হোম > মতামত > উপসম্পাদকীয়

কর সংস্কৃতির সুদিনের স্বার্থে

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ

বিদেশে যেমন কেউ গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে, তাকে কোথাও থামতে হবে না। সে টোল দিয়েছে, কিন্তু রিসিটের জন্য তাকে ঘুরতে হচ্ছে না, আবার টোলের টাকা সরকারের কোষাগারে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় তাকে ভুগতে হচ্ছে না। কিংবা টোল স্টেশনের ইজারা নেওয়া নিয়ে গণ্ডগোলও নেই। গাড়ির মালিকদের চিপস সরবরাহ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোলের অর্থটা তার ব্যাংক হিসাব থেকে কেটে নেওয়া হয়। সম্প্রতি একটি সংস্কারের কথা—যেমন : প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই অডিট রিপোর্টের একটি কপি জয়েন্ট স্টক রেজিস্ট্রারের অফিসে (আরজেএসসি) জমা দেওয়ার কথা। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে সব প্রতিবেদন পরীক্ষা করার সময় ও লোকবল তেমন নেই। ফলে ভুয়া প্রতিবেদন দাখিলের চল চালু হয়েছে। ফলে অনেকে এনবিআরে এক ধরনের প্রতিবেদন, ব্যাংকে অন্য ধরনের প্রতিবেদন দেয় অনেকে। এটি নিয়েই বহু ফাঁকির ঘটনা ঘটে। এ জন্য ইদানীং আইসিএবি, আরজেএসসি, এফআরসি, এনবিআর, বাংলাদেশ ব্যাংক একই অডিট রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে, তা সব সমন্বয় করে একীভূত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রতিবেদনে গরমিল থাকলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ধরনের সৃজনশীল সংস্কারকাজ করতে হবে।

কর ফাঁকি দেওয়া মানে নিজেকেই ফাঁকি দিচ্ছি—সবার মধ্যে এ বোধটা তৈরি করা জরুরি। এ সামাজিক উপলব্ধিতে সবাইকে আসতে হবে। আসার জন্য এনাবলিং এনভায়রনমেন্ট তৈরি করতে হবে। বছর দুই আগ থেকে কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাধ্যবাধকতা জুড়ে দেওয়ায় চাকরিজীবীরা সবাই কিন্তু করের আওতায় এসে গেছেন। তেমনি ট্রেড বডি সমিতি, বাড়ির মালিক সমিতির ওপর সদস্যদের কর দেওয়ার দেখভালের দায়িত্ব নিতে হবে। একজন কর পরিদর্শক সুনির্দিষ্ট এলাকার নির্দিষ্টসংখ্যক বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানের তথ্য তলব করতে পারে। পুলিশ বিভাগ বাড়িওয়ালা থেকে ভাড়াটে সবার তথ্য, কার বাড়িতে কারা থাকে, কজন থাকে, সবার তথ্য নিচ্ছে। এগুলো এখন স্থানীয় থানা নিচ্ছে। কর প্রশাসনও সহজেই এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে। এভাবে তথ্য সংগ্রহ করেই এনফোর্স করতে হবে। এনফোর্স করার দুর্বলতাতেই কিন্তু মানুষ ফাঁকি দেওয়ার ফুরসত পায়।

আরেকটা বিষয় হলো, করের হার যৌক্তিক হওয়া উচিত। করের ভার যাতে সহনীয় থাকে, সেজন্য করহার কমাতে হবে। যাতে মানুষ কর দিতে উৎসাহিত হয়। করের হার সুষম করে করের আওতা বাড়ানো যায় । এখন কড়াকড়ি করা হয় তাদের ওপর, যারা কর দিচ্ছে। যারা দিচ্ছে না তাদের ওপর নজরদারি নেই। কারো কারো কর দেওয়াটা অনেকটা পিকিউনারি পানিশমেন্টের মতো হওয়া ঠিক নয় ।

আরেকটা বিষয় আছে, সেটি হলো—আনুষ্ঠানিক রাজস্ব পরিশোধের বাইরে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বেশি হওয়ার পরিবেশে কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস এবং করভার বেশি হয় । এর বিপরীতে সেই অনুপাতে সেবা পায় না মানুষ। আমরা শুধু ইনফর্মাল ট্রেড শব্দটি শুনেছি, অর্থনীতিতে ইনফর্মাল রেভিনিউ নামে একটা শব্দ বেশ মোটা-তাজা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ায় বাড়তি খাই-খরচের রিসিট দেওয়া হয়। স্পিড মানি বা অন্য কোনো নাম দিয়ে বলা হয়, শুল্ক যে দিয়েছেন, তা ঠিক আছে, কাজটা আরেকটু গতিশীল করার জন্য কিছু অর্থ দিতে হবে। তার জন্য বিশেষ রঙের একটা স্লিপ আলাদাভাবে দেওয়া হচ্ছে। ফলে সেখানে হিসাব থাকছে সবকিছুর। এ দেশে প্রায় ক্ষেত্রেই নির্ধারিত হারের বাইরে আলাদাভাবে বাড়তি অর্থ লেনদেন হয়, তার কোনো হিসাবায়ন নেই। এ ধরনের অস্বচ্ছতা দূর করতে রাজস্ব প্রশাসনে অটোমেশন নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে কিছুটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেটিকে বেগবান করা এখন সময়ের দাবি।

সাধারণ করদাতার অভিযোগ জানানোর জন্য, এমনকি রাষ্ট্রীয়ভাবে কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় অনেক কিছু করার জন্য যে প্রতিষ্ঠান গড়া হয়েছিল, থাকা উচিত ছিল—সেটি হলো ট্যাক্স ওমবুডসম্যান অফিস। ১৬৬টি দেশে আছেও। ২০০৫ সালে এ অফিস যে উদ্দেশ্য সামনে নিয়ে গঠিত হয়েছিল, তা অর্জনের সুযোগ না দিয়ে ২০১১ সালে এসে পুরো অফিসটাই বিলোপ করা হয়। ২০০৫ সালে কর ন্যায়পাল অফিস গঠনের সময় বলা হয়েছিল, এখানে মানুষ করসংক্রান্ত হয়রানি ও বিরোধের বিচার পাবে। মাত্র ছয় বছরের মাথায় ২০১১ সালে বলা হলো, ‘করদাতার সঙ্গে ভালো আচরণ করলে, সেবা দিলে, ন্যায়বিচার করলে, কর দেওয়ার পদ্ধতি সহজ করলে এ অফিস লাগবে কেন’। আরো বলা হলো—‘কর আইন, শুলক ও ভ্যাট আইনের মধ্যে কর ন্যায়পালের প্রভিশন নেই, তাই সেটিকে বিলোপ করতে হবে’। ন্যায়পাল অফিস কর আইনের সঙ্গে সংযুক্ত না হলে আইন সংশোধন করে সংযুক্ত করে নিতে হবে। করদাতাদের আস্থায় আনতেই তো আইন করে কর ন্যায়পাল অফিস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ।

মোদ্দাকথা হলো—কর-ইনসাফ প্রতিষ্ঠা না করলে করজাল বৃদ্ধি, তথা কর আহরণে উন্নতি আসবে না। কর-জিডিপি অনুপাতে বাংলাদেশ যে তলানিতে রয়েছে, তার মূল কারণ হলো—এই সমাজে নানাভাবে কর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। অর্থাৎ কাউকে কার্যকরভাবে কর দিতে বাধ্য করা হচ্ছে না বলেই এমনটি ঘটছে।

দুর্নীতিজাত অর্থ অর্থনীতির মূল ধারায় আনার উদ্যোগ ইতিবাচক হবে না, যদি বিশেষ হ্রাসকৃত হারে কর দিয়ে উপার্জিত অর্থের উৎস সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন না তোলা হয়। এতে দুর্নীতি দূর করা তথা সম্পদ বণ্টনের বৈষম্য কমানো কঠিন হয়ে পড়বে। বরং, কীভাবে অর্থ উপার্জিত হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো জবাবদিহি না থাকলে বৈষম্য আরো উসকে দেওয়া হবে। এ ধরনের নীতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিকে নিরুৎসাহিত করার শামিল।

দেখা যাচ্ছে, ২০১০ সালের পর থেকে দেশ ও সমাজে সম্পদের উল্লেখযোগ্য বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। জিডিপির পরিমাণ বেড়েছে এবং সে অনুযায়ী মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধির চিত্রও দেখানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবতায় যেন ‘গরুর হিসাব শুধু কাজীর খাতায়, গোয়ালে তেমন গরু নেই’—এমনই অবস্থা। ২০১৭ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে খুব দ্রুত ধনীর সংখ্যা বাড়ছিল।

কর সংস্কৃতির বিকাশ প্রত্যাশা করে ২০০৮ সালেই প্রথম তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়—১. ১৫ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় আয়কর দিবস ঘোষণা, ২. করমেলার আয়োজন এবং ৩. সেরা করদাতার সম্মাননা প্রবর্তন। অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে ব্যক্তি আয়কর পরিশোধের বিধান ছিল বলে ১ সেপ্টেম্বরকে জাতীয় আয়কর দিবস ঘোষণার সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সময় জানা গেল তদানীন্তন প্রধান উপদেষ্টা ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে উদ্বোধন করতে পারবেন না। তাই ১৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় আয়কর দিবস হলো। পরে ৩০ নভেম্বরকে জাতীয় আয়কর ঘোষণা করে কর আহরণের সময়ানুবর্তিতা ও কার্যকারিতাকে দুর্বল ও দীর্ঘসূত্রতার দখলে দেওয়া হয়েছে।

২০০৮ সালে আয়কর মেলা আয়োজনটি ছিল নিঃসন্দেহে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। করদাতাকে আগ্রহী করে তোলা, কর এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা প্রশমন, আইনগত ও পদ্ধতিগত জটিলতা সহজীকরণ করমেলা আয়োজনের মাধ্যম যদি করদাতাদের সহজে জানানোর ব্যবস্থা করা হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে কর দেওয়ার সচেতনতা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি তারা কর দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারে। এর ফলে করদাতা ও কর আহরণকারীর মধ্যকার দূরত্বও কমে আসবে। ২০০৮ সালে যে মৌলিক বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ রেখে করমেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তা ছিল দূরবর্তী অঞ্চলের করদাতারা, যারা কর অফিসে আসতে পারেন না বা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, তাদের কথা বিবেচনা করে দূরবর্তী অঞ্চলে—অর্থাৎ উপজেলা পর্যায়ে যে করদাতা রয়েছেন, তাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করার মাধ্যমে কর অফিসের কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিতি হয়ে কর সম্পর্কে তাদের বিভিন্ন তথ্য জানাবেন। উদ্দেশ্য, তারা যেন উৎসবমুখর পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে কর দিতে পারেন। লক্ষণীয় যে, করমেলাা করা হয় বিভিন্ন ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার (যারা মোট করদাতার মাত্র ৩০ শতাংশ) জন্য, এখানে করপোরেট এবং কোম্পানির কর দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। অভিযোগ উঠেছে, করমেলায় কর দেওয়ার পরও পরে করদাতাকে আবার কর অফিসে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাকে নতুন করে আসতে বলা হচ্ছে। করমেলায় বেশি ভিড় হওয়ার নেপথ্যে কিন্তু এটাও একটা কারণ যে, কর প্রদানে আগ্রহীরা কর অফিসে গিয়ে কর দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। এটা থেকেও শিক্ষা নেওয়ার রয়েছে। প্রত্যেকটা কর অঞ্চলে তথ্য ও সেবাকেন্দ্র খোলা আছে।

কর দেওয়ার পদ্ধতিটাকে সহনশীল ও টেকসই করতে হলে ঘোষিত নীতিপদ্ধতির মধ্যে কনসিসটেন্সি রাখতে তা ঘনঘন পরিবর্তন করা ঠিক নয়। কর দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবছরই নতুন নতুন পরিবর্তন আনা হলে বাস্তবায়নে জটিলতা বাড়ে। একটা আর্থিক আইন জারি করলে সর্বনিম্ন চার থেকে পাঁচ বছর তা বহাল থাকা উচিত। তাহলে সবাই আইনটি সম্পর্কে অবগত থাকবে। প্রতিবছর যদি বিধিবিধানের পরিবর্তন করা হয়, তাহলে অনুসরণে সমস্যা হয় ।

আরেকটি জটিল বিষয় হচ্ছে, জুনে যে বাজেট পেশ হয়, তার সঙ্গে একটি অর্থ আইন দেওয়া হয়। অর্থ আইনটি পাস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এটির প্রয়োগ শুরু হয়। ধরা যাক, সঞ্চয়ের ওপর করের হার পরিবর্তন হলো। ফলে করদাতা যখন আগের অর্থবছরের রিটার্ন জমা দিচ্ছেন, তখন নতুন হারে তা দিতে হচ্ছে। এ রকম বাড়তি হারের বিষয়টি তিনি আগে অবহিত ছিলেন না। বিনিয়োগ সিদ্ধান্তকালে এ ব্যাপারে তার প্রস্তুতি ছিল না। এটি কর প্রয়োগ, প্রক্রিয়া ও হিসাবায়নের ক্ষেত্রে জটিলতার অন্যতম একটি কারণ। করদাতাকে একসঙ্গে প্রশিক্ষত, উৎসাহিত ও বারবার অবহিত করা যায় না । আয়কর পরিপত্র-১ জারিতে বিলম্ব করেও তাতে কিছু কিছু বিষয়ে অস্পষ্টতা নিরসনে ব্যাখ্যার অবকাশ থেকে যায়।

সরকারের রাজস্বে অতিরঞ্জিত (inflated) হিসাব দেখানোর সমস্যা হলো—উল্লিখিত আয়ের অঙ্ককে ভিত্তি করে অন্যান্য খাতে ব্যয়ের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়। তাই জোর দেওয়া উচিত প্রকৃত ও নেট হিসাবের ওপর। ভুল হিসাবকে সঠিক ধরে ব্যয়ের বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হলে সামষ্টিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া অবশ্যম্ভাবী। এ ক্ষেত্রে কর আহরণের প্রকৃতি এবং বাজেট প্রণয়ন ও ব্যবস্থাপনায় সংস্কার আনা প্রয়োজন। বাজেট-পূর্ব আলোচনায় অংশীজনরা প্রায়ই এমন সময়ে নিজেদের দাবি ও সুপারিশ উপস্থাপন করেন, যখন বাজেট প্রস্তাব সংশোধনের বাস্তব সুযোগ থাকে না। ফলে যথাযথভাবে আলোচনা বা দাবি-দাওয়া পেশ করার সুযোগও সীমিত থাকে। এর ফলে উত্থাপিত দাবি ও সুপারিশগুলো কার্যকরভাবে বিবেচনার ভিত্তি পায় না এবং সেগুলোর বাস্তবায়নও ঠিকমতো সম্ভব হয় না।

দক্ষ লোকবল দিয়ে রাজস্ব বিভাগ পরিচালিত হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশে এনবিআরে তুলনামূলকভাবে দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকবলের অভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে, ৮০-এর দশকে রাজস্ব বোর্ডের গুরুত্ব তেমন ছিল না এবং তখন রাজস্ব অবকাঠামোও ছিল অত্যন্ত ক্ষুদ্র পরিসরে; যা বহু বছর স্থির ছিল। ২০০৮ সালের দিকে রাজস্ব বোর্ডের লোকবল ও অবকাঠামোগত সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তাব রাখা হয়।

লোকবল ও কাঠামো প্রায় দু-তিন গুণ বৃদ্ধি করার যে প্রস্তাব তখন রাখা হয়েছিল, তার বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০১৩ সালের দিকে। সেখানে দক্ষ ও উপযুক্ত লোকবল নিয়োগ দিতে কিছুটা সময় লেগেছে; তবে যারা নিয়োগ পাবেন, তারা যথাযথ প্রশিক্ষণ না পেলে এই কাজ কতটা দক্ষতার সঙ্গে করতে পারবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। বিশেষ করে, রাজস্ব বিভাগে কর্মরতদের মেধা, দক্ষতা, বিশ্লেষণক্ষমতা ও পারঙ্গমতা অন্যান্য দপ্তর বা বিভাগের তুলনায় বেশি হওয়া আবশ্যক। ৮০-এর দশকে বিশেষ বিবেচনায় একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ের কিছু কর্মচারী এই বিভাগে আত্মীকৃত হন। পরবর্তী দুই দশক তাদের নিয়োগের যৌক্তিকতা ও বৈধতা নির্ধারণ-সংক্রান্ত প্রায় আট ডজন মামলার জটিলতায় পড়ে রাজস্ব বিভাগে প্রারম্ভিক পর্যায়ে সরাসরি দক্ষ কর্মকর্তা নিয়োগ কার্যত বন্ধ ছিল। ফলে উপযুক্ত ও দক্ষ লোকবলের অভাবে ন্যায্য রাজস্ব আহরণকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে দীর্ঘদিন ধরে ধকল পোহাতে হচ্ছে।

যৌথ ও সমন্বিত দেখভালের দর্শন বাস্তবায়নে আন্তঃসমন্বয়ের সমস্যার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারযোগ্য বিষয় হলো—নীতি (পলিসি) প্রণয়নকারী ও বাস্তবায়নকারী, কার্যসম্পাদনকারী এবং তার প্রতিকার প্রার্থনা (আপিল) শুনানিকারী একই কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা হওয়া।

বাস্তবায়নকারী যদি নীতি প্রণয়ন করেন, কিংবা নীতি প্রণয়নকারী যদি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকেন, তবে নীতিপ্রণয়ন ও বাস্তবায়ন—উভয়ই যথাযথ সুবিবেচনা পায় না। একইভাবে, বাস্তবায়নকারীর দ্বারা সৃষ্ট অনিয়মের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা আপিল শুনানির দায়িত্বও যদি তার কাছেই থাকে, তবে সুবিচার নিশ্চিত হয় না।

রাজস্ব আহরণ কার্যক্রম ও পদ্ধতি-প্রক্রিয়াকে আইনসংগত স্বচ্ছতার আলোকে গতিশীল করার স্বার্থে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আইন ও প্রক্রিয়ার যৌক্তিকতা যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করা উচিত। বিশেষ করে, কর আহরণ প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান আইনি জটিলতাগুলো যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে স্পষ্ট করা না গেলে সমস্যা থেকেই যাবে।

অন্তত এ অবস্থায় রেখে ব্যাপক কর আদায়ের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্জন করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে আইনের আর্থ-প্রশাসনিক প্রয়োগে যদি কোনো অসম্পূর্ণতা বা ফাঁকফোকর থেকে থাকে, তা সংশোধন না করা হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআর কর্তৃপক্ষের জন্য কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে—এটাই স্বাভাবিক।

লেখক : সাবেক সচিব, এনবিআরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান

বাংলার মাটি ও মানুষের নেতা শেরে বাংলা

শিক্ষায় বরাদ্দ : উচ্চ মুনাফার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ

নতুন সংসদে নতুন হাওয়া

গণভোট বাতিলের পরিণতি

আমেরিকার সমাজে বন্দুক সহিংসতা

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ : ধ্বংসস্তূপে মানবতার আর্তনাদ

সংসদে মধুরালাপ রাজপথে কিরিচের কোপ

মার্কিন বাহিনীতে ভর্তির বয়স কেন ৪২ করা হচ্ছে

সফল নেতৃত্বের যোগ্যতা ও বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

ওয়াজেদ আলী খান পন্নী : জাতীয় মুক্তির সিপাহসালার