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের কাছে তার ইরানবিষয়ক পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ইরানের ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কীভাবে ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি, সেটা বোঝানোর পাশাপাশি তিনি ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হন ইরান এখনো পারমাণবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জুন মাসের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি। তাই ইরানে আবার অবিলম্বে হামলা চালাতে হবে। ২৯ ডিসেম্বর এ বৈঠক শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি ইরান এখনো পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।’
ডিসেম্বরে মার-এ-লাগোয় নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ এবং হামলার হুমকি দিতে থাকেন। একই সঙ্গে ইরানে হামলার লক্ষ্যে চলে ব্যাপক সামরিক আয়োজন। হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করতে থাকে পারমাণবিক বোমা কার্যক্রম বন্ধ করা বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য। শেষ পর্যন্ত গত মাসে ওমানে শুরু হয় আলোচনা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার টেবিলে ইরানের সামনে যেসব শর্ত হাজির করে তা ছিল মূলত ইসরাইলের দাবি। এতে বলা হয়, ইরানের কাছে পারমাণবিক বোমাসহ ব্যালাস্টিক মিসাইল থাকতে পারবে না। ইরান জানায়, অবরোধ তুলে নিলে তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে রাজি; কিন্তু ব্যালাস্টিক মিসাইল কার্যক্রম কোনো অবস্থাতেই পরিত্যাগ করবে না। এ ক্ষেত্রে ট্রাম্পের দাবি স্পষ্টÑইরানকে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে বলতে হবে, তারা পারমাণবিক কার্যক্রম বন্ধ করবে। চুক্তি অথবা হামলা মোকাবিলা এর যেকোনো একটা বেছে নিতে হবে ইরানকে। কিন্তু ইরান তা প্রত্যাখ্যান করায় শনিবার হামলা শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইল। বস্তুত এ আলোচনা ছিল সময়ক্ষেপণের একটি অজুহাত মাত্র।
ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালাস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংসের পাশাপাশি এবার ইরান হামলার আরেকটি লক্ষ্য হলো ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের ধারাবাহিক সরকারের পতন ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অনুগত কাউকে ক্ষমতায় বসানো। ইরানে হামলা শুরুর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সব অস্ত্র ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত হামলা চলবে ।
ইরান বারবার বলেছে, তারা পারমাণবিক অস্ত্রের মতো ব্যাপক বিধ্বংসী মারণাস্ত্র নির্মাণ ও ব্যবহারের সম্পূর্ণ বিরোধী। তারা এ ধরনের কোনো অস্ত্র বানানো ও মজুত রাখাকে সমর্থন করে না। এ ক্ষেত্রে ফতোয়া রয়েছে ইরানের বিপ্লবী নেতা ইমাম খোমেনির। ইরান জানায়, তাদের পারমাণবিক গবেষণার একমাত্র লক্ষ্য হলো বেসামরিক তথা বিদ্যুৎ উৎপাদন । ইরান যে সত্যিই এটা বিশ্বাস করে, তার প্রমাণ তারা দিয়েছে ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয়টি দেশের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে, যা ইরান-ছয়জাতি চুক্তি নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন, রাশিয়া ও ব্রিটেনের সঙ্গে ইরান ২০১৫ সালে পারমাণবিক কার্যক্রম বিষয়ক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি করে। চুক্তিতে বলা হয়, ইরান তার সব পারমাণবিক গবেষণাগারে ২৪ ঘণ্টা ক্যামেরা চালু রাখবে এবং জাতিসংঘের পর্যবেক্ষকদের তা পরিদর্শনের অনুমতি দেবে। বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। কিন্তু এ চুক্তির পর মাথা খারাপ হয়ে যায় ইসরাইলের। কারণ তারা দেখতে পায়, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠছে ইরান এবং অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ইরানকেও হুমকি হিসেবে মনে করে ইসরাইল। তাই তারা উঠেপড়ে লাগে এ চুক্তি বাতিল করার জন্য। ২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে ইসরাইল তাকে দিয়ে ২০১৮ সালে এ চুক্তি বাতিল করাতে সক্ষম হয় এবং ইরানের ওপর ইতিহাসের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু তারপরও ইরান থেকে নিরাপদ বোধ করতে পারেনি ইসরাইল। কারণ ইরান-সমর্থিত লেবানন ও সিরিয়াজুড়ে হিজবুল্লাহ, ইরাকের শিয়াপন্থি মিলিশিয়া বাহিনী, ইয়েমেনে হুতি মিলিশিয়া বাহিনী ও গাজার হামাস ইসরাইলের জন্য বড় ধরনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অবশেষে ২০০৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলে হামাসের হামলার সুযোগে ইসরাইল সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে হামাস, হিজবুল্লাহ, হুতিসহ ইরানের সব মিলিশিয়া বাহিনী চিরতরে ধ্বংস করার লক্ষ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় সেটি করতে সক্ষম হয়েছে ইসরাইল। হামাস, হিজবুল্লাহসহ সব মিলিশিয়া বাহিনী ধ্বংসের পর ইসরাইলের এবার লক্ষ্য ইরানকে অনুগত ও নামেমাত্র রাষ্ট্রে পরিণত করে বৃহত্তর ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাওয়া। একই সঙ্গে ইরান হামলার মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার রাস্তাও পরিষ্কার করতে চান নেতানিয়াহু তিনি। ইমাম খামেনী সহ শীর্ষ জেনারেলদের হত্যার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনেক খানি এগিয়ে গেলেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একজন অনন্যসাধারণ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার নাম লিখিত থাকবে। তিনি এমন কিছু করতে চান, যেন যুক্তরাষ্ট্র এবং পরো বিশ্ব ট্রাম্প-পরবর্তী যুগ হিসেবে আখ্যায়িত হয়। এ লক্ষ্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ থেকে বের করে আনার কথা ঘোষণা করেন বারবার। সারা বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিও গুটিয়ে আনার কথা বলেন। নিজেকে তিনি যুদ্ধবিরোধী ও শান্তিকামী প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, তিনি যা করবেন তা অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো প্রেসিডেন্ট করেনি। তিনি ভারত-পাকিস্তানসহ আটটি যুদ্ধ বন্ধের কৃতিত্বের দাবি করেছেন বারবার এবং প্রবল আকাঙ্ক্ষী ছিলেন একটি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার।
ট্রাম্প শুরু থেকেই নিজেকে যুদ্ধবিরোধী হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করলেও ক্ষমতার চেয়ারে বসার পরপরই তিনি বিশ্বব্যাপী যে শুল্কযুদ্ধ শুরু করেন, তা তছনছ করে দিতে থাকে বিশ্বের অর্থনীতি । তার এ শুল্কযুদ্ধ কোনো অংশে যুদ্ধের চেয়ে কম নয়। কারণ, এই বাণিজ্য যুদ্ধ সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চীনের সঙ্গে। ওলট-পালট করে দিতে থাকে বিশ্বের অর্থনীতি ও বিশ্বব্যবস্থা।
এরপর ভেনেজুয়েলায় এবং সর্বশেষ ইরানে সরাসরি আগ্রাসনের ফলে জাতিসংঘের অধীনে নামেমাত্র রুলস বেজড যে বিশ্বব্যবস্থা ছিল, তা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে তছনছ করে দিলেন তিনি। যেকোনো অজুহাতে কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র যদি কোনো দুর্বল রাষ্ট্রের ওপর এভাবে হামলা ও আগ্রাসন চালায় এবং দখল করে নেয়, তবে তার প্রতিকার পাওয়ার আর কোনো আশ্রয় নেই বর্তমানে বিশ্বে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলায় শাহাদাত বরণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ১৯৮৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ আল খোমেনি ইন্তেকালের পর তিনি দেশটির সুপ্রিম নেতা নির্বাচিত হন এবং ইসলামি বিপ্লবের হাল ধরেন। শুধু ইরান নয়, পুরো মুসলিম বিশ্বে তার গ্রহণযোগ্যতা ছিল প্রশ্নাতীত। দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমাদের কোন চাপ ও হুমকির কাছে তিনি কখনো নতিস্বীকার করেননি। তার মতো একজন নেতাকে হত্যার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ছিলেন এই শতাব্দীর একজন অন্যতম শয়তান। ইরান আগ্রাসনের পর এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ১৯৭৯ সালে ইরানের মহান ইসলামি বিপ্লবের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা এবং তার সম্পর্কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্য বিশ্বের অগণিত মুসলমানদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ নয়, বরং তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের এ আগ্রাসন কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়ার নয়। শুধু মুসলিম বিশ্ব নয়; বরং বিশ্বকে আজ এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করা উচিত। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো ব্রিটেন, জার্মানি ও ফ্রান্স এক যৌথ বিবৃতিতে আক্রান্ত ইরানের নিন্দা করছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার, কুয়েতসহ আরো কয়েকটি আরব দেশ ইরানের নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছে। তারা ইরানের নিন্দা করেছে বিভিন্ন আরব দেশে অবস্থিত সৌদি ঘাঁটিতে ইরানের হামলার জন্য। আমেরিকান ঘাঁটিতে হামলাকে তারা ওইসব দেশের বিরুদ্ধে ইরানের হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যা দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কিছু নয়। অথচ এসব আরব দেশসহ সভ্যতার দাবিদার পশ্চিমা দেশগুলো সঠিক ভূমিকা পালন করলে আজ গাজায় ইসরাইল এভাবে গণহত্যা পরিচালনা করতে পারত না এবং ইরানেরও এ ধরনের পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার কথা নয়।
লেখক : সহকারী সম্পাদক, আমার দেশ