যেভাবেই দেখা ও বোঝা হোক না কেন, আমরা বঙ্গোপসাগরের এই বদ্বীপ ভূখণ্ডে একটি মুসলিম বাংলাদেশের বাস্তবতা নিয়েই আছি। মুসলিম বাংলাদেশ অর্থাৎ বাংলাদেশের ৯২ দশমিক ৫ ভাগ মানুষ মুসলিম।
২০ কোটি বনি আদমের মধ্যে একেবারেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই মুসলিম দীর্ঘকাল ধরে এবং সে কারণেই ইসলামের অনুসারী। মূর্তিপূজারি হিন্দু জনগোষ্ঠী সংখ্যায় শতকরা সাত ভাগের মতো। আর অবশিষ্ট হচ্ছে বৌদ্ধ এবং হিন্দু থেকে কনভার্ট হয়ে নেটিভ ক্রিশ্চিয়ান ও এর পাশাপাশি রয়েছে প্যাগান ও প্রকৃতিপূজক কয়েক লাখ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ। শেষোক্তরা পার্বত্য চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবানে; সিলেটের মণিপুরীদের মধ্যে, ময়মনসিংহের গারোদের মধ্যে, রাজশাহীর সাঁওতালদের মধ্যে এবং দিনাজপুর, নওগাঁ, বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। এত বিশাল মুসলিমপ্রাধান্য থাকা সত্ত্বেও কওম/কমিউনিটি/সম্প্রদায়গত দ্বন্দ্ব-সংঘর্ষ, রাজনৈতিক নটবরদের মতলব ও ধান্ধাতাড়িত অপচেষ্টায় খুব সামান্য ক্ষেত্রেই মূলত হিন্দু-মুসলিম সংঘাত পরিস্থিতি হলেও তা-ও আবার একেবারেই নিম্নমাত্রা পর্যন্ত থেকেছে। ১৯৬৪ সালে অভ্যন্তরীণ উপনিবেশকালে যৎসামান্য বিশৃঙ্খলাটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের উদ্যোগে ও কঠোর পরিশ্রমে ‘পূর্ববাংলা রুখিয়া দাঁড়াও’ এই উচ্চকিত উচ্চারণে রাজপথে, শহরে-গ্রামে এবং সর্বত্র পাড়া-মহল্লায় মুসলিম মানুষের সম্মিলনে অচিরেই তিরোহিত হয়ে যায়। সেই সময় মুসলিম মরে গিয়ে হিন্দুকে নিরাপত্তা দিয়েছে, বাঁচিয়ে দিয়েছে। ১৯৯০ সালে একই কুচক্রীদের পরের প্রজন্ম সংঘাত শুরুর অপচেষ্টা চালানোর সঙ্গে সঙ্গে ‘বাংলাদেশ রুখে দাঁড়াও’ এই প্রতিবাদী উচ্চারণের মাধ্যমে অতি স্বল্প সময়ে নিরাপত্তা স্বস্তি ও শান্তি ফিরে এসেছে। ২০০১-এর নির্বাচনের পর একটা অপচেষ্টা হয়েছিল বিভিন্ন স্থানে। সেটাও রুখে দেওয়া হয়েছে অচিরেই। এই তিন কালের তিন ঘটনার প্রথমটি আমি স্কুলের ছাত্র হিসেবে প্রত্যক্ষভাবে দেখেছি। দ্বিতীয়টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমার এক ধরনের কমিটমেন্ট ও ইনভলভমেন্ট ছিল। এটা হয়েছিল এরশাদের স্বৈরতন্ত্রের চরম বিরোধী ভূমিকায় নামার কারণে, লেখালেখির কারণে, রাজনীতিতে সংশ্লিষ্টদের বিশেষত ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের সমর্থনকারী হিসেবে। তৃতীয়টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের পূর্ণ অধ্যাপক হিসেবে উল্লিখিত সংঘাত সৃষ্টির অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধাচরণ করেছি আমি অতি সক্রিয়ভাবে। সে সময় বাংলাদেশে একমাত্র রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন বিটিভির ভিভিআইপি স্টুডিওতে, তৎকালীন নতুন প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহে ও টিভি কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে, প্রযোজক মরহুম নূরুজ্জামান শেখের আয়োজনে কোনো ধরনের পূর্ব প্রস্তুতি ও স্ক্রিপ্ট ছাড়াই সব ধর্মের প্রতিনিধি, অধ্যাপক বুদ্ধিজীবী, লেখক, সাংবাদিকÑতাদের নিয়ে দীর্ঘ দেড় ঘণ্টাব্যাপী একটা অত্যন্ত সফল আলোচনা অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। পরিস্থিতির সামগ্রিক বিশ্লেষণ, কুচক্রীদের ষড়যন্ত্র উদ্ঘাটনসহ সবার মধ্যে সামাজিক সম্প্রীতি ও ঐক্যের আহ্বান রাখা হয়েছিল। এই অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা ও পরিচালনা অ্যাঙ্কর হিসেবে আমিই ছিলাম। লাইভে যাওয়া অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করেছিল।
১৯৬৪, ১৯৯০ ও ২০০১ কোনো সময়ই এ দেশের মুসলিমরা কি পাকিস্তান আমলে, কি স্বাধীন বাংলাদেশ আমলে সীমান্তপারের হিন্দু আধিপত্যবাদী হিন্দুস্তানের মতো সেক্যুলারিজম বা ধর্মনিরপেক্ষতার ভণ্ডামি বজায় রেখে বাস্তবে উল্টোটা করেনি। সেই ১৯৪৬-৪৭ থেকে এই ২০২৪ পর্যন্ত কয়েক হাজারবার হিন্দুস্তানের ঘৃণ্য হিন্দু সাম্প্রদায়িক সরকার-দল-সংগঠন-নেতৃত্ব-অন্ধ অনুসারীদের একযোগে সামষ্টিক সক্রিয়তায় সংঘটিত চরম হিংস্রতা ও বর্বরতার রেকর্ড করে লাখো লাখো মুসলিমের জীবন ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। মসজিদ, বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়েছে; দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য, জমিসম্পদ দখল করা হয়েছে; উচ্ছেদ-উৎখাত করা হয়েছে আর মুসলিম নারীদের করা হয়েছে ধর্ষনের শিকার। সে দেশে তাদের বর্বরতম হ্যান্ডবিল ও প্রচারপত্রে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলিম নারীর গর্ভে হিন্দু বীজ ঢোকাতে হবে। প্রতিটি হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িক সংঘাতে এই অপকর্ম সংঘটিত হয়েছে উন্মাদনা ও পরিকল্পনার যোগসাজশে। এ থেকেই মুসলিম বাংলাদেশ ও হিন্দুত্ববাদী ভারতের বাস্তব অবস্থা এবং জীবনদৃষ্টির পার্থক্য স্পষ্ট হয়।
ডেমোগ্রাফি বা জনসংখ্যার বদলের কথায় ফিরে আসি। এখানে ১৯৭১ থেকেই যদি একটা হিসাব ধরি, তাহলে দেখা যায়, ৭ কোটি থেকে ২০ কোটিতে পৌঁছার প্রক্রিয়ায় মুসলিমদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি হিন্দুদের সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু হিন্দুদের তুলনায় মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। কারণ হচ্ছে, মুসলিমরা দ্বীনি বিশ্বাসের সূত্রে জন্মনিয়ন্ত্রণে ততটা আগ্রহী নয়, যতটা বেশি আগ্রহী হিন্দুরা। মুসলিম পরিবারে ৪-৫টা থেকে ৮-১০টা সন্তান হলে হিন্দু পরিবারে হয় ১-২। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, মুসলিমরা পরিবার প্রতিপালনে দ্বীনি দায়বোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ায় অত্যধিক খরচাপ্রিয়। অন্যদিকে হিন্দুরা পাইকারিভাবে ব্যয়কৃচ্ছ্রতা ও সঞ্চয়ে অতি আগ্রহী। এ দেশে হিন্দুরা থাকতে পারছে না এবং ভারতে চলে যাচ্ছে বলে শাহরিয়ার কবির-মুনতাসির মামুন গং ‘র’ ও সাউথ ব্লকের পে-রোলে থেকে এবং ইসকন ও হিন্দু গয়রহ পরিষদ একযোগে বাংলাদেশের হিন্দুদের নিয়ে নেতিবাচক কল্পকাহিনি ছড়িয়েছে। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। শেখ হাসিনার আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরের বাস্তবতা থেকে লক্ষণীয়, ৯২ দশমিক ৫ ভাগ মুসলিম পেয়েছে ৭ ভাগ এবং ৭ ভাগ পেয়েছে ৯৩ ভাগ। এটি গণিত ছাড়িয়ে গভীর গো-প্রীতির হিন্দুত্ববাদী আধিপত্যের প্রভাব ও প্রাদুর্ভাবের প্রতিচ্ছবি। এটি বাংলাদেশের পরাজয় ভারতীয় আগ্রাসনের কাছে। চারটি প্রহসনের নির্বাচনে গাধাতন্ত্রের সার্কাস দেখিয়ে সেবাদাস সরকার বসিয়ে তারা এ কাজটিই করেছে। এরপরই ঘটেছে সবচেয়ে সাহসী ও রক্তক্ষয়ী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর ৩৬ জুলাইয়ের বর্ষা বিপ্লবের মাধ্যমে। পতন ঘটেছে হিন্দুস্তানি দালাল ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের। কিন্তু অভ্যুত্থানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতৃত্বের অনভিজ্ঞতা, না-বোঝা, ভুল সিদ্ধান্ত এবং অনৈক্যের সুযোগে হাসিনা পালিয়ে গেলেও আন্দোলনে সম্পৃক্তহীনতার আত্মস্বীকৃত ব্যর্থ রাজনৈতিক মোড়ল চক্র, দল, নেতৃত্ব এবং অ্যাবসেন্টিরা কেউ গভীর সংশ্লেষ এবং কেউবা মাস্টার মাইন্ডের অতি হাস্যকর কল্পকাহিনি শোনাচ্ছে। যদিও তারা নিজেরাই জানে, একেবারে নিচের পর্যায়ের কিছু কর্মী সমর্থক ছাড়া তারা নিরাপদ আড়ালেই ছিল। ছাত্রদের আন্দোলন শেষ হলে বরাবরের মতো নতুন কর্মসূচি দেওয়ার নিতান্তই অক্ষম ও চোপাবাজির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের পতনের পর ১৬ বছর ধরে তলে তলে যোগসাজশকারী এবং ওপরে ওপরে আন্দোলন-দেখানো প্রায় সব সুবিধা গ্রহণকারী দেশীয় রাজনৈতিক মোড়ল চক্রটি বীরবিক্রমে ময়দানে হাজির হলো। একই সঙ্গে প্রাসাদ ষড়যন্ত্র জারি রাখল। তারা ধরাশায়ী করে ফেলল বিপ্লবকে । এভাবেই অক্ষত রয়ে গেল পুরোনো বন্দোবস্ত; পুরোনো সংবিধান-গঠনতন্ত্র; পুরোনো রাষ্ট্র ও প্রশাসন কাঠামো; পুরোনো এস্টাব্লিশমেন্ট ও স্ট্যাটাস কো। নতুন রাজনীতি ও সংস্কৃতি, যা গণমানুষের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠের দ্বীন, একান্ত নিজেদের সমাজ ও রাষ্ট্র ভাবনা, জনভূগোলের ইতিহাস-অভিজ্ঞতা-পরিচয়-আকাঙ্ক্ষা, ভূরাজনীতির বাস্তবতা ও দাবি, সীমান্তপারের হিন্দুত্ববাদী আধিপত্য রুখে দাঁড়ানোসহ সমগ্র প্রেক্ষাপটে প্রধান ও নিয়ন্ত্রক শর্তাদি তৈরি করতে পারত। এই পথে সমষ্টি জনগণের আমানতদারি রাষ্ট্রমালিকানা প্রতিষ্ঠার মৌল বিবেচনা এবং তাদের সার্বিক ও কার্যকর অংশগ্রহণ সাপেক্ষে চূড়ান্ত সুস্পষ্ট ব্যক্ত সম্মতির কাম্য ঐকমত্যভিত্তিক সিস্টেম গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি মনসুন রিভোলিউশনের ভেতর দিয়ে জন-আকাঙ্ক্ষা হিসেবে সামনে এসেছিল, তা যেন মুখ থুবড়ে পড়ল। এরই মাঝ দিয়ে বহির্দেশীয় চক্রসহ প্রত্যাখ্যাত ও পলায়নকারী ফ্যাসিবাদ তাদের হিন্দু আধিপত্যবাদী প্রভুদের সব সংশ্লেষ বজায় রেখে অন্তর্বর্তী সরকারের অভিভাবকত্বে ইঞ্জিনিয়ারিং যুক্ত ২০২৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান করল। প্রতিনিধিত্ব, ক্ষমতা, পদ ও সুযোগের পিঠা ভাগ হলো। আম-জনতা দেখল ভানুমতির ক্রীড়াচক্র।
খুব গভীরভাবে খেয়াল করলে দেখা যাবে, ফল ও তাৎপর্যগত দিক থেকে আগের চার নির্বাচন যেমন বদল আনেনি, তেমনি এবারেরটাও বদল আনতে পারবে বলে মনে হয় না। জুলাই ঘোষণা, জুলাই সনদ, নিজ নিজ স্বাক্ষর, প্রতিশ্রুতি, নির্বাচনি প্রচারে একবার ‘না’ ও একবার ‘হ্যাঁ’-এর সুবিধাবাদী জিগির, গণভোট অনুষ্ঠান ও ‘হ্যাঁ’-এর সুস্পষ্ট বিজয়, জন অভিপ্রায়Ñসবকিছুকে একেবারেই তাচ্ছিল্যের নিম্নতম মাত্রায় নামিয়ে প্রকাশ্য অস্বীকৃতির মাধ্যমে যে ক্লাউনিশ ক্যারিকেচার আজ জনগণ দেখতে পাচ্ছে, তা আবার স্পষ্ট করছে যে, মিথ্যাচার ও মতলবের মৌতাত, ক্ষমতার লালসা ও দখলদারি তাড়না দেশকে সঠিক পথে যেতে দেবে না।
মানুষকে তাই নতুন করে চিন্তা করতে হবে। কমিটেড পাবলিক ইনটেলেকচ্যুয়াল ও নন-কনফরমিস্ট দ্রোহী অগ্রসরজনকে, দলবিহীন সচেতন নাগরিক সমাজকে বর্ষাবিপ্লবের ফ্যাসিবাদ পতন সাফল্য দেখার পাশাপাশি আকাঙ্ক্ষিত নয়াবন্দোবস্ত প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেহাত হওয়া প্রচেষ্টাকে পুনর্বার নির্ঘুম, নিরলস, নিরাপোস ও নির্ভুল আন্দোলনের মাধ্যমে গাধাতন্ত্রের সার্কাস এড়িয়ে; ঋষভ ও কিঙ্করদের কোমরভাঙা জজবাযুক্ত এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাফিলিয়েশন, সংযুক্তি ও সংহতি পরিহারকরত সেই রাজপথের জীবন ও দুনিয়া কাঁপানো বৈপ্লবিক গণঅভ্যুত্থানের পথেই হাঁটতে হবে। তখন বোঝা যাবে যে, আমাদের এই বদ্বীপ ভূখণ্ডের প্রায় সর্বাংশ মুসলিম জনভূগোলের ঈমান, দ্বীন, আকাঙ্ক্ষা, দাবি, হাজার বছরের পথচলা, ইতিহাসের অভিজ্ঞতা, ভূরাজনীতির বাস্তবতা, সমষ্টিস্বার্থ, গণমানুষের জীবনদান, তাদের সাম্য-মানবিক মর্যাদা-ইনসাফের দাবি এবং তাদের সমষ্টি আমানতদারি রাষ্ট্রমালিকানা ও চূড়ান্ত স্পষ্ট ব্যক্ত সম্মতিÑসবকিছুকেই অস্বীকার করা হয়েছে, সবকিছুকেই নিষ্ঠুরভাবে তছনছ করা হয়েছে।
মাত্র সেদিনের কৃতিত্ব ছিনতাইয়ের নটবরগণ এখন মঞ্চে উপবিষ্ট। এরা ৯২ দশমিক ৫ ভাগ মানুষের দ্বীনকে নিয়ে নকল অনুসারী হয়েও প্রকৃতপক্ষে অজ্ঞতা, অসূয়া ও অযাচারের আঁধিতে পড়ে গিয়ে প্রতিদিন প্রত্যক্ষভাবে অবান্তর ও অপ্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন। তারা প্রকাশ্যে বারবার মিথ্যাচার করে জানিয়ে দিয়েছেন যে, (১) ইসলামে রাজনীতি নেই; (২) ধর্মের সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নেই, দুটি আলাদা; (৩) মৌলবাদ, উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদকে তারা সহ্য করবেন না; ধর্মীয় ফ্যাসিবাদকে আসতে দেবেন না। অথচ ইসলাম মৌলবাদ, উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও ফ্যাসিবাদ নয়। ওটা নাসারা, ইহুদি ও মুশরিকদের সম্পত্তি। (৪) ‘আমাদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই’। তাই নাকি? অথচ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনই আমাদের ধর্মীয় পরিচয় ‘মুসলিম’ বলে স্থির করেছেন, মুসলিম হতে বলেছেন, মুসলিম না হয়ে মরতে নিষেধ করেছেন, মুসলিম পরিচয় দিতে বলেছেন, মুসলিমকে সবচেয়ে উত্তম বলে চিহ্নিত করেছেন এবং ইসলামকে একমাত্র দ্বীন হিসেবে মনোনীত করেছেন আল-কোরআনে বিভিন্ন সুরায়, বিভিন্ন আয়াতে সুস্পষ্ট ঘোষণার মাধ্যমে; (৫) ‘আমরা শরিয়াহ মানি না’। বটে! অথচ আল্লাহ নিজেই কোরআনে ৫ নম্বর সুরা আল মায়িদার আয়াতের মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, তিনি নিজেই আমাদের জন্য শরিয়াহ ও মিনহাজ নির্ধারণ করেছেন। এই সত্য আরো এসেছে সুরা আশ শুরা ও সুরা আর রুমে; (৬) ‘ইসলামপন্থিদের মেইন স্ট্রিমে পরিকল্পিতভাবে আসতে দেওয়া হয়নি’। এভাবেই অন্তরের কথা ফাঁস হয়েছে। আর এগুলোই এপক্ষ, ওপক্ষ ও সীমান্তপারের পক্ষের আনহোলি নেক্সাসের বহিঃপ্রকাশ, যা শুধু বাংলাদেশের মুসলিম জনতা ও তাদের স্বাধীন জীবনের বিরুদ্ধেই যেতে পারে।
বোধগম্য যে, প্রহসন ও প্রকৌশল পুলক দিলেও পচনের প্রত্যাবর্তনকে প্রশ্রয় ও পুনর্জীবন দিয়েছে ২০২৬-এর মঞ্চস্থ প্রকৌশল। মূর্খতা ও মতলব অবিচ্ছেদ্য হলে কতখানি শঠতা এবং প্রবঞ্চনার পথে হাঁটা যায়, এসব কিছুই তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। এর একমাত্র টার্গেট ইসলাম এবং এ দেশের ৯২ দশমিক ৫ ভাগ মুসলিম। আমরা অপেক্ষমাণ। আরেকবার যুদ্ধে যেতে হবে, আবার ঘটবে জুলাই, ইনশাআল্লাহ!
লেখক : প্রফেসর (অব.), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়