হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

১২ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসের অগ্নিপরীক্ষা

সৈয়দ আবদাল আহমদ

দেখতে দেখতে নির্বাচনের দিন এসে গেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য বাংলাদেশ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, জাতীয় পার্টিসহ ৫৯টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫১টি দল অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে দলগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রচারের শেষ দিন আজ। মঙ্গলবার সকাল ১০টার পর আর কোনো প্রচার চলবে না। বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রত্যাশিত এই নির্বাচন। গ্রামের বাড়িতে যারা ভোটার, সেই সব মানুষ ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছেন। যারা যাননি, আজকালের মধ্যে চলে যাবেন। শেষ মুহূর্তের প্রচারে প্রার্থীরা এখন খুবই ব্যস্ত।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে না বলে একটি মহল অপপ্রচার চালিয়েছিল। নির্বাচন বানচাল করে দেওয়ারও নীলনকশা নিয়ে এগিয়ে ছিল পরাজিত শক্তি। কিন্তু সরকারের কঠোর অবস্থান, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও হুঁশিয়ারি এবং নির্বাচনের ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলো দৃঢ় অবস্থানের কারণে সেই অপচেষ্টা ভন্ডুল হয়ে গেছে। এখন কেউ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না, এটা শতভাগ নিশ্চিত।

বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন ১৯৯১ সালের নির্বাচন ছিল সবচেয়ে সেরা এবং একটি মডেল নির্বাচন। সেটিকেই নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে গণ্য করা হয়। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে ‘ইতিহাসের সেরা’ এবং ‘মাইলফলক’ নির্বাচন। তিনি সুন্দর এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ নারী-পুরুষ এবং নতুন প্রজন্মকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যাকে খুশি তাকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

১২ ফেব্রুয়ারির এই নির্বাচন সব দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই নির্বাচন নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্যেও একটি অগ্নিপরীক্ষা। দীর্ঘ ১৫ বছর দেশে গণতন্ত্র ছিল না। চব্বিশের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরশাসনের পতনের পর এই নির্বাচন হচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ড. ইউনূস বাংলাদেশের মানুষকে উপহার দিতে পারলে, এটা যেমন তার জন্য একটা বড় সফলতা হিসেবে বিবেচিত হবে, তেমনি ইতিহাসে লেখা থাকবে গণতন্ত্রে উত্তরণে ড. ইউনূস দেশে বড় ভূমিকা রেখে গেছেন। এখন পর্যন্ত ড. ইউনূসের জীবন ও কর্মের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তিনি কখনো অসফল হননি। তার ইতিহাস সফলতার। বাংলাদেশের একমাত্র নোবেলজয়ী তিনি, তার শেষ জীবনে আরো একটি বড় সফলতা পাবেন, এটা সারা দেশের মানুষ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে। তার দেড় বছরের শাসনকালকে দেখা হচ্ছে, একটি ‘ট্রানজিশনাল পিরিয়ড’ বা উত্তরণকালীন সময় হিসেবে। তিনি বাংলাদেশকে একটি স্বৈরাচারী কাঠামো থেকে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্ব দরবারে তার ব্যক্তিগত ইমেজ বাংলাদেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে। এবার সুন্দর একটি নির্বাচন তিনি সম্পন্ন

করতে পারলে এই মর্যাদা আরো বাড়বে।

গত ১২টি নির্বাচনের চেয়েও ১২ ফেব্রুয়ারি কেন অনন্য বলা হচ্ছে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি ‘মাইলফলক’ এবং ‘সর্বকালের সেরা নির্বাচন’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

পূর্ববর্তী ১২টি নির্বাচনের তুলনায় ত্রয়োদশ নির্বাচন কেন অনন্য হতে পারে, তার কয়েকটি কারণের মধ্যে রয়েছে :

বিশাল অংশগ্রহণ : ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে এ নির্বাচনে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলসহ ৫১টি দল অংশগ্রহণ করছে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। এবারের নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

গণভোট ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার : একই দিনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে একটি জাতীয় গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে প্রধানমন্ত্রী দুই মেয়াদে ১০ বছরের বেশি থাকতে পারবেন না বলে বিধান করা হচ্ছে। তেমনি সংসদের উচ্চকক্ষ তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রস্তাবনা এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

পোস্টাল ব্যালট : প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ডাকযোগের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছেন।

স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা : নির্বাচন কমিশন (EC) এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সম্পূর্ণ ‘ইঞ্জিনিয়ারিং মুক্ত’ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দিয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা : নির্বাচন সুষ্ঠু করতে এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশজুড়ে এক লাখ সেনাসদস্যসহ প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান বলেছেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। নির্বাচনে সেনাবাহিনী কোনো দলের পক্ষ নেবে না এবং কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না। সেনাবাহিনী সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে। সেনা কর্মকর্তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই নির্বাচনকে ‘শতকের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা আগামী একশ বছরের বাংলাদেশের গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন উপলক্ষে ইতোমধ্যে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শপিংমল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সংসদীয় জবাবদিহিতা : গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়িত হবে। এর মধ্যে প্রতি সপ্তাহে সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব (PMQs) চালু করার প্রস্তাব রয়েছে।

আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনি ব্যবস্থা : নির্বাচন কমিশন ভোটারদের অভিজ্ঞতা সহজ এবং স্বচ্ছ করতে বেশ কিছু নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে :

প্রবাসী ভোটাধিকার : প্রথমবারের মতো ৬ লাখ ৮৩ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি ডাকযোগের মাধ্যমে (Postal Ballot) ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ভোটের সময় বৃদ্ধি : ভোটারদের চাপ সামলাতে এবং সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে (সকাল ৭:৩০ থেকে বিকেল ৪:৩০ পর্যন্ত)। এর ফলে ভোটার উপস্থিতি ব্যাপক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বড় আকারের প্রস্তুতি : সারা দেশে প্রায় ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৮ হাজার ভোটকক্ষ স্থাপন করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ : নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে:

ডিজিটাল নজরদারি : স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া এক হাজারেরও বেশি ড্রোন দেশব্যাপী নির্বাচনে নজরদারিতে থাকবে।

নিরপেক্ষ তদারকি : আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা (যেমন ANFREL) এবং দেশি পর্যবেক্ষকদের পূর্ণ সহযোগিতার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

নিরাপদ পরিবেশ : ভোটাররা যাতে কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই ভোট দিতে পারেন, সেজন্য ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮২ শতাংশ নাগরিক মনে করেন তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন।

রাজনৈতিক রূপান্তর : প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় পর দেশে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীসহ নতুন নিবন্ধিত দলগুলোও এতে অংশগ্রহণ করছে। দলগুলো তাদের ইশতেহারে দুর্নীতিমুক্ত, জনকল্যাণমূলক এবং মানবিক বাংলাদেশ, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা এবং মেরিট-ভিত্তিক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বিএনপি জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলগুলো কে কীভাবে দেখছে

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপি, জামায়াত এবং অন্য দলগুলোর অবস্থান হচ্ছে :

বিএনপি : বিএনপি এই নির্বাচনকে ‘দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন’ এবং জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াই হিসেবে দেখছে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং দীর্ঘদিনের শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিএনপি বিজয়ী হলে প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো কোয়ালিশন বা জাতীয় সরকারে যাবে না। তারেক রহমান রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিষ্কার করেছেন যে, তার দল বিজয়ী হলে সরকারে থাকবে এবং জামায়াতে ইসলামী শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা করেন।

জামায়াতে ইসলামী : জামায়াত এই নির্বাচনকে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ হিসেবে দেখছে। তারা একটি ১১-দলীয় জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং এই নির্বাচনে একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোট হবে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে নেওয়ার ভোট।

অন্যান্য দল ও নতুন জোট : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মতো নতুন দলগুলো ছাত্র আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এনসিপি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সাথে যুক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। অধিকাংশ রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক করার তাগিদ দিয়েছে, যদিও কিছু ছোট দল নির্বাচন থেকে বিরত রয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, প্রধান দলগুলোর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা পরিলক্ষিত হচ্ছে এবং তারা আওয়ামী লীগের শূন্যস্থান পূরণে সচেষ্ট।

ড. ইউনূসের জন্য অগ্নিপরীক্ষা

প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এক বড় অগ্নিপরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ পুনরায় একটি টেকসই গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরতে পারছে কি না। দেড় দশক পর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচন আয়োজন করা ড. ইউনূসের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং জনমতের প্রতিফলন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল এবং আমাদের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে গভীর পর্যবেক্ষণ রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদ বা সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটের ফলাফলই নির্ধারণ করবে ড. ইউনূস সরকারে নেওয়া সংস্কারে উদ্যোগগুলো জনসমর্থন পাচ্ছে কি না। প্রায় ৯ লাখ নিরাপত্তাকর্মী নির্বাচনে মোতায়েন করা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন করা সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতার বড় পরীক্ষা। নির্বাচিত সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করছে। ড. ইউনূস ইতোমধ্যে বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন। এর আগে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ, বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং বিচারপতি লতিফুর রহমানের অধীনে তিনটি নির্বাচন ভালো ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের অধীনে নির্বাচনটি ছিল সবচেয়ে ভালো ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। ড. ইউনূসের বক্তব্য অনুযায়ী ইতিহাসসেরা নির্বাচন হতে হলে সেটি ১৯৯১ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের অধীনে নির্বাচনের চেয়েও ভালো নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ থাকতে হবে। ভোটাররা দলবেঁধে ভোটকেন্দ্রে যাবেন এবং ৭০ শতাংশের বেশি ‘ভোট কাস্ট’ হতে হবে। ড. ইউনূস বলেছেন, বিগত ১৫ বছর দেশের তরুণ প্রজন্ম ভোট দিতে পারেনি। এবার তরুণ ভোটাররা শতভাগ ভোট দেবেন। আসন্ন নির্বাচনে সেটা নিশ্চিত হতে হবে। নির্বাচনের পরিবেশ ভালো থাকতে হবে। মানুষ ভয়ভীতিহীন পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতে হবে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি। সুন্দরভাবে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হয়ে গেলে ড. ইউনূস অগ্নিপরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন এবং সেটা দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক আমার দেশ

বাংলাদেশ নীতি বদলাতে হবে ভারতকে

নির্বাচন : প্রতিপক্ষ নির্মূল মানসিকতা

দিল্লি বদলাবে না

শরিয়াহ, ভীতি : ভুল বোঝাবুঝির রাজনীতি

বাংলাদেশের জনগণের মনোভাব ভারতকে বুঝতে হবে

ইরানে মোসাদের তৎপরতা যেভাবে বন্ধ করছে চীন

দলীয় দালালতন্ত্রে বন্দি রাজনীতি ও মিডিয়া

তারেক রহমানের বিলম্বিত ‘হ্যাঁ’ বার্তা

নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে দেওয়া যাবে না

বাংলার নির্বাচন ঐতিহ্য