হোম > মতামত > সম্পাদকীয়

নতুন সরকার নতুন প্রধানমন্ত্রী

ষষ্ঠবারে রাষ্ট্রক্ষমতায় বিএনপি

সৈয়দ আবদাল আহমদ

ষষ্ঠবারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল বিএনপি। ইতিহাসসেরা ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী দলটি কাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সরকার গঠন করছে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর আসন অলংকৃত করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে বাবা জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট এবং মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর ছেলেও প্রধানমন্ত্রী হয়ে দেশ পরিচালনা করতে যাচ্ছেন।

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মাধ্যমে এবার নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি হচ্ছে। সাধারণত বঙ্গভবনে সরকার গঠনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথগ্রহণ হয়ে আসছে। কিন্তু এবার বঙ্গভবনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে না। মঙ্গলবার সরকার গঠনের এ শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। এদিন সকালে সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ করাবেন সিইসি এএমএম নাসিরউদ্দিন।

আর বিকালে রাষ্ট্রপতি নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তারেক রহমান সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত ও পাকিস্তানসহ সার্কভুক্ত দেশ, চীন, মালয়েশিয়া, তুরস্ক, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরবসহ ১৩টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারতের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং পাকিস্তানের একজন সিনিয়র মন্ত্রী আসছেন ইতিমধ্যে জানা গেছে। এটাও একটি ব্যতিক্রমী প্রয়াস হতে যাচ্ছে। অনুষ্ঠানে সরকারি ও বিরোধী দলের এমপি, রাজনৈতিক দলের নেতা, বিচারপতি, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, সাংবাদিকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মন্ত্রিপরিষদ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে।

আগে পাঁচবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বিএনপি

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত পাঁচবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রথমবার ক্ষমতায় আসে বিএনপি। দলটি ১৯৭৯-৮১ পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে বিপথগামী সেনাদের হাতে শাহাদতবরণের পর রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তারের নেতৃত্বে দলটি আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়লাভ করে।

কিন্তু ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ বন্দুকের নলের মুখে বিচারপতি সাত্তারকে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেন। শহীদ জিয়াউর রহমানের অবর্তমানে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন তার সহধর্মিণী খালেদা জিয়া। তিনি ৯ বছর এরশাদ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর জেনারেল এরশাদের সরকারের পতন ঘটান। এরপর ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করে। ১৯৯১-৯৬ মেয়াদে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া সরকার পরিচালনা করেন। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দুবার শপথ নেন। একবার রাষ্ট্রপতি শাসিত পদ্ধতি সরকারের এবং পরে সংসদীয় পদ্ধতির সরকারের।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার লক্ষ্যে ষষ্ঠ সংসদের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি জয়লাভ করে। সংসদে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাসের পর স্বল্পকালীন সরকারের অবসান ঘটানো হয়। এরপর চারদলীয় জোটের প্রধান হিসেবে খালেদা জিয়া অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে (দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ) ক্ষমতায় আসেন। ২০০১-০৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তৃতীয়বারের মতো দেশ পরিচালনা করেন খালেদা জিয়া। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের মাধ্যমে প্রায় দুই দশক পর আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ষষ্ঠবারের মতো ক্ষমতায় আসা বিএনপির সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন।

বিএনপি কেন বারবার ক্ষমতায়

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির ৪৮ বছর অতিবাহিত হয়েছে। এ সময় বিএনপি কেন ষষ্ঠবারের মতো ক্ষমতায় এসেছে, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল আছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঐতিহাসিকদের মতে বিএনপি বাংলাদেশে একটি পরীক্ষিত এবং দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল। বিএনপির দীর্ঘদিনের শাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দলটিকে জনগণের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করে। বিএনপির বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের আদর্শ দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ধর্মীয় ও দেশীয় সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি স্বকীয় পরিচয় তুলে ধরে, যা বিশাল একটি জনগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করে। সারা দেশে বিএনপির শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও জনসমর্থন রয়েছে। বিশেষ করে, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর ও ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির মতো নির্বাচনে এই সাংগঠনিক সক্ষমতা তাদের বড় বিজয় নিশ্চিত করতে সহায়ক হয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বা পটপরিবর্তনগুলো বিএনপির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

স্বৈর ও ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামে বিএনপি যেমন সোচ্চার ছিল, তেমনি দলটির নেতাকর্মীরা এতে অপরিসীম ত্যাগ স্বীকার করেছে। ফলে নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে বিজয় এসেছে। ভোটাররা একটি পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং একই সঙ্গে পরিচিত ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক শক্তির ওপর আস্থা রাখতে পছন্দ করেছেন। তা ছাড়া বিএনপির অতীত শাসন পরিচালনার অভিজ্ঞতা এবং শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তাদের এই বিশাল জয়ে বারবার বড় ভূমিকা রেখেছে। তাছাড়া দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে একজন প্রিয় মানুষ এবং প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার এবং ১/১১-এর সরকারের প্রতিহিংসা ও অসম্মান দেশের জনগণ মেনে নিতে পারেনি। ১/১১-এর সরকার কর্তৃক তারেক রহমানের ওপর শারীরিক নির্যাতনও মানুষ ভালো চোখে দেখেনি।

এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটার ও নারীদের ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে বিএনপি। বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত জামায়াতে ইসলামী জোটের কট্টর আদর্শ এবং নারী অধিকার নিয়ে তাদের অবস্থান অনেক ভোটার বিশেষ করে নারীদের বিএনপির দিকে ঠেলে দিয়েছে। নারীরা চরমপন্থার পরিবর্তে তুলনামূলক উদার ও বহুত্ববাদী শাসনের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি এবং ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রচার তৃণমূল পর্যায়ে নতুন প্রাণসঞ্চার করে।

এছাড়া তার দেশগড়ার পরিকল্পনা বিশেষ করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার কার্ড’-এর মতো জনপ্রিয় জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে সক্ষম হয়। বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব এবং ‘জুলাই চার্টার’-এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে সুশাসন ও কাঠামোগত পরিবর্তনের যে অঙ্গীকার করেছিল, তা তরুণ ভোটারদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিলে যায়। বিএনপির শক্ত জনভিত্তি, জনগণের কাছে অভিজ্ঞতা ও স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারাটাই বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের মূল কারণ ছিল।

জিয়া পরিবার ঐক্যের প্রতীক

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি থেকে মুক্তবাজার অর্থনীতির দিকে যাত্রার সূচনা এবং কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ধারণা প্রবর্তন করেন।

বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে দেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার আপসহীন ভূমিকা তৃণমূলপর্যায়ে তাকে অত্যন্ত জনপ্রিয় করে তোলে। তিনি তিনবার ১৯৯১-৯৬, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর স্বল্পকালীন সময় এবং ২০০১-০৬ মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা, উপবৃত্তি কর্মসূচি ও ভ্যাট প্রথা এবং মুক্তবাজার অর্থনীতি চালু দেশের উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা রেখেছে।

তারেক রহমান কাল মঙ্গলবার থেকে সরকার পরিচালনায় আসছেন। নির্বাচনে তার নেতৃত্বে বিএনপির ভূমিধস বিজয় এবং প্রধানমন্ত্রী হওয়াকে সবাই ‘গণতান্ত্রিক উত্তরণের মাইলফলক’ হিসেবে দেখছেন।

জিয়া পরিবারের বাবা-মা ও ছেলের ক্ষমতায় আরোহণকে দেশের মানুষ সার্বভৌমত্ব রক্ষা, ঐক্যের প্রতীক এবং উন্নয়নের ধারা বজায় রাখা হিসেবে দেখছেন।

উপমহাদেশের রাজনীতিতে দ্বিতীয় উদাহরণ

উপমহাদেশে বাবা, মা ও সন্তান প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী হওয়া বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এটা দ্বিতীয় নজির । প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন তারেক রহমান। এর আগে শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট এসডি বন্দরনায়েক, তার স্ত্রী বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী শ্রীমাভো বন্দরনায়েক এবং তাদের সন্তান চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা প্রেসিডেন্ট হন। ভারতে বাবা জওহরলাল নেহরু প্রধানমন্ত্রী, মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী ও ইন্দিরার ছেলে রাজীব গান্ধী অর্থাৎ জওহরলাল নেহরুর নাতি প্রধানমন্ত্রী হন। পাকিস্তানে জুলফিকার আলি ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী ও তার মেয়ে বেনজির ভুট্টো প্রধানমন্ত্রী এবং পরে বেনজিরের স্বামী আসিফ আলি জারদারি প্রেসিডেন্ট হন।

দুই দশক বাংলাদেশ গণতন্ত্রহীন থাকার পর বিএনপি ষষ্ঠবারের মতো ক্ষমতায় এলো, খালেদা জিয়া ২০০৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব শেষ করার ২০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন ছেলে তারেক রহমান। তিনিই এই ভূমিধস বিজয়ের কারিগর। এর আগে ২০০১ সালের ১ অক্টোবর মা খালেদা জিয়ার বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের নেপথ্যের কারিগরও ছিলেন তারেক রহমান।

নতুন সরকার ও নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে চ্যালেঞ্জগুলো

দেশের ইতিহাসে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর কাল মঙ্গলবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। নতুন সরকার ও নতুন প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে যাচ্ছেন। তিনি নিজেও এই পথকে অত্যন্ত প্রতিকূল ও কঠিন বলে অভিহিত করেছেন। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে প্রথমেই তাকে ভালো ও দক্ষ লোকের একটি মন্ত্রিসভা করতে হবে। সরকার একটা বিশাল ব্যাপার।

প্রিয় ও কাছের লোকদের নানা জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া যাবে। তবে মাথায় রাখতে হবে যারা মন্ত্রিসভায় থাকবেন, তারা যেন ভালো ও দক্ষ লোক হন। বিশেষ করে অর্থ, পররাষ্ট্র, বাণিজ্য এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপযুক্ত ও প্রফেশনাল লোকের বিকল্প নেই। তারেক রহমান বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ নিজেই চিহ্নিত করেছেন। তিনি ইতোমধ্যে বলেছেন, বিগত শাসনামলে দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি খাত ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, ব্যাংক খাতের সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সামলানো হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। তেমনি আইনশৃঙ্খলার উন্নতি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি দমন এবং মেধাভিত্তিক গুরুত্ব, পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা, বিনিয়োগ আনা, বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, আমার দেশ

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

নতুন বাংলাদেশের কাণ্ডারি তারেক রহমান

ডিজিটাল ডেটা নিয়ে নীতিমালা প্রয়োজন

বিএনপির ভূমিধস বিজয় ও ‘হলুদ সিগন্যাল’

দেশপ্রেমই গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন

আইপিএল মোস্তাফিজ ও ভারতের আসল চেহারা

নতুন বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় সরকার নাকি ভিন্ন সমাধান

দেশকে বদলাতে ভোটের জাগরণ

সুষ্ঠু নির্বাচন : অতীত মনে রাখুন

ভোটের দরজায় বাংলাদেশ